বার্ড ফ্লু সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মাথায় রাখুন ৪টি টিপস

কোরোনা আতঙ্কে একই নাজেহাল বিশ্ববাসী। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে বার্ড ফ্লু (Bird Flue) এর চোখ রাঙানি। এই ভাইরাসটির বিষয় কমবেশি সকলেরই জানা।মূলত পাখির থেকেই ছড়ায় এই মারণ ভাইরাস।কাতারে কাতারে পাখিরাও এই ভাইরাসের কোপে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। খুব দ্রুত ছড়াচ্ছে এই সংক্রমন।একের পর এক পাখি আক্রান্ত হচ্ছে।শ্বাসকষ্ট এর জেরে তারপর মৃত্যু হচ্ছে তাদের।

ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক রাজ্যে এই ভাইরাসের শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মুরগী, পায়রা ও পরিযায়ী পাখিরা।বিষয়টি কেন্দ্রের নজর এড়ায়নি,জারি করা হয়েছে সতর্কতা। বাংলায় এখনও সংক্রমণ ধরা না পড়লেও কিছুটা হলেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই মুরগির মাংস এবং ডিম বিক্রির হার কমেছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বার্ড ফ্লু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রয়োজনীয় সাবধনতা অবলম্বন করলে সংক্রমণের আশঙ্কা এড়ানো যাবে।

বার্ড ফ্লু বা অ্যাভিয়েঞ্জা ইনফ্লুয়েঞ্জা কি?

বার্ড ফ্লু এক ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসঘটিত রোগ। এর ফলে মূলত মুরগি, পাখিরা সংক্রমিত হয়। ভারতে প্রথম ২০০৪ সালে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছিল। তারপর থেকে দেশে ২৪ বার সেই সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এবার ভারতে যা এইচ৫এন১ প্রজাতির ফ্লু ভাইরাস ছড়াচ্ছে। তবে প্রজাতির উপর বার্ড ফ্লু’র প্রকোপ নির্ভর করে।

মানুষ কী বার্ড-ফ্লুতে সংক্রমিত হতে পারে?

শুধু পাখি নয়, মানুষেরও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করলে তাতে থাকতে পারে মৃত্যুর সম্ভাবনাও। মূলত যদি এই ভাইরাস কোনওভাবে পাখি দেহ থেকে মানব দেহে প্রবেশ করে সেক্ষেত্রে হিউম্যান ট্রান্সমিশন এর সম্ভাবনা থাকেই। সেটি হলে ব্যাক্তি মারাত্বক অসুস্থ্য হতে পারেন। হতে পারে মৃত্যুও।

মূলত যাঁরা মুরগির খামারের ব্যবসায় যুক্ত বা যাঁরা সংক্রমিত ও মৃত পাখির সরাসরি সংস্পর্শে আসেন, তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিধি মেনে চললে সংক্রমণ এড়ানো যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মতে, সাধারণত একজন মানুষের শরীর থেকে অপর একজনের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে না। সেই সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ভারতে এখনও পর্যন্ত কোনও মানুষের সংক্রমণ হওয়ার খবর মেলেনি।

মানুষের শরীরে বার্ড-ফ্লুর লক্ষণ?

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণ ফ্লু’র মতো জ্বর, কাশি, পেশিতে ব্যথা, গলাব্যথা, খাবারে অরুচির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে গুরুতর সংক্রমণ হলে শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত হতে পারে। তা থেকে একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে কাশি। অ্যাভিয়ান ফ্লু বা বার্ড ফ্লু হলে জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও বমি ভাব এবং খাবারে অনিচ্ছার মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর পর ক্রমশ সমস্যা কমতে শুরু করে। কিন্তু অনেক সময় ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে মারাত্মক নিউমোনিয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ভয়ানক কাশি ও শ্বাসকষ্ট এবং এআরডিএস অর্থাৎ অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেসের ঝুঁকি থাকে। এর থেকে সেপসিস ও মাল্টিঅরগ্যান ফেলিওরের সম্ভাবনাও থাকে।

বার্ড-ফ্লু প্রতিরোধের উপায়

যে কোনও ফ্লুর মতোই বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একমাত্র উপায়। খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভাল করে হাত মুখ ধোন। মাংস বা ডিম খুব ভাল করে সেদ্ধ করে খান। কাঁচা মাংস খুব ভাল করে ধুয়ে নিয়ে হাত সাবান দিয়ে ধোয়া দরকার। মাংস ধোয়ার সময় কাছাকাছি যেন কোনও খাবার না থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মুরগির মাংস বা ডিম খাওয়া কতটা নিরাপদ?

বার্ড ফ্লু’র আতঙ্কে ডিম বা মাংস খাওয়া বন্ধের কোনও প্রয়োজন নেই।  নেই কোনও বিধিনিষেধ। শুধুমাত্র রান্নার আগে আলাদা জায়গায় ভালোভাবে কাঁচা মাংস এবং ডিম ধুয়ে নিতে হবে। তারপর তা ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, রান্না করা খাবার থেকে বার্ড ফ্লু ছড়ানোর কোনও প্রমাণ নেই। কারণ তাপের ফলে সেই ভাইরাস মরে যায়। তবে আধসেদ্ধ বা হাফ বয়েল ডিম কোনওমতেই খাবেন না।

WHO এর সতর্কবার্তা

WHO জানিয়েছে ঠিকভাবে রান্না করা গেলে মুরগির মাংস এবং ডিম খাওয়া যায়।রান্নার সময় যেহেতু তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি বা তার বেশী হয়, সেই তাপমাত্রায় ভাইরাস মরে যায়।দ্বিতীয়ত, হ্ন এর পরামর্শ অনুযায়ী, মাংস রান্না করার আগে ধুয়ে নিতে হবে।তৃতীয়ত, কাটা মুরগির এখন না কেনাই ভালো।চতুর্থত, পোল্ট্রির পাখি হাতে ধরার পর গরম জলে অন্তত ২০ মিনিট হাত ধুয়ে তারপর রান্নার সামগ্রী ধরতে হবে।