চীনকে উচিত শিক্ষা দিতে ভারতের কাছে রয়েছে ৫টি বিকল্প

লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর চীনের আগ্ৰাসী আক্রমণ ভয়াবহ যুদ্ধের সম্ভবনা তৈরি করেছে। এখনও পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা সঠিক কত তা পরিষ্কার নয়। তবে সীমান্ত এলাকায় যে ভয়াবহ যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

যদি পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে ভারতের চেয়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে অনেকবেশি বলীয়ান চীনকে কেমন ভাবে থামানো, শিক্ষা দেওয়া সম্ভব তা নিয়ে নানা ধরনের রণকৌশলের কথা উঠে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ৬২ সালের যুদ্ধে যে ভারতকে চীন হারিয়েছিল আজকের ভারত তার চেয়ে অনেকবেশি আলাদা। তবে চীনের সঙ্গে মোকাবিলা সহজ হবে না।

ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে যেসব রণকৌশলের কথাগুলি আলোচনায় উঠে আসছে সেগুলো হলো

১. চীনের বিরুদ্ধে শক্ত যুদ্ধ রণনীতি প্রস্তুত করুক ভারত। কারণ চীন এখনও ভারতকে ৬২ সালের সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশ ভাবছে। চীনকে এই কল্পনা থেকে বার করে আনা উচিত।

২. lAC তে চীন যে ভাষায় কথা বলছে সেই একই ভাষায় চীনের সাথে কথা বলুক ভারত।

৩. বিশ্বের যে সব দেশ চীনের বিরুদ্ধে, তাদের সঙ্গে ভারত দ্রুত কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলুক। ইতিমধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগর ও তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে আমেরিকার সাথে চীনের বিরোধ চরমে উঠেছে। জাপানের সঙ্গে চীনের লাগাতার বিরোধ বেড়ে চলেছে। জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘর মুসলিমদের উপর চীন সরকার অত্যাচার নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোর বিরোধিতা শুরু করছে। এইসব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতে জোরদার কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলুক।

৪. ভারতীয় নৌবাহিনী কৌশলে সমুদ্র এলাকায় চীনকে ঘিরে ফেলুক। যাতে চীন বাধ্য হয় আলোচনার টেবিলে বসতে।

৫. চীনের সাথে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হোক ভারতে। চীনের প্রত্যেকটি আক্রমণের পাল্টা জবাব দিক ভারত।
তবে চীনের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন হবে শক্তিশালী ভারতীয় অর্থনীতির। আর সেই অর্থনীতি গড়ে তুলতে দরকার আত্মনির্ভরশীল ভারতের।