আলিঙ্গন, চুম্বন, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ইসলামের পরিপন্থী! নয়া ফতোয়া জারি পাকিস্তানে

চুম্বন, আলিঙ্গন, এমনকি বিবাহিত যুগলের মধ্যের ঘনিষ্ঠ (Intimate Scene) দৃশ্যও এবার থেকে আর দেখানো যাবে না পাকিস্তানি (Pakistan) ছোটপর্দায়। কারণ সেগুলি নাকি ইসলামী শিক্ষা এবং পাকিস্তানী সংস্কৃতির পরিপন্থী! ঠিক এই মর্মে পাকিস্তানি টেলিভিশনের জন্য নতুন ফতোয়া জারি করেছে পাকিস্তানের টেলিভিশনের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ সংগঠন।

‘পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়ার রেগুলেটরী অথরিটি’ তথা পেমরার তরফ থেকে জারি করা এমন অদ্ভুত ফতোয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে পাক টেলিভিশনের দুনিয়াতে। কেন হঠাৎ এমন অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? পেমরার দাবি, “সমাজের এক বড় অংশের দাবি, এই নাটকগুলিতে পাকিস্তানি সমাজের সঠিক ছবি ফুটে উঠছে না। সেই দিক বিচার করে এবার অশোভন পোশাক, শয্যাদৃশ্য, আলিঙ্গন, চুম্বন, সংবেদনশীল বা বিতর্কিত প্লট ও অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর সেগুলি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”!

শুধু তাই নয়, আলিঙ্গন, সাহসী পোশাক, শয্যা দৃশ্য কিংবা বিবাহবহির্ভূত দৃশ্য, এমনকি বিবাহিত যুগলদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিকেও ইসলামী শিক্ষা ও পাকিস্তানের সংস্কৃতির পরিপন্থী হিসেবে দাবি করা হয়েছে! পেমরা পাকিস্তানের সমস্ত টিভি চ্যানেলকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, এবার থেকে নাটকের সম্প্রচারের আগে তা যেন ইন হাউস মনিটরিং কমিটিকে দিয়ে পর্যালোচনা করিয়ে দেওয়া হয়।

পাক টেলিভিশন মিডিয়ার উপর এমন অদ্ভুত ফতোয়া জারি করাতে স্বভাবতই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। পাকিস্তানের মানবাধিকারকর্মী রিমা ওমের কটাক্ষ করে বলেন, “আমাদের সংস্কৃতিতে বিবাহিত যুগলের ঘনিষ্ঠতা নাকি বেমানান! আসলে আমাদের সংস্কৃতি হলো নিয়ন্ত্রণ, নির্যাতন, হিংসা”।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে ইসলামিক রাষ্ট্র ইরানও তাদের টেলিভিশন চ্যানেলে বেশ কিছু দৃশ্য দেখানোর উপর বাধ সেঁধেছে। তারা আবার মহিলাদের বেশ কিছু দৃশ্যের উপর কাঁচি চালিয়েছে। যেমন মেয়েদের পিজ্জা অথবা স্যান্ডউইচ খাওয়া, পুরুষদের খাবার পরিবেশনের মতো বেশ কিছু দৃশ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। ইরানের পর পাকিস্তানও এবার টেলিভিশনের উপর কাঁচি চালাতে তৎপর।