অবসরের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প কী কী সুযোগসুবিধা পাবেন? দেখে নিন তালিকা

ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়ে গেছে মার্কিন ভোটের চূড়ান্ত ফল।আগামী দিনের রস্ত্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জো বাইডেন।জানুয়ারি মাসে তিনি শপথ নেবেন এবং তার সাথেই হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে(Donald Trump)।কিন্তু আপনারা কি জানেন সরকারি পদ ত্যাগ করার পরও কি কি সুবিধা পাবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি(President) ডোনাল্ড ট্রাম্প?আসুন জেনে নেওয়া যাক।

১৭৮৯ সালে আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই প্রতি বছরের বাজেটে, আমেরিকার সংবিধান(Constitution) অনুসারে অবসর নেওয়া সব প্রেসিডেন্টদের জন্য সরকারি খাতে পেনশন-সহ ক্ষেত্রে বিশাল অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করা থাকে।এখনও পর্যন্ত আমেরিকার অবসরপ্রাপ্ত ৪৫ জন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেই সেটা হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অবসর নেওয়ার পরেও আজীবন ট্রাম্প পাবেন মোটা টাকা।মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রা কর্মরত ক্যাবিনেটের সদস্যদের সমান বেতন পান।২০১৭ সালের হিসেব অনুযায়ী তখন এই মাইনে ছিল ২ লক্ষ,৭ হাজার,৮০০ ডলার। তবে এই বেতনের মধ্যে অন্য কোনো ভাতা যোগ হবেনা।সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে অবসরের পরেও টাকার অভাব হবেনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

এছাড়াও আমেরিকার সাজানো শহরাঞ্চলে এক বিশাল অফিস চালানোর মতন জায়গা পাবেন তিনি।সেই অফিসের যাবতীয় খরচ এবং অফিসে থাকা কর্মীদের খরচ বহন করবে মার্কিন সরকারই।এই অফিস সংক্রান্ত পুরোনো তথ্য দেখলে জানা যায়,২০১৮ সালে কংগ্রেসে যে বাজেট প্রস্তাব জমা পড়েছিল তাতে বলা হয়,প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান বারাক ওবামার অফিসের জায়গার জন্য খরচ হয়েছিল ৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ডলার।

এছাড়া ট্রাম্প ব্যাক্তিগত ভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার জন্য এবং টেলিফোনের খরচের জন্য প্রচুর অর্থ।পুরোনো তথ্য থেকেই জানা যায় মার্কিন মুলুকের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের অবসরের পর তার ঘোরার জন্য ৬৮ হাজার ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল। সুতরাং এই খাতে আমেরিকা সরকারের খরচের একটা অনুমান এই থেকে পাওয়া যায়।

শুধু তাই নয়, অবসরের পরেও তার নিরাপত্তার দিকে নজর রাখা হবে। তিনি এবং তার পরিবার আজীবন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা রক্ষার সুবিধা পাবেন।তবে ট্রাম্পের এই নিরাপত্তার খরচা সাধারণ মানুষের দেওয়া আয়করের মধ্যে দিয়েই বহন করা হবে। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তারক্ষার জন্য ২লক্ষ ডলারেরও বেশী টাকা বরাদ্দ করে মার্কিন সরকার।অন্যদিকে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ করা হয় ৮ লক্ষ ডলার।

এছাড়া মার্কিন সংবিধান অনুসারে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের স্বামী বা স্ত্রীকে, অর্থাৎ মার্কিন মুলুকের ফার্স্ট লেডি বা ফার্স্ট ম্যান কে আজীবন মোটা অংকের পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে যা হলো বছরে ২০ হাজার ডলার।প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের সাথে তারও ঘোরাঘুরি, টেলিফোন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের।

এইসব সুযোগ সুবিধা ছাড়াও আমেরিকার সংবিধানে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে আত্মজীবনী লিখে তা কোনও নামী কর্পোরেট সংস্থার পরিচালন বোর্ডের সদস্য হয়ে বা বিশ্বের নানা প্রান্তে আমন্ত্রণী বক্তৃতা দিয়ে মোটা অঙ্কের ডলার উপার্জনের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাড়ির চালক জেমস বন্ডের থেকে কোনো অংশে কম নন

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এর কথা বলা যেