জেলে ২৮ দিন কীভাবে কাটলো রিয়ার, মুখ খুললেন রিয়ার আইনজীবী

দীর্ঘ ২৮ দিন পর জেল থেকে ছাড়া পেলেন রিয়া চক্রবর্তী। বোম্বে হাইকোর্ট জানিয়েছে রিয়া চক্রবর্তী মাদক চক্রে জড়িত ছিলেন কিনা এমন তথ্য পাওয়া যায়নি কিন্তু তার ভাই সৌভিকের মাদক চক্র জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তাই দিদি ছাড়া পেলেও ভাই সৌভিক এখনও জেলে।

বোম্বে হাইকোর্ট থেকে পাঁচটি শর্তে ব্যক্তিগত এক লক্ষ টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে রিয়া চক্রবর্তী কে। জামিনে মুক্ত থাকাকালীন রিয়া চক্রবর্তী কে আগামী ১০ দিন নিকটবর্তী কোনও থানায় হাজিরা দিতে হবে। দেশের বাইরে বের হতে পারবেন না তিনি। জমা দিতে হবে তার পাসপোর্ট। এমনকি কোন সাক্ষীর সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে পারবেন না তিনি।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জিয়ার আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডে জানিয়েছেন, “রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ঘৃণা করা ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে কারণ তিনি সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রেমিকা ছিলেন। কিন্তু বাংলার বাঘিনী আবারো লড়বে”। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় মিডিয়া শুধুমাত্র টিআরপি জন্য দেওয়ার পিছনে লেগে ছিল।

এক সাক্ষাৎকারে রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডে জানিয়েছেন, “রিয়া চক্রবর্তী কে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তবুও তিনি ভেঙে পড়েননি দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। জ্যামের অন্যান্য বন্দীদের সাথে রিয়া নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন।”

রিয়া চক্রবর্তী জেলে কী খেতেন সেই প্রসঙ্গে রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডে জানিয়েছেন, “রিয়া চক্রবর্তী জেলের খাবার খেতেন কারণ করোনার আবহে বাড়ি থেকে খাবার আনা ওনার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। অন্যান্য বন্দীদের মতো সাধারণ ভাবে দিন কাটিয়েছেন তিনি।”

অন্যদিকে মেয়ে বাড়ি ফেরার পর মুখ খুলেছেন রিয়া চক্রবর্তী মা সন্ধ্যা চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন তাদের পরিবারে এমন দুর্দিনে এর আগে কখনো আসেনি। পরিবারের কেউ ঠিক করে ঘুমাতে পারছেন না, জেগে রয়েছেন রাতের পর রাত। কখনো কখনো আত্মহত্যা করার কথাও ভাবছেন তিনি। এই ধরনের কাজ যে তার সন্তানরা করতে পারে বলে তার বিশ্বাস হচ্ছে না।

অন্যদিকে বুধবার সুশান্তের আইনজীবী CBI-কে অনুরোধ করেছেন, সুশান্তের মৃত্যুর কারণ আরও একবার পরীক্ষা করে দেখতে। বিকাশ সিং জানিয়েছেন, ”CBI-এর উচিত AIIMS-এর চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তারা সংবাদমাধ্যমে যে বয়ান দিয়েছেন সেটা খতিয়ে দেখা।”