সামাজিক দূরত্ব মেনে মাস্ক পরে কতটা করোনা আটকানো গেল, দেখুন পরিসংখ্যান

বিশ্বজুড়ে করোনার রক্তচক্ষু। সারা বিশ্বের তাবড় তাবড় গবেষকেরা করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারে নেমে পড়েছনে। কিন্তু এখনও মেলেনি কোনও ফল। করোনা থেকে বাঁচতে দীর্ঘদিন লকডাউনকে পন্থা করেন বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। শেষে গবেষকেরা বলেন, করোনা নিয়েই বাঁচতে হতে পারে আমাদের। তাই এর অস্তিত্ব মেনে নিয়েই এক অন্য জীবনে অভ্যস্ত হতে হবে। বাঁচতে গেলে পড়তে হবে মাস্ক, মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব। কিন্তু এই সামাজিক দূরত্ব ও মাস্কে কতটা লাভ?

সম্প্রতি ল্যান্সেটে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক কতটা কার্জকরী এ নিয়ে একটি সমীক্ষা হয়। মূলত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বের গবেষকদের সহায়তায় ২৫৬৯৭ জন অংশগ্রহঙ্কারীর উপর এই গবেষনা করা হয়। গবেষনা শেষে ৭টি কোভিড-১৯, ২৬টি সার্স ও ১১ টি মার্স নিয়ে মোট ৪৪ টি গবেষনাপত্র তৈরী করেন।

এই গবেষনাপত্র গুলির তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানালেন সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক কতটা উপকারী।এছাড়াও কোভিড থেকে বাঁচতে সুরক্ষার জন্য উঠে এসেছে আরও অনেক তথ্য। আমরা আপনাদের কাছে তুলে ধরবো সেই গবেষনার তথ্যগুলি…

গবেষনাপত্রের তথ্য বিশ্লেষন করে গবেষকেরা দেখেছেন, যেকোনো মানুষের থেকে ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম তবে ২ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা বেশি ভালো।

৯টি গবেষনায় উঠে আসে, ৩ শতাংশ মানুষ ১ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। তবে ১ মিটারের থেকে বেশি দূরত্ব যারা রেখেছেন তাঁদের মধ্যে সংক্রমণের সংখ্যাও কম।

 

১০ টি গবেষনায় উঠে এসেছে, মাস্ক পড়ে সংক্রমিত হয়েছেন ৩ শতাংশ মানুষ ও মাস্ক না পড়ে সংক্রমিত হয়েছেন ১৭ শতাংশ মানুষ।

মোট ১৩ টি গবেষনায় উঠে এসেছে চোখে সুরক্ষা পড়ে সংক্রমিত হয়েছেন ৬ শতাংশ মানুষ। ও চোখে সুরক্ষা না পড়ে সংক্রমিত হয়েছেন ১৬ শতাংশ মানুষ।

আরও পড়ুন :- কাদের মাস্ক পরতে হবে আর কখন মাস্ক পরতে হবে জানিয়ে দিল WHO

এই সব তথ্য বিচার বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বলছেন, লকডাউন উঠে গেলে আমরা কিন্তু যুদ্ধ জয় করে ফেললাম এমনটা নয়। বরং এতদিন যে লড়াই আমরা মেঘনাদের মতো লড়েছি অর্থাৎ বাড়িতে থেকে এখন সেই লড়াই লড়তেই আমরা নেমেছি ময়দানে। ফলে এখন সামান্য ভুল হলেই দিতে হবে প্রাণের বলি। তাই মাস্ক, সুরক্ষা চশমা ও সামাজিক দূরত্বকে আমাদের নিত্যসঙ্গী করতে হবে। বাদ দেওয়া যাবে না তিনটির একটিও।

অন্যদিকে মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুক্রবার রাতে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হ্ন। হু জানিয়েছে যেইসব অঞ্চল ভীষন ভাবে সংক্রমিত সেখানে যাতে মানুষ মাস্ক ব্যবহার করে সেই বিষয় নজর রাখতে হবে সরকারকে। সরকারকেই মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষত ভিড় এলাকায়, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। নাহলে আরও দ্রুত ছড়াবে সংক্রমণ।

আরও পড়ুন :- মাস্ক ব্যবহারের সময় এই ১০টি ভুল হিতে বিপরীত হতে পারে

ক্লিনিক্যাল এরিয়াতে মেডিক্যাল কর্মীদের জন্য মাস্ক আবশ্যিক। কিন্তু তা বাদে অন্যান্য যারা সেখানে থাকবে সবাইকেই মেডিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।  গোষ্ঠী সংক্রমণ যেসকল অঞ্চলে ছড়িয়েছে সেখানে ষাট বছরের বেশী বয়সি মানুষদের মেডিক্যাল মাস্ক পড়তেই হবে।এছাড়াও ভিড় এলাকায় গেলেই মাস্ক বাধ্যতামূলক। প্রতিষেধক বাজারে আসতে এখনও ঢের দেরি। ততদিন একমাত্র মানুষের সতর্ক আচরণই এই ভাইরাসের সংক্রমণকে আটকানোর একমাত্র উপায় হতে পারবে।