নেই বালিশ বিছানা ফ্যান, খেতে হচ্ছে জেলের খাবার, আর্থার জেলে চরম কষ্টে আরিয়ান

How Aryan Khan is being treated on jail

বলিউড (Bollywood) বাদশার ঘরে তার জন্ম। ছোট থেকে কখনও অভাব কী, সাধারণ জীবন-যাপন কেমন, টের পেতে হয়নি শাহরুখপুত্রকে (Shah Rukh Khan)। মাদক মামলায় জড়িয়ে এনসিবির কাছে ধরা না পড়লে হয়তো তা কখনও টেরও পেতেন না আরিয়ান (Aryan Khan)। তবে এই মামলা তাকে একেবারেই এক ভিন্ন দুনিয়াতে নিয়ে গিয়ে ফেলেছে।

বিশ্বের অন্যতম ধনী অভিনেতা শাহরুখ খান। তার বাড়ি ‘মন্নত’ রাজা মহারাজাদের প্রাসাদকেও হার মানায়। সেই পরিবারের বড় সন্তান আরিয়ান খান। শাহরুখ-গৌরির প্রথম সন্তান, স্বভাবত ছোট থেকে বড়ই আদরে মানুষ। ছেলেকে কখনোই কোনও কিছুতে বাধা দেননি শাহরুখ-গৌরি। মাদক সেবনের ব্যাপারেও না। যা আজ তাকে কারাগারের পেছনে পাঠিয়ে দিয়েছে। ধরা পড়ার দিন রাতে কর্ডেলিয়া ক্রুজে তার জন্য ‘ভিআইপি’ ব্যবস্থা থাকলেও এনসিবি হেফাজতে তিনি নিতান্তই এক সাধারণ অপরাধী। থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য যাবতীয় বিষয়ে আর পাঁচজন অভিযুক্তের মতোই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তার জন্য।

এনসিবি আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, বিগত কয়েকদিন ধরে এনসিবির মেসে তৈরি সাধারণ খাবার খাচ্ছেন আরিয়ান। বাড়ি থেকে খাবার আনাতে হলে আদালতের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। আপাতত তার কাছে সেই অনুমতি নেই। কাজেই অন্যান্য অভিযুক্তদের মত নিতান্তই সাধারণ খাবার খেতে হচ্ছে তাকে। বিভিন্ন সংবাদ মধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, জেলের মধ্যে রাখা হয়নি কোনও সিলিং ফ্যান, রাখা হয়নি বালিশ বিছানা।

আপাতত জেলের রুদ্ধদ্বার কক্ষেই দিন কাটবে তাঁর। বর্তমানে আর্থার রোড জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁকে। করোনা নিয়মবিধি মেনে সেখানে তিন থেকে পাঁচ দিন নিভৃতবাসে কাটাবেন আরিয়ান। কিন্তু তারকা-সন্তান বলে কোনও রকম ‘বিশেষ আয়োজন’ করা হবে না তাঁর জন্য। আর পাঁচ জন হাজতবাসীর মতোই থাকবেন ‘কিং খান’-এর পুত্র।

আরও পড়ুন : ‘আমার ছেলে ড্রাগস নিতে পারে, মেয়ে নিয়ে ঘুরতে পারে’, শাহরুখ খান

প্রতিদিন ঘড়ি ধরে ঠিক ৬টায় ঘুম থেকে উঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রাতঃরাশ দেওয়া হবে সকাল ৭টার সময়। জেলে যা রান্না হয়, অভিযুক্তরা যা খান তা-ই খাবেন। বাইরের খাবার সেখানে নিষিদ্ধ। বেলা ১১টার মধ্যে অভিযুক্তদের দুপুরের খাবার দিয়ে দেওয়া হবে। দুপুর এবং রাতের খাবারের তালিকায় থাকবে রুটি, তরকারি, ডাল এবং ভাত। এর বাইরে আর কিছুই দেওয়া হবে না হাজতবাসীদের।

খাওয়াদাওয়ার পর জেলের ভিতরেই হাজতবাসীদের হাঁটাচলা করতে দেওয়া হয়। কিন্তু আরিয়ান এবং তাঁর সঙ্গীদের ক্ষেত্রে এখনও সেই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত নিভৃতবাসে থাকার পর জেলের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘোরাফেরা করতে পারবেন তাঁরা। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবার রাতের খাবার দিয়ে দেওয়া হবে। বরাদ্দ খাবারের বাইরে ক্যান্টিন থেকে আরও খাবার চাইলে আরিয়ান এবং তাঁর সঙ্গীদের টাকা দিতে হবে। মানি অর্ডারের মাধ্যমে সেই টাকা আনানো যেতে পারে।

আরও পড়ুন : এমএমএস থেকে মাদক মামলা, রইলো শাহরুখ খানের ছেলের কুকীর্তির তালিকা