এই নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কতটা গুরুত্বপূর্ন, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর তার এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে বাংলার বিজেপির আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্য টুইট করে বলেছেন “মুখ্যমন্ত্রীর এই আসন পরিবর্তনের কারণ উনি বুঝতে পেরেছেন এবারের নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত। এই সবে শুরু। মা-মাটি-মানুষের পরাজয় দেখবে পিসি। আর বাংলা দেখবে আসল পরিবর্তন।’

বিজেপির শত কটাক্ষ সত্ত্বেও একটি কথা মনে রাখতে হবে, এই নন্দীগ্রাম থেকেই ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান। কিন্তু এই উত্থানে বড় কৃতিত্ব ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন সঙ্গী এবং বর্তমানে চরম প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari) তথা অধিকারী পরিবার। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় ‘লড়াই কে করেছে, কারা পাশে থেকেছে মানুষ সব জানে। অনেকে নন্দীগ্রামের ঘটনা টেনে নিজেদের আখের গোছাতে চাইছে।’

Mamata Banerjee vs Subhendu Adhikary

প্রথমে যদিও ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম এই দুই আসন থেকেই লড়াই করার কথা ছিল মমতার। পরে ভবানীপুর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাতে ছেড়ে নন্দীগ্রাম থেকেই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে বাংলার মেয়ে একাই এক আসন থেকে লড়াই করে জেতার ক্ষমতা রাখে।

প্রথমত মমতা বরাবরই বলেন, তিনিই ২৯৪ আসনের প্রার্থী, তাঁকেই দেখেই যেন মানুষ ভোট দেয়। তাই মমতার কাছে, যাহা ভবানীপুর, তাহাই নন্দীগ্রাম। যে কোনও জায়গা থেকে দাঁড়িয়েই জিততে পারেন তিনি, এমনটা প্রমাণ করতেই নন্দীগ্রামকে বেছে নিলেন মমতা। তাছাড়া রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে দক্ষিণ কলকাতার আসন ছেড়ে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়ালে, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম-সহ একাধিক জেলায় বাড়তি অক্সিজেন পাবে তৃণমূল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের আসন ছাড়ার পেছনে বেশ কিছু রাজনৈতিক পরিসংখ্যানকে দাড় করাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত ২০১৬ সালের বিধানসভাতে ২৯ শতাংশ ভোট হারিয়েছিলেন তিনি এবং অন্যদিকে ২০১৯ সালে তিনি মাত্র ৩৫০০ ভোটে জিতেছিলেন। ২০১৬ সালের বিধানসভার পর বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভবানীপুরে তৃণমূলের ভোট প্রাপ্তির হিসাব নিকাশ জোড়াফুল শিবিরের জন্য মোটেই আশাব্যাঞ্জক নয়। তাই মান বাঁচাতে নন্দীগ্রামেও লড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা, এ কথাও বলছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

West Bengal Assembly Election 2021 Official Guidelines by Election Comission of India

অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব বহুবার তৃণমূল সুপ্রিমোকে কটাক্ষ করেছেন যে, যেই নন্দীগ্রামের মাটি থেকে তার উত্থান সেই মাটি ভুলে শহুরে জীবনের প্রতিই বেশী নজর দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারীও। অনেকে মনে করছেন নন্দীগ্রামে দাড়িয়ে সেই কথারই উত্তর দিয়েছেন তিনি।

কিছু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কমে গিয়েছিল খাস ভবানীপুরে (‌মুখ্যমন্ত্রীর গড়)। এবার ভবানীপুরে ভোট কমতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তাই কী এই সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী?‌ উঠছে প্রশ্ন। তবে এটা বলা যেতেই পারে, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়ায় মেদিনীপুরের ভোটে এবার “খেলা হবে”। ‌