পেট্রোল পাম্পে এই ৪টি পদ্ধতিতে আপনার সাথে প্রতারণা করা হয়

এমনিতেই পেট্রোল এখন ৮৫টাকা আর ডিজেল ৭৫টাকা। এইভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে আগামী এক কিংবা দুই মাসের মধ্যে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম সেঞ্চুরি হাঁকাবে। এই দাম বাড়া যতটা  না আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার উপর নির্ভর করে,তার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভর করে আমাদের দেশীয় নানা করের উপর। পেট্রোল এবং ডিজেলের উপর যেহারে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কর আদায় করে তা একপ্রকার অগণতান্ত্রিক। যেখানে ট্যাক্সের সাথে সাধারণ মানুষের রুজিরোজগার বা সঞ্চয় প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত সেখানে এইভাবে মানুষ তেলের দাম বাড়ার নামে প্রতারিত হবে তা আশা করা যায় না।

বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ৬০,০০০এর মতো পেট্রোল এবং ডিজেল ফিলিং স্টেশন আছে। আর প্রায় প্রতিদিন ৬,৫০,০০,০০০ লিটারের মতো পেট্রোল বা সমপরিমাণ ডিজেল ব্যবহার হয়। কিন্তু আমরা আমাদের যে পরিমান প্রাপ্য পেট্রোল বা ডিজেল পাওয়া দরকার তা কিন্তু পায় না। এইখানেও আমাদের সঙ্গে হয় চরম প্রতারণা। আমাদের ভালোমানুষি বা অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে প্রায় প্রত্যেক পেট্রোল বা ডিজেল ফিলিং স্টেশনে প্রতি নিয়ত ঘটে চলেছে প্রতারণা। আসুন আজ আমরা সবাই এইসব প্রতারণা সম্পর্কে সম্যক জেনে নিয়ে সতর্ক হয় এবংযদি কোথাও হাতেনাতে এইরকম প্রতারণা করতে দেখি তাহলে তাকে উপযুক্ত শিক্ষা দেবার ব্যবস্থা করি।

প্রথমেই আপনি পেট্রোল বা ডিজেল ফিলিং করতে গেলে যারা ভরার কাজে যুক্ত থাকে তারা আপনাকে মিটার শুন্য দেখিয়ে ভরতে শুরু করে। তারপর ধরুন আপনি ৫০০ টাকার তেল ভরাবেন বললেন, তখন সে আপনার কথা না শোনার ভান করে ২০০ টাকায় বন্ধ করে দেবে। আপনি যখন আবার বলবেন আমি তো ৫০০ টাকার ভরবো বলেছি তখন সে আবার সেই পুরানো মিটারে যেখানে আপনাকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে তা না ডিলিট করে তাতে ৩০০ টাকা এন্টার করে আপনার বাইকে বা গাড়িতে তেল ভরে।

Loading...

এতে কিন্তু আপনি আপনার সাধারণ হিসাবে প্রথমে ২০০ টাকা ও পরে ৩০০ টাকার হিসাব করে ৫০০ টাকার তেল আপনি ভরালেন ভাবলেন, কিন্তু আসলে ৩০০ টাকার তেলই ভরা হয়েছে। তাই যদি আপনার তেল দুই বার ভরতে এরকম কোন কর্মচারী উদ্যোগ নেন, তাহলে তাকে অবশ্যই বলুন। মিটারে নতুন করে আবার নতুন রিডিং বসান। তারপরেই তেল দিন।পুরানো রিডিং থাকতে থাকতে ভুলেও এইভাবে তেল নেবেন না।

পেট্রোল বা ডিজেল পাম্প গিয়ে কখনোই ১০০ বা ৫০ এর গুনিতকে যেমন ১০০, ২০০, ২৫০ বা ৩০০ টাকার বা পূর্ণ সংখ্যার পরিমানে যেমন ১ লিটার, ২লিটার, ৫লিটার এরকম  তেল ভরাবেন না। আপনি জেনে রাখুন এইভাবে তেল ভরতে গেলে আপনি কখনোই তেল আপনার দেওয়া পরিমান বা টাকার পরিমাণের সমান পাবেন না। পরিমাণের হ্রাস অবশ্যই হবে।

