গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিমি, ভারতীয় রেলে আসছে নতুন এক্সপ্রেস

২০১৮ সাল থেকে নতুন রূপে ছোটা শুরু করেছিল তেজস এক্সপ্রেস (Tejas Express)। এবার এই তেজসের ইঞ্জিনের প্রযুক্তি বদলে নতুন ইঞ্জিন বানালো চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস(Chittaranjan Locomotive Works) যার প্রথম ইউনিট তৈরি হয়েছে ‘পুশ-পুল (Push-Pull) টেকনোলজিতে।

ইতিমধ্যেই প্রথম ইউনিট প্রকাশ্যে এসেছে। ২ অক্টোবর এই ইঞ্জিনের উদ্বোধন হয়েছে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভের জেনারেল ম্যানেজার প্রবীণ কুমার মিশ্র ও সংস্থার অন্যান্য শীর্ষ কর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে। তিনি জানান, এই ইঞ্জিন তৈরি হয়েছে অ্যারোডায়ানামিক(Aerodynamic) প্রযুক্তিতে।

এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এই ইঞ্জিন একদিকে যেমন প্রচণ্ড গতিতে ( ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত) ছুটতে পারবে তেমনই প্রচণ্ড গতিতে থাকা সত্বেও এর কলকব্জার কোনরকম ত্রুটি হবেনা। অ্যারোডায়ানামিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ইঞ্জিন দু’ভাবে কাজ করবে। প্রচণ্ড গতি তুলতে পারবে এই ইঞ্জিন এবং দ্রুত গতিতে ছোটার সময় এর কলকব্জাতে কোনওরকম ত্রুটি হবে না।

তেজস এক্সপ্রেসে পুশ-পুল (Push-Pull) পদ্ধতি কী?

এই বিশেষ পদ্ধতিতে ট্রেনের সামনে ও পেছনে দুটি ইঞ্জিন থাকে। সামনের ইঞ্জিনের নাম মাস্টার-লোকো (Master Loco) এবং পেছনের ইঞ্জিনের নাম স্লেভ-লোকো (Slave Loco)। এর ফলে একদিকে যেমন ট্রেনের গতি অনেক বেশী হয় তেমনই সহজে গতি নিয়ন্ত্রন করা যায়।এই দুই ইঞ্জিনের মধ্যেকার দূরত্ব থাকে ৬০০ মিটার যেখানে থাকে ট্রেনের কামরা। ইঞ্জিন দুটি ট্রেনের সাথে যুক্ত করা থাকবে ইলেকট্রিক কাপলারের মাধ্যমে।

তেজস এক্সপ্রেসের মাস্টার-লোকো হবে অ্যারোডায়ানামিক শেপের যার ফলে ১২ হাজার হর্স পাওয়ার গতি সৃষ্টি হবে এবং খুব জোরে ছুটবে এই ট্রেন।এই পদ্ধতির আরও দুটি ইতিবাচক দিকের সম্পর্কে জানিয়েছেন রেল কতৃপক্ষ। তাদের কথায় এর ফলে একদিকে যেমন ইঞ্জিনের আওয়াজ কমবে তেমনই পরিবেশ দূষনের মাত্রাও কমবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তেজস প্রথম ট্রেন নয় যেখানে এই বিশেষ পুশ- পুল পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে।এর আগে রাজধানী এক্সপ্রেসেও এই পদ্ধতির ট্রায়াল হয়েছে।

যাত্রীরা নতুন কী কী পরিষেবা পাবেন?

এই নতুন তেজস এক্সপ্রেসের জার্মান কোচগুলো তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে।প্রতিটি কোচ তৈরির জন্য খরচ হয়েছে ৩.২৫ কোটি টাকা। এই বিশেষ ট্রেনে থাকবে ২৩ টি অতিরিক্ত কোচ। ট্রেনের সিট হবে আরামদায়ক লেদারের। ট্রেনে থাকবে মোটর চালিত জানলা। বিমানের ধাঁচে তৈরি এলসিডি স্ত্রিন যাতে খবর থেকে সিনেমা বা গান শোনা যাবে।

আরও পড়ুন : রাজ্যে চালু হল ৫টি স্পেশাল ট্রেন, দেখে নিন ট্রেনের তালিকা

যাত্রীদের সুবিধার জন্য থাকবে আলাদা হেডফোন। থাকবে এলইডি স্ক্রিন। ট্রেনে ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য থাকবে ওয়াইফাই। যাত্রীদের জন্য কফি মেশিন থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা। ট্রেনের দরজাগুলো হবে স্বয়ংসক্রিয়