আর হবেনা ব্যথা, অভিনব ইঞ্জেকশন আবিষ্কার করলেন খড়গপুরের এক বাঙালি বিজ্ঞানী

ইঞ্জেকশন, এমন একটা নাম যা শুনলেই রীতিমত ভয় পেয়ে যান ৮ থেকে ৮০ সবাই। ইঞ্জেকশন দিতে ব্যাথা লাগবে, সেই ভেবেই বাচ্চারা কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। কিন্তু এবার খড়গপুর আইআইটি এর তৈরি করা  ‘মাইক্রো নিডল’ এর মাধ্যমে ইনজেকশন দিতে আর কোনো ব্যথাই লাগবে না।

করোনা ভাইরাসের টিকা হোক কিংবা ইনসুলিনের মতন কোনও বিশেষ ডোজের ক্ষেত্রেও এটি ব্যাবহার করা যাবে। এই অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কারের পেছনে যে ব্যাক্তির অবদান আছে তিনি হলেন খড়গপুর আইআইটির ইলেকট্রনিক ও ইলেট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষক অধ্যাপক তরুণকান্তি ভট্টাচার্য।

এই ইঞ্জেকশনের বিশেষত্ব কী?

এই সূচ সাধারণ ভাবে ইনজেকশন দিতে যে সূচ ব্যাবহার করা হয়, তার থেকে এই নিডল অনেকটা সরু হলেও এর শরীরে ওষুধ পৌঁছিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা সাধারণ সূচের সমান। অনেকেই ভাবতে পারেন যে যেহেতু এই সূচ সরু সেহেতু এটি পলকা হতে পারে, কিন্তু তা মোটেও নয় এই সূচ ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এটি মূলত এক ধরনের প্যাচ যা শরীরের ত্বকের ওপর লাগিয়ে দিলেই শরীরে ড্রাগ পৌঁছে যাবে। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই পদ্ধতির নাম ‘ট্রান্স ডার্মাল ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম’।

আরও পড়ুন : কৃত্রিম কিডনি বানিয়ে বিশ্বকে চমকে দিলেন বাঙালি বিজ্ঞানী

এই বিশেষ প্রকারে তৈরি প্যাচে প্রায় ১০০ টা নিডল আছে যা চুলের থেকেও সরু। এতটা সরু হওয়ার ফলে এটি মানব দেহের সেন্সরি নার্ভকে ছুঁতে পারেনা, ব্যথাও অনুভূত হয় না। এবং অন্যদিকে ড্রাগ সঠিক ভাবে শরীরে পৌঁছে যায়।

কতদূর এগিয়েছে আবিষ্কার?

সম্প্রতি ” নেচার” জার্নালে এই নতুন গবেষণার বিষয় প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রাণীদেহে এই নিডল এর প্রয়োগে সফলতা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এবার মানব শরীরে ধাপে ধাপে শুরু হবে ট্রায়াল। সফলতা পেলে খুব শীঘ্রই বাজারে আসবে এই নিডল।

আরও পড়ুন : কলকাতার বুকেই আবিষ্কার হল ক্যান্সারের ওষুধ সৌজন্যে ডঃ অর্ঘ্য অধিকারী

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মাইক্রো নিডল অনেক সময় শরীরে ইনসুলিন নিতে ডায়াবেটিক রোগীরা ব্যবহার করে থাকেন। এই নিডল ত্বকের প্রতিরোধ শক্তি সহ্য করতে সক্ষম। এরসঙ্গে আয়নিক পলিমার মেটাল কম্পোজিট মেমব্রেন ভিত্তিক মাইক্রোপাম্প, যা একটি নিয়ন্ত্রিত ও যথাযথভাবে ড্রাগ মলিকিউলের প্রবাহের হার বাড়িয়ে দেয়।