নিজে নিরক্ষর হয়েও এই রিকশাওয়ালা গ্রামের বাচ্চাদের জন্য বানিয়েছেন ৯টি স্কুল

নাম আহমেদ আলী। পেশায় রিকশাচালক। সারা জীবন দারিদ্র্য আর সংসার চালানোর তাগিদে ছোটো বেলা থেকেই বই খাতা নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে নি।এককথায় নিরক্ষর এক মানুষ। কিন্তু এই নিরক্ষর মানুষ তার কর্মের জোরে খবরের শিরোনামে।যদিও প্রচারের আলোয় না থেকে তিনি নিজের মহৎ কাজ করে যেতে চান। কি সেই মহৎ কাজ? এই পুঁথিগত শিক্ষায় অজ্ঞ মানুষটি তার অঞ্চলে স্থাপন করেছেন নয় নয়টি বিদ্যালয়। শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছেন? নাকি খবরটি মনে হচ্ছে ভুয়ো? একশ শতাংশ সত্যি এই খবর। আমরা যেখানে সারা জীবন চেষ্টা করেও একটি বিদ্যালয় স্থাপন করতে পারি না, বা করতে চেষ্টা করি না।সেখানে এই মহান সাধারণ মানুষটি স্থাপন করেছেন নয়টি বিদ্যালয় সত্যিই অভাবনীয় এই মানুষটির প্রচেষ্টা। বিগত ৪০বছর ধরে এই মানুষটি স্থাপন করেছেন তিনটি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়,পাঁচটি ইংরেজি মাধ্যমের উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই মহান শিক্ষা প্রচারকের পুরো কর্মকান্ডটি ঘটেছে আসামের কুমারগঞ্জ জেলার পথেরকান্দি অঞ্চলের মাধুরবান্দ গ্রাম ও তার পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে।

Riksaw Puller
Source : Facebook

আরো পড়ুন : ১৫০ টাকার মজুরিতে খেটে, আজ WBCS A গ্রেড অফিসার

আলীর কথায়,”আমি ছোটবেলায় পড়াশোনা করতে পারি নি, আমরা অনেক গরিব ছিলাম, তাই বাবার বিদ্যালয়ে পড়ানোর মতো সামর্থ্য ছিল না।তাই পেট চালানোর জন্য আমাকে রিকশা চালাতে হয়েছে।আর তাই চিরদিন নিরক্ষর থেকে গেলাম।কিন্তু আমি চাই না আমার মতো আর কেউই যেন তার অঞ্চলে নিরক্ষর থাকে।তারা যেন ন্যুনতম নাম লেখার শিক্ষাটাও পেতে পারে।তাই তিনি চান সবাই যেন তাদের ছেলেমেয়েকে পড়ানোর কাজে উৎসাহিত করেন।”তার কথায়, “১৯৭৮সালে যখন আমি প্রথম বাচ্চাদের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করব বলে ঠিক করলাম তখন আমার কাছে খুব একটা টাকা ছিল না।তাই পারিবারিক জমি যা ছিল তা বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেছিলাম।আর তার কথা শুনে গ্রামের মানুষও সাহায্য করেছিল।তারপর বাকি বিদ্যালয় স্থাপনের সময় সরকার তাকে সাহায্য করেছে জমি দিয়ে ।কিন্তু এত কিছু করার পরও তার খুবই ইচ্ছা তাদের অঞ্চলে একটি কলেজ স্থাপন করার।আমার বয়স এখন বাড়ছে ,এখন আর আগের মতো ঘুরতে পারি না তাই কবরে মাটি নেওয়ার আগেই তার ইচ্ছা একটা কলেজ সে যেন বানিয়ে যেতে পারে তার এই অঞ্চলে।” আলীর পরিবার এককথায় ভরা পরিবার।তার দুই স্ত্রী ও সাত ছেলেমেয়ে।তার ছেলে মেয়েরা তার স্থাপিত বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে দেখে তার আনন্দে চোখে জল আসে।তার তৈরি স্কুলে পড়েই অনেকে আজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। পেয়েছেন সরকারি চাকরি।

আরো পড়ুন : জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ ও জোড়া আঙুল, পান গুমটি দোকানদারের ছেলে আজ IIT-তে সফল

Riksaw Puller
ছবি প্রতিকী

আলীর মতে”পড়াশোনা করার পর সবাই যে চাকরি পাবে তা নয়, তবে সবাই যেন নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকতে পারে ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের কাজ করতে পারে।তাই তিনি তার রিকশা চালানোর কাজকে ছোট ভাবেন না।নয়টি বিদ্যালয়ের আটটিতে আলী কিন্তু নিজের নাম একবারের জন্যও দেয় নি ।কারণ তিনি নামের চেয়ে কাজকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।তবে গ্রামের লোক জেদ করায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম নিজের নামে রেখেছেন।

আরো পড়ুন : ১০ বছর বয়সে বিয়ে হওয়া মেয়ে, আজ শিক্ষিকা, জেদ আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে সবই সম্ভব

তার এই সারা জীবনমহৎ কাজের জন্য আজ তার গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে অনেক বাবা মা তাদের ছেলেমেয়েকে পড়াতে পারছেন বিদ্যালয়ে।এই প্রাপ্তি আলীর কাছে সবচেয়ে বেশি সুখের।তার এই সারা জীবন শিক্ষা প্রচারক কাজের জন্য তার অঞ্চলের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তার এই মহৎ কর্মকান্ডে।তার নামাঙ্কিত”আহমেদ আলী হাই স্কুলে”র উন্নতির জন্য ১১লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন।কৃষ্ণেন্দু পাল তাকে এক বিরল ব্যক্তি বলে বর্ণনা করেছেন।এইরকম মহান মানুষদের মহান কর্মকান্ড অসংখ্য মানুষকে পাল্টাতে পারবে ,তা বলার অবকাশ রাখে না।

আমাদের পোস্ট নিয়মিত WhatsApp এ পেতে এখানে ক্লিক করুন