‘হাম’ হলে সেটা কে ‘মায়ের দয়া’ বলা হয় কেন ? 

‘একে তো ফাগুন মাস, দারুণ এ সময়’। প্রেমের জন্য তো বটেই, রোগের জন্যও। জ্বর, সর্দি-কাশি-র মতো ছোটখাটো রোগের সঙ্গে হাম, মানের দয়া। লাল ছোট ছোট ফুসকুড়ির মতো মুখ থেকে শুরু করে ছড়িয়ে পড়ে বাকি শরীরে। এর জীবানুও ছোঁয়াচে।
ভারতীয়দের বিশ্বাস এই রোগ আসলে ভগবানের অভিশাপ। এই রোগকে ‘মাতাজি’ নামেও অভিহিত করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় চিকিৎসা শাস্ত্রও একে দেবীর মান্যতা দিয়েছে। এই রোগের সঙ্গে মিশে আছে বহু কাহিনী, গল্প। এখানে কয়েকটি বাছা হল।

Source

ঈশ্বরের অভিশাপ

ঈশ্বরের সৃষ্টি এই পৃথিবীতে মানুষ পাপ করলে শাস্তি পায়। আর রোগই সেই শাস্তি। এমন একটা বিশ্বাস চালু আছে। এই রোগের সঙ্গে আবার দেবী শীতলার যোগ আছে। শীতলা দেবী দুর্গার অন্য একটি রূপ। পক্স, সোরস, ঘোলস, পাস্টুলেস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসার জন্য পরিচিত। তাই এই রোগ ‘মায়ের দয়া’। অসুস্থ থাকাকালীন দেবী শীতলাকে পুজো দেওয়ার চল আছে।

Source

দেবী শীতলা ক্ষিপ্ত, শান্তও

তাঁর ডানহাতে থাকে ঝাঁটা। বামহাতে কমণ্ডলু বা  জলের পাত্র। ঝাঁটা রোগ তাড়ানোর প্রতীক। আর কমণ্ডলুতে থাকা জল শান্ত। যা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনরুজ্জীবিত করার প্রতীক। আর শীতলা নামেই আছে ঠান্ডার অনুভূতি।

শীতলার সপ্তমীর রীতিনীতি

ওই দিন খাবার তৈরি করা হয় না। তাই বলে উপোষ নয়। আগের দিনের খাবার খাওয়ার চল আছে।
শীতলা মাহাত্ম্য

Source

জাভারাসুর নামে এক অসুর এই রোগের জীবানু শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। দেবী কাত্যায়নী মা শীতলার রূপে এসে জীবানু বিনাশ করে শিশুদের রক্ত শুদ্ধ করেন।
সংস্কৃতে ‘জ্বওয়ার’ মানে ‘জ্বর’ আর ‘শীতল’ মানে ঠাণ্ডা। রোগমুক্তি।

Source

প্রাচীন বিশ্বাস, শীতলা মাতার ক্রোধ থেকে এই রোগ হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে ঈশ্বর সঙ্গে থাকেন। তিনিই সুস্থ করেন। মনে করা হয়, ৬ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দেবী নিজেই দেহ ছেড়ে চলে যাবেন।
চালু গল্প হল, মা শীতলা ও তাঁর সাত বোন নিম গাছে থাকেন। তাঁরাই মহামারী ও রোগ দেন। তাই শীতলা মায়ের মন্দিরের কাছে একটি নিম গাছ থাকে। এই রোগের জীবানু ধ্বংস করে নিম।