আসল মিষ্টি ও নকল মিষ্টি চিনবেন কীভাবে? ভেজাল মিষ্টি চেনার অব্যার্থ কয়েকটি উপায়

নকল মিষ্টিতে ভরে যাচ্ছে বাজার, আসল মিষ্টি ও নকল মিষ্টি চিনবেন কীভাবে?

নকল মিষ্টিতে ভরে যাচ্ছে বাজার, আসল মিষ্টি ও নকল মিষ্টি চিনবেন কীভাবে? ভেজাল কাজু বরফি চিনবেন কীভাবে? কীভাবে চিনবেন ভেজাল পান্তুয়া বা গুলাব জামুন? টিস্যু পেপার মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ছানা! কীভাবে চিনবেন ভেজাল মিষ্টি? ভেজাল বেসন ও মতিচূরের লাড্ডুই বা চিনবেন কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক ভেজাল মিষ্টি চেনার (How to Identify Fake Sweets) অব্যার্থ কয়েকটি উপায়।

মিষ্টি তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় দুধ। আর এতে ভেজাল দেওয়া হয় প্রায়ই। মিষ্টিতে দুধ ছাড়াও ব্যবহার করা হয় মাওয়া, সিলভার ফয়েল, ঘি, তেল, বিভিন্ন ফ্লেভার ও কালার। এ সবগুলোতেই ভেজাল দেওয়া হতে পারে। দুধে দেওয়া হতে পারে চক, ইউরিয়া, সাবান এমনকি রঙ সাদা করার রাসায়নিক। সিলভার ফয়েলের বদলে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার হতে পারে। অন্যদিকে, ঘিয়ে মেশানো থাকতে পারে বনস্পতি, এমনকি চর্বি। তাই আসল ও নকল মিষ্টির মধ্যে পার্থক্য করতে কয়েকটি উপায় মেনে চলুন। তাহলে আপনিও সহজেই বুঝতে পারবেন আপনি যে মিষ্টি খাচ্ছেন তাতে ভেজাল রয়েছে কিনা।

যে সব মিষ্টির ওপর সিলভার ফয়েল দেওয়া থাকে, সেগুলোতে ভেজাল হিসেবে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দেওয়া কি-না খেয়াল করুন। খুব আলতো করে আঙ্গুল ছোঁয়ান মিষ্টির ওপর। যদি রুপালি অংশটা আঙ্গুলের সঙ্গে লেগে চলে আসে, তাহলে এটা ভেজাল হতে পারে। বেশি পরিমাণে মিষ্টি কেনার আগে এর গন্ধটা খেয়াল করুন। অনেক সময়ে বাসি-পচা মিষ্টি দিয়ে দেওয়া হয়। বাসি গন্ধ বা টক গন্ধ আছে কি-না দেখে নিন। মাওয়াতে স্টার্চ মেশানো কি-না বোঝার জন্য অল্প পরিমাণে মাওয়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে জ্বাল দিন। ঠাণ্ডা করে এতে দুই ফোঁটা আয়োডিন মেশান। মিশ্রণ নীল হয়ে গেলে বুঝবেন এতে স্টার্চ মেশানো আছে।

ভেজাল কাজু বরফি চিনবেন কীভাবে?

কাজু বরফি তৈরি করতে সাধারণত খোয়া ও ছানা দিয়ে তৈরি হয়। তবে এর মধ্যে মাড়, ময়দা, পরিশোধিত তেল, স্কিমড মিল্ক পাউডার যোগ করা যেতে পারে। কাজু কাটলিতে শুধু খোয়া ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়, অনেক সময় কাজু কাটলিতে রুপোর কাজও নকল হয়। আপনার কাজু কাটলি নকল কিনা তা জানতে, মিষ্টির একটি ছোট টুকরো নিন ও আঙুল এবং বুড়ো আঙুলের মধ্যে ম্যাশ করুন। যদি এতে সতেজ গন্ধ হয় তবে এটি আসল। রুপোটি আসল কিনা তা জানতে কাগজটি একটু আঁচড়ে একটি চামচে করে নিন। তারপর তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিন। আসল রুপো জ্বলে একটি চকচকে পদার্থ ছেড়ে যাবে। বাকি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

ভেজাল পান্তুয়া বা গুলাব জামুন চিনবেন কীভাবে?

অনেক সময় গুলাব জামুনে সয়াবিনের আটা ও মাড় মেশানো হয়। তাই গুলাব জামুনটি আসল না নকল তা জানতে গেলে সেটিকে একটি প্যানে চিনি দিয়ে জ্বাল দিন এবং অল্প আঁচে গরম করুন। যদি কড়াইতে জল থাকে তাহলে বোঝা যাবে গুলাব জামুন ভেজাল।

ভেজাল বেসন ও মতিচূরের লাড্ডু চিনবেন কীভাবে?

লাড্ডুতে সব থেকে বেশি ভেজাল মেশানো হয়। এগুলিকে শনাক্ত করা সহজ নয়। লাড্ডুকে সতেজ দেখাতে খুব বেশি পরিমাণে রং ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয়, বেসন বা মতিচূরের লাড্ডু তৈরি করতে ময়দাও ব্যবহার করা হয়। এর ঘি ও তেলেও ভেজাল থাকে। আপনি যে লাড্ডু খাচ্ছেন তাতে ভেজাল আছে কিনা পরীক্ষা করার জন্য প্রথমে লাড্ডু একটু পরীক্ষা করুন ও এর গন্ধ নিন। যদি ঘি এর বদলে অন্য গন্ধ বা ভিন্ন গন্ধ পান জানবেন সেই লাড্ডু ভালো বা খাঁটি না। আরও একটি উপায় হল হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিয়ে তাতে এক চামচ চিনি যোগ করতে হবে। এতে লাড্ডু ডুবিয়ে রাখতে হবে। এই মিশ্রণটি যদি লাল হতে শুরু করে তাহলে বুঝবেন লাড্ডুতে ভেজাল আছে।