করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হবার পরও স্বাদ-গন্ধ ফিরে না এলে মেনে চলুন এই পদ্ধতি

how to recover smell and taste after covid

বিগত প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সারা পৃথিবী জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনা। যারা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই অবশ্য সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পরেও তাদের শরীরে থেকে যাচ্ছে করোনার আফটার ইফেক্ট। করোনার এই আফটার ইফেক্ট একেক জনের শরীরে এক এক রকম ভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। তবে করোনা আক্রান্ত হয়ে সবথেকে যে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, তা হলো জিভের স্বাদ এবং নাকে গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন অনেকেই।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে বিশেষত যাদের শরীরে করোনার হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গ রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৮৬ শতাংশ মানুষের শরীরে এমন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী। মাসের পর মাস কেটে গেলেও স্বাদ এবং গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা ফিরে পাচ্ছেন না, এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কিছু কম নয়। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কার্যত কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। এদিকে স্বাদ-গন্ধহীন পৃথিবীকে তো বড়ই নিরস বলে বোধ হচ্ছে! অনেকের ক্ষেত্রে আবার মানসিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। তাহলে উপায়?

অনেকেই এই ব্যাপারে চিকিৎসক এবং থেরাপিস্টদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। সিরসি হেলথ প্রাইভেট লিমিটেডের (Circee Health Pvt. Ltd.) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এবং ইন্টারনাল মেডিসিন এবং শিশুরোগ-চিকিৎসায় ডবল বোর্ড-সার্টিফাইড ডাঃ জেনিফার প্রভু সম্প্রতি করোনার প্রভাব স্বাদ এবং গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা যারা হারিয়েছেন, তাদের জন্য রামবাণ চিকিৎসার সন্ধান দিলেন। তিনি জানাচ্ছেন এই সমস্যার একমাত্র প্রতিকার হল “গন্ধ অনুশীলন”, অর্থাৎ বাড়িতে খুব সামান্য কিছু অভ্যাস মারফত আপনি আবার নিজের হৃত ক্ষমতা ফিরে পেতে পারবেন।

গন্ধ ফিরিয়ে আনতে কী কী করতে হবে?

বিশেষজ্ঞের মতে, যদি রোগের কারণে ঘ্রাণ এবং স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন, সেক্ষেত্রে ঘ্রাণজনিত স্নায়ুগুলিকে উদ্দীপ্ত করে তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। ঝাঁঝালো গন্ধ বিশিষ্ট মশলা যেমন দারচিনি, লেবু কিংবা ল্যাভেন্ডার এসেন্সিয়াল অয়েলের গন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করে যেতে হবে। দিনে দুইবার, ১৫ সেকেন্ড ধরে অন্ততপক্ষে চারটি সুগন্ধি দ্রব্যের আঘ্রাণ নিতে হবে।

চিকিৎসা পরিভাষায় এই প্রক্রিয়ার নাম রাখা হয়েছে “গন্ধ অনুশীলন” বা “গন্ধ প্রশিক্ষণ”। প্রথম প্রথম যদি সুগন্ধি দ্রব্যের আঘ্রাণ না পান তাহলে তার গন্ধ কেমন ছিল তা মনে করার চেষ্টা করুন। এই ভাবেই কার্যত স্নায়ুকে উত্তেজিত করা সম্ভব। স্নায়ু উদ্দীপকের কাজ করবে উপরিউক্ত সুগন্ধি দ্রব্যগুলি।

স্বাদ ফিরিয়ে আনতে কী করতে হবে?

খাদ্যের প্রকৃতি, গুণাগুণ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীর সুস্থ রাখার চাবিকাঠি। শরীরের প্রতিটি ইন্দ্রিয় নির্ভর করে এর উপরেই। অতএব সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মুখের স্বাদ ফিরে পেতে চাইলে জেনে নিন পদ্ধতিগুলি।

টক জাতীয় খাবার : খাবারের পাতে প্রথমেই থাকুক লেবুর আচার বা তেতুলের টক। টক জাতীয় খাবার লালাগ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে একইসঙ্গে স্বাদ কোরককে সক্রিয় করে স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। অতএব দ্রুত স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা ফিরে পেতে চাইলে খাবার খাওয়ার আগে টক জাতীয় খাবার খান প্রথমেই।

উমামি : জাপানি শব্দ “উমামি”র অর্থ হলো সুস্বাদের উপলদ্ধি। মিষ্টি, টক, তেতো, নোনতা, ঝালের বাইরেও আরেকটি স্বাদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় “উমামি”কে। সয়া সস, রসুন, মিসো, মাশরুম, আলু এবং ট্রাফলসের মতো খাদ্যগুলিকে “উমামি” স্বাদের খাবার হিসেবে ধরা হয়। অতএব স্বাদ ফিরে পেতে এই খাবারগুলি খেতে পারেন।

মশলা দেওয়া খাবার  : বিভিন্ন ধরনের মশলা বিশেষ করে যার মধ্যে ক্যাপসাইকিন থাকে (যেমন লঙ্কার ঝাল), স্নায়ু এবং গ্রন্থিগুলিকে সক্রিয় করে এবং অনুনাসিক পথকে সুগম করে।

চকোলেট : সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললেও অনেক ক্ষেত্রেই চকোলেটের আস্বাদ কিন্তু ভোলেন না চকোলেট প্রেমীরা। তাই স্বাদের অনুশীলনে চকোলেট খেতেই পারেন। সবসময় কঠিন খাবার না খেয়ে মাঝেমধ্যে তরল জাতীয় খাবার যেমন শেক বা স্যুপ রাখা যেতে পারে ডায়েটে। এতে যেমন শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকবে, তেমনি স্বাদ ফিরে পেতেও সাহায্য করে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, কঠিন অধ্যাবসায় থাকলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। যদি আজ কোনও খাবারের স্বাদ অথবা গন্ধ না পান, তাহলে কয়েকদিন পর আবারও সেই খাবারের স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করুন। বারবার চেষ্টা করলে তবেই আপনার স্বাদ কোরকগুলি পুনরায় উজ্জীবিত হয়ে উঠবে। অতএব, হতাশা যেন মনকে গ্রাস না করে বসে।