শ্রীময়ীর টিআরপি তলানীতে, সিরিয়াল বাঁচাতে মাঠে নামছেন জুন আন্টি

শ্রীময়ীকে (Sreemoyee) অপহরণ করানোর ‌ ষড়যন্ত্র করার অপরাধে দ্বিতীয়বার জেলে পাঠানো হয়েছিল জুনকে (Jun Aunty)। কাজেই ধারাবাহিকে বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই জুনআন্টিকে আর দেখতে পাচ্ছিলেন না দর্শক। এদিকে জুনবিহীন ‘শ্রীময়ী’র যে শ্রী থাকে না, তা তো এরআগেও প্রমাণ হয়েছে। এর আগে যখন জুনআন্টিকে জেলে পাঠানো হয়েছিল তখনও ধারাবাহিক দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছিল একঘেয়ে। কাজেই সাততাড়াতাড়ি ধারাবাহিকের পটপরিবর্তন করে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল জুনআন্টিকে।

এবারেও সেই একই ক্রাইসিসের সম্মুখীন হয়েছে ধারাবাহিক। যদিও শ্রীময়ী এবং রোহিতের বিয়ের এই বিশেষ পর্যায়টি দর্শকের মনে বেশ ছাপ ফেলবে বলেই মনে করেছিলেন ধারাবাহিকের নির্মাতারা। শ্রীহিতের বিয়ে নিয়ে দর্শকমহলেও কিছু কম উত্তেজনা ছিল না। ধারাবাহিকের নতুন প্লটকে সমর্থন করেছিলেন অনেকে। দিয়েছিলেন পাশে থাকার আশ্বাস। তবে টিআরপি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে সব সমীকরণ উলটে গিয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে দেখা যাচ্ছে শ্রীময়ী ধারাবাহিকের টিআরপি ক্রমশ কমছে। শ্রীময়ী-রোহিত বিবাহপর্বে যদিও বা টিআরপি কিছুটা উঠেছিল, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে শ্রীময়ীর নতুন সংসার নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাচ্ছেন না দর্শক। চলতি সপ্তাহের রিপোর্ট কার্ড বলছে, ৬.৭ পয়েন্ট পেয়ে নবম স্থানে নেমে এসেছে শ্রীময়ী! যা বিগত দুই বছরে কখনো হয়নি। ধারাবাহিকের এই পর্যায়ে নতুন টুইস্ট আনতে তাই আবার ফিরেছে জুন। ২রা সেপ্টেম্বরেই জেলের সাজা কাটিয়ে ফের আনন্দ নিকেতনে ফিরে এসেছে জুন।

জুনআন্টি মানেই দর্শকের মনের টানটান উত্তেজনা। আর এটাই বরাবর শ্রীময়ী ধারাবাহিকের প্রধান ইউএসপি হিসেবে কাজ করেছে। এবারেও তার অন্যথা হবে না বলেই মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। এতদিন অনিন্দ্য এবং শ্রীময়ীর সম্পর্ক ও সংসারে ভাঙন ধরানোর কাজ করেছে জুন। দর্শকের অনুমান, শ্রীময়ী এবং রোহিতের সংসারেও এবার ভাঙন ধরাবে জুন। তাই তো টেলিভিশনের পর্দার সবথেকে দাপুটে খলনায়িকাকে আবারও তার পুরনো ফর্মে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

জুন ফিরে আসাতে দর্শকও বেজায় উৎসাহিত। কারণ জুন ছাড়া শ্রীময়ী যেন প্রকৃত অর্থেই মনিহারা ফনী! তাই তো জুনআন্টিকে স্বাগত জানিয়ে দর্শক মন্তব্য করছেন, “একটু জিরিয়ে নিয়ে ময়দানে ফিরে এসেছে আসল খিলাড়ি, জুন আন্টি”। আর জুনও এসে এসেই নিজের কাজ শুরু করে দিয়েছে। আপাতত অনিন্দ্যর জীবনে নিজের হৃত অবস্থান পুনরায় ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে জুন।

শ্রীময়ী-রোহিত বিবাহের পরেও কেন টিআরপি নামছে? আসলে এই বিয়ে নিয়ে দর্শকমহলে প্রথম থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পঞ্চাশোর্ধ দুই পাত্র-পাত্রীর নতুন জীবনের যাত্রা নিয়ে বহু মিম তৈরি হয় সমাজমাধ্যমে। এই যেমন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল একটি মিমে বলা হয়, কোনও মেয়ে যদি দাদা বলে ডাকে তাহলে ধরে নিতে হবে যে প্রেমের সম্ভাবনা আছে! উদাহরণ হিসেবে পরিণীতার ‘বাবাইদা’, শ্রীময়ীর ‘রোহিতদা’, জুনের ‘অনিন্দ্যদা’ উল্লেখ করা হয়। আবার শ্রীময়ীপুত্র ডিঙ্কাকে কটাক্ষ করে বলা হয়, “পৃথিবীর সব থেকে ভাগ্যবান ছেলে ডিঙ্কা। যে মায়ের বিয়ে খাচ্ছে!”