আসলে যেভাবে এখানে প্রতারণা করা হয় তা হল এইসব ৫০বা ১০০এর গুনিতক হিসাবে বা পূর্ণ সংখ্যার হিসাবে তেল নিতে চাইলে তেল কর্মচারী হয়তো আপনার চোখের সামনে মিটারে সেই সংখ্যার পরিমান লিখল, কিন্তু মিটারে আগে থেকেই কারচুপি করা থাকে যে এইসব মাত্রার তেল নিলে তার চেয়ে যেন কিছুটা পরিমান কম তেল বের হয়। আপনি একা কিনছেন আপনার ক্ষেত্রে হয়তো লিটারে ৫০ মিলিলিটার হবে তাই আপনি তা সহজে ধরতেই পারবেন না বাইক বা গাড়ির তেলের কাঁটার রিডিং দেখে। কিন্তু একটি পেট্রোল পাম্প এইভাবে একদিনে ৫,০০০ বা ১০,০০০ লিটার পেট্রোলের ব্যবসা করলে তাদের কারচুপি করেই লাভের পরিমান ৫০০০ টাকার মতো পৌঁছায়। এটা শুধু একদিনের হিসাব। তাই পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল বা ডিজেল নেওয়ার সময় অবশ্যই ১২০ টাকা বা ২৩৫ টাকা ৩৫৫ টাকা এরকম পরিমানে তেল ভরাবেন যা ৫০ বা ১০০এর গুনিতক নয়। আবার পূর্ন সংখ্যা না নিয়ে দশমিক পরিমানে যেমন ২.৪৫ লিটার বা ৩.৫৬ লিটার বা ১২.৭৮ লিটার এরকম বলবেন এতে অবশ্যই আপনি আপনার টাকার সম মূল্যের তেল পাবেন।

বাইকে বা গাড়িতে তেল ভরতে যাওয়ার সময় ভুলেও তেল ভরার সময় কর্মচারীদের সঙ্গে অহেতুক গল্প জুড়বেন না। আপনার চোখ থাকবে মিটার রিডিং স্ক্রিনে। এছাড়াও বারবার বেশি পরিমাণে পেট্রোল বা ডিজেল ভরার সময় বিশেষ করে চার চাকার ক্ষেত্রে গাড়ির বাইরে নেমে তেল ভরান। এতে আপনি আপনার চোখের সামনে সবকিছু দেখতে পাবেন। অনেক সময় পেট্রোল বা ডিজেল নেওয়ার সময় দেখা যায় কর্মচারী বারবার ফিলিং পাইপের সুইচ নামিয়ে ফেলছে তা আপনার চোখে মনে হতে পারে ভুল করে হয়ে যাচ্ছে আসলে তারা কিন্তু ইচ্ছে করেই এটা করছে। এইভাবে বারবার অফ হয়ে যাওয়ার ফলে আপনি আপনার মূল্যের তেল পাবেন না।

আরও পড়ুন : ভারতীয়দের জ্বালানি তেলের উপর কত কর দিতে হয় জানেন ?

মিটার রিডিং এ এইসব ভুল ধরা পড়ে না। তাই রিডিং যা দেখাল আপনিও তাই দেখলেন। আর মধ্যে যা কারচুপি হওয়ার হয়ে গেল তাই বেশি পরিমাণে ডিজেল বা পেট্রোল নেওয়ার সময় কর্মচারীকে বলবেন সে যেন ট্যাংকে পাইপ ঢোকানোর সময় থেকেই ফিলিং পাইপ অন করে দেয়। কারন যখন রিডিং মিটারে সে টিপে জানিয়ে দিয়েছে তেলের পরিমান তখন বেশি তেল বেরিয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তাই তার পাইপকে হাত দিয়ে না ধরলেও চলবে। সম্পুর্ন ভর্তি বা রিডিং দেখার পরই পাইপ ট্যাঙ্কি থেকে তুলতে দিন। তার আগে নয়।

আরও পড়ুন : পেট্রোল পাম্পে এই সুবিধাগুলি না পেলে থানায় অভিযোগ জানতে পারেন 

এছাড়াও চিপ লাগিয়েও অনেকসময় চুরি করে তেল। মিটারের সাথে ইলেকট্রনিক চিপ লাগিয়ে মিটারের রিডিং ইচ্ছে মতো বাড়িয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু তেল সেই পরিমান ট্যাঙ্কে পড়ে না। তাই যদি আপনার মনে সন্দেহ ডানা মেলে ওড়ে তাহলে দুটি এক লিটারের জলের বোতল নিয়ে আপনি প্রথমবার তেল ভরে নিয়ে আসুন। তারপর ১০ মিনিট পর আপনার বন্ধুকে আর একটি ১ লিটারের সম আকৃতির বোতল দিয়ে পেট্রোল ভরতে পাঠান। তারপর দুজনের তেলের উচ্চতা যাচাই করে দেখুন। যদি দেখেন দুজনের তেলের পরিমান সমান। তাহলে কারচুপির পরিমান কম। আর যদি দেখেন দুজনের তেলের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে তাহলে বুঝবেন যে ভালো রকম কারচুপি হয় সেই ফিলিং স্টেশনে।

আরও পড়ুন : পেট্রোল পাম্প খুলতে চান ? লাইসেন্স পেতে কি কি লাগে জানেন ?

যদি আপনার কোন কিছু বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয় তাহলে অবশ্যই নিকটবর্তী পুলিশ বা থানায় জানান। কারন আপনার কষ্টার্জিত টাকার সম পরিমান তেল পাওয়া আপনার অধিকার। দুর্মূল্যের বাজারে আমরা সাধারণ মানুষ বলেই কী এইভাবেই ঠকতে থাকবো? জাগো গ্রাহক জাগো।

Loading...