বিয়ের আগে এই শর্ত দিয়েছিলেন অমিতাভ, অবশেষে মুখ খুললেন জয়া

জয়াকে বিয়ের আগে কোন শর্ত দিয়েছিলেন অমিতাভ?

অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan) এবং জয়া বচ্চন (Jaya Bachchan), বলিউডের (Bollywood) অন্যতম সেরা তারকা জুটি হলেন বচ্চন পরিবারের এই দুই সদস্য। বলিউডে সাধারণত তারকাদের সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী হয়। কিন্তু সেই জায়গায় দীর্ঘ ৫ দশক একত্রে সংসার করে তারা নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে একে অপরের পাশে থেকেছেন সব সময়। অমিতাভের সঙ্গে প্রেম-বিয়ে নিয়ে সর্বদাই অকপটে মুখ খুলেছেন জয়া। এবার তিনি ফাঁস করলেন তাদের সম্পর্কের একটি পুরনো স্মৃতি।

বলিউডের ভেতর-বাইরের বহু মহিলার মন ভেঙে অমিতাভ বিয়ে করেছিলেন জয়া বচ্চনকে। বিয়ের আগে তাদের প্রেম ছিল ইন্ডাস্ট্রির ওপেন সিক্রেট। জয়ার সঙ্গে একসঙ্গে অভিনয় করেই কার্যত সফলতার শিখরে পৌঁছেছিলেন অমিতাভ। তবে বিয়ের আগে জয়াকে তিনি একটি গুরুতর শর্ত দেন। অমিতাভের শর্ত মেনেই জয়া সেই বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন।

অমিতাভ বিয়ের আগে জয়াকে বলেছিলেন বিয়ের পর প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কাজ করা যাবে না। তবে জয়াকে কিন্তু একেবারে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথাও তিনি বলেননি। কেবল ৯-৫টার কাজ করা যাবে না, এই শর্তে বেঁধে দিয়েছিলেন তাকে। এই কারণেই দেখা যায় বিয়ের পর জয়া ক্রমশ অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তখন অমিতাভের সংসারটাই হয়ে উঠেছিল তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান।

বিয়ের দিনক্ষণ নিয়েও মুখ খুলেছিলেন অমিতাভ-ঘরণী। তিনি জানান প্রথমে তারা ঠিক করেছিলেন যে অক্টোবর মাসে বিয়ে করবেন। কারণ ওই সময়টাতে জয়ার কাজের চাপ কম ছিল। কিন্তু অমিতাভ তখনই তাকে জানিয়ে দেন বিয়ের পরেও যে জয়া রোজ রোজ কাজ করবেন সেটা তার পছন্দ নয়। বিয়ের পর সিনেমা করা প্রসঙ্গে অমিতাভ জয়াকে পরামর্শ দিয়েছিলেন কেবল ভাল পরিচালক এবং প্রযোজকদের সঙ্গেই যেন তিনি কাজ করেন।

১৯৭৩ সালের ৩রা জুন, বলিউডে বেজে উঠেছিল অমিতাভ-জয়ার বিয়ের সানাই। অমিতাভের সমস্ত শর্ত মেনে নিয়ে তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন জয়া। ২০২৩ সালে তাদের সুখী দাম্পত্যের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। বিয়ের পর অমিতাভের কেরিয়ার গ্রাফ হু হু করে উপরের দিকে উঠেছিল। কিন্তু জয়া ক্রমশ অভিনয় ছেড়ে দিতে শুরু করেন। এই প্রসঙ্গে কিন্তু স্ত্রীর প্রতি বেশ কৃতজ্ঞ রয়েছেন অমিতাভ।

২০১৪ সালে একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় অমিতাভ বলেছিলেন, “একটা বিষয়ে আমি জয়াকে খুব সম্মান করি। বিয়ের পর জয়া সিনেমার চেয়েও পরিবারের প্রতি বেশি মনোনিবেশ করেছিল। এমন নয় যে এই বিষয়ে ওর ওপর কোনও বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু স্বেচ্ছায় ও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।”