রেলের অবৈধ টিকিট এজেন্ট চিনবেন কীভাবে? জেনে নিন উপায়

59

ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল দেশ। আর এই জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে ভারতের মধ্যে ভারতের একটা বিরাট অংশের মানুষ যাতায়াত করে ট্রেন এর মাধ্যমে। কারণ ট্রেনের সফর একদিকে যেমন আপনার খরচ এর মাত্রা রাখে নিয়ন্ত্রিতভাবে তেমনি সফরকালীন অসুবিধা প্রায় নাই বললেই চলে। প্রতিদিন ভারতে প্রায় ২ হাজারের বেশি  যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে যাতে প্রায় ২কোটি মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সবাই কি তারা প্লাটফর্মে টিকিট কাউন্টারের মাধ্যমে টিকিট কাটেন?

রেলের অবৈধ টিকিট এজেন্ট চিনবেন কীভাবে? জেনে নিন উপায়

বর্তমানে অনলাইন টিকিট সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু থাকায়  আপনি মোবাইল থেকে বা আপনি বাড়ির কাছাকাছি যে কোনো কোনো অথরাইজড  টিকিট এজেন্ট থেকে টিকিট কেটে সফর করেন। কিন্তু এই সমস্ত টিকিট এজেন্ট যারা আপনার টিকিট যারা আপনার টিকিট এজেন্ট যারা আপনার টিকিট এজেন্ট যারা আপনার টিকিট যারা আপনার টিকিট কেটে আপনাকে যাত্রার সুযোগ করে দিচ্ছে তারা কি আদৌ অথরাইজ টিকিট এজেন্ট ? সম্প্রতি আইআরসিটিসি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। সারাদেশে গজিয়ে উঠেছে হাজার হাজার এর মত মত এর মত ট্রেনে টিকিট এজেন্ট যারা নিজেদের দাবি করে তারা প্রত্যেকে আই আর সি টি সি স্বীকৃত টিকিট এজেন্ট। কিন্তু এদের শতকরা ৯০ভাগ এজেন্টরাই ভুয়ো এমনই তথ্য জানা গিয়েছে। তাই জেনে নিন কীভাবে জানবেন এজেন্ট আই আর সি টি সি স্বীকৃত কি না

প্রথমে আপনি যেখানে টিকিট সংরক্ষণ করতে যাচ্ছেন অর্থাৎ সাইবার ক্যাফে বা সেই সব এজেন্টের কাছে তার  আইআরসিটিসি স্বীকৃতি সম্পর্কিত সার্টিফিকেট এবং ফটো আইডি পেশ করতে বলবেন

যদি সেই সব নথি তারা দেখিয়ে দেন তাহলে তারা কখনোই আপনার কাছে নন এসি টিকিট রিজার্ভ করার ক্ষেত্রে বা কেটে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি পিএনআর দশ টাকার বেশি এবং এসি টিকিট সংরক্ষণ বা কেটে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি পিএনআর প্রতি কুড়ি টাকার বেশি দাবি করতে পারে না। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে টিকিট মূল্য এবং আই আর সি টি সি চার্জ ছাড়া বাকি চার্জ এর ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা যাওয়া আপনার কাছে দাবি করা হয়।

অর্থাৎ যারা এতদিন আপনাকে টিকিট কেটে দেওয়ার নাম করে মূল টিকিট প্রতি ১০০,বা ২০০ বা ৫০০ টাকা বাড়তি আদায় করেছেন তারা প্রত্যেকে ভুয়ো টিকেট এজেন্ট।

আর এ-সম্পর্কিত কোনো ঘটনা ঘটলে অবশ্যই থানায় গিয়ে বা নিকটস্থ আর পি এফ বা রেল পুলিশে অভিযোগ জানাতে পারেন।এছাড়াও অভিযোগ জানাতে পারেন আই আর সি টি সির নির্দিষ্ট ওয়েব সাইটে।

আইআরসিটিসি স্বীকৃত টিকিট এজেন্ট কখনোই তৎকাল টিকিট কাটার প্রথম ৩০মিনিট টিকিট অনুমতি পেয়ে থাকে না ।তাই যেসব টিকিট এজেন্ট দাবি করে তারা আপনার জন্য ৩০মিনিটের মধ্যেই তৎকাল টিকিট কেটে দিতে পারবেন তারা কিন্তু ভুয়ো এজেন্ট।

যে সমস্ত এজেন্ট আইআরসিটিসি স্বীকৃত এজেন্ট হবে তাদের মাধ্যমে কাটা টিকিট এর মধ্যে তাদের যাবতীয় সমস্ত ঠিকানা যেমন নাম, এড্রেস এমনকি যোগাযোগ নাম্বার , যদি সাব এজেন্ট হয়ে থাকে তাহলে মুখ্য এজেন্টের নাম ঠিকানা এবং যোগাযোগ নম্বর সম্বলিত তথ্য দেওয়া থাকবে। আপনার কাছে এজেন্ট মাধ্যমে কাটা বা সংরক্ষিত টিকিটে যদি দেখেন এই সকল তথ্য এজেন্ট এর বর্তমান থাকা তথ্যের সঙ্গে মিল খাচ্ছে না তাহলে জানবেন এজেন্ট একজন ভুয়ো এজেন্ট।

সব সময় এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট বুকিং বা কাটার সময়  আপনি চাইবেন আপনার মোবাইল নাম্বার যেন তাতে সংযুক্ত করা হয় অর্থাৎ যখনই বুকিং বা টিকিট কাটা হয়ে যাবে তখন আইআরসিটিসি থেকে বুকিং বা টিকিট মূল্য  বা পি এন আর সংক্রান্ত  এবং সার্ভিস চার্জ সংক্রান্ত সকল তথ্যের একটি মেসেজ আপনি পাবেন। যা আপনার ক্ষেত্রে একটি ভ্যালিড ই টিকিটের কাজ করবে অর্থাৎ ট্রেনে যখন টিকিট চেকার টিকিট দেখাতে বলবেন তখন আপনি ইমেসেজ দেখিয়েও বৈধ টিকিটের বৈধতা পাবেন।

টিকিট বুকিং ক্যান্সলেশন করার সময় অবশ্যই রিসিট সংগ্রহ করে নেবেন এজেন্টের কাছ থেকে।

যেখানে অভিযোগ জানাবেন

অবৈধ এজেন্ট বা নিয়ম মত যে পরিমাণ টাকা এজেন্টের প্রাপ্য তার বেশি এজেন্ট যদি দাবি করে তাহলে আপনি অভিযোগ জানাতে পারেন এই ইমেইল আইডি তে [email protected] বা [email protected]

আরও পড়ুন : লাইন দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার দিন শেষ! চালু হল রেলের নতুন পরিষেবা

যদি অবৈধ টিকিট এজেন্টের কাছ থেকে কাটা টিকিট নিয়ে ট্রেন সফর করেন এবং যদি পরবর্তী ক্ষেত্রে টিকিট চেকার এ হাতে তার উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে না পারেন তাহলে কিন্তু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে জরিমানা বা সর্বোচ্চ স্তরে হাজতবাসও হতে পারে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা এবং তিন বছরের হাজতবাস পর্যন্ত হতে পারে সেই অবৈধ এজেন্টের ,যার মাধ্যমে আপনি টিকিট সংগ্রহ করেছেন ।তাই আপনার সচেতনতাই আপনাকে এবং প্রত্যেক মানুষকে এই অবৈধ এজেন্টদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন ।তাই এগিয়ে আসুন এই সচেতনতা বাড়ান সকলের মধ্যে।