করোনা মোকাবিলায় সফল বিশ্বের কোন দেশ, প্রকাশ্যে এলো সমীক্ষার ফল

বিশ্ব জুড়ে কোরোনা যুদ্ধ।বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলিতেও করোনার প্রকোপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তবে করোনা মোকাবিলায় সবার থেকে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বর্তমানে প্রতিদিন দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭ জন।  যেখানে আমেরিকাতে প্রতিদিনে গড়ে ৩৮ হাজার করে আক্রান্ত হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ৫.১৬ কোটি। উল্টোদিকে আমেরিকার জনসংখ্যা প্রায় ৩২.৮২ কোটি। অর্থাৎ প্রায় ছয়গুণ বেশি। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার মোট কেস ২৩ হাজারের চেয়ে কিছুটা বেশি। সেখানে আমেরিকায় সংখ্যাটা ৭৩ লক্ষের বেশি। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃতের সংখ্যা যেখানে প্রায় ৪০০। আমেরিকাতে সংখ্যাটা ২ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বলছে, করোনা মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া এক উন্নত মানের কার্যকর মডেল অনুসরণ করেছে। এর জেরে মৃত্যুর হার অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। এই মডেলের পরিপেক্ষিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকেও সচল রাখা সম্ভব।

How South Korea Successfully Managed Coronavirus
How South Korea Successfully Managed Coronavirus. (Image Source : Wall Street Journal)

করোনা মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার প্রথম থেকেই সতর্ক হয়েছিল। যার কারণে এই মডেলটি দেশের সর্বত্র সফলভাবে কার্যকরী করা সম্ভব হয়। এই মডেল অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বত্র প্রচুর পরিমাণে করোনার রাপিড টেস্ট করানো হয়। যার ফলে খুব তাড়াতাড়ি সংক্রমিত ব্যক্তিদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট সংক্রমণের হার ২৩ হাজারের বেশি এবং মৃত্যুর হার প্রায় ৪০০। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মোকাবিলায় সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্র হলো রাপিড টেস্ট।

আরও পড়ুন : করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে ভুল করে চলে এলে কি করবেন

এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার প্রচুর পরিমাণে টেস্টিং কিট, পিপিটি কিট ও মাস্ক কেনার অনুমোদন দিয়েছিল। কনটেইনমেন্ট জোন গুলিতে দিনে দুইবার স্যানিটাইজার স্প্রে করা হয়। করোনা সংক্রান্ত সকল চিকিৎসা বিনামূল্যে করতে বলে দেশের সরকার।

আরও পড়ুন : করোনা আটকাতে একজন মানুষের কটা ভ্যাকসিন লাগবে?

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার এই মডেলকে প্রশংসা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। যদিও অনেকে মনে করছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার আয়তন ও লোক সংখ্যা কম বলে তারা এত ভালোভাবে করোনার মোকাবেলা করতে পেরেছে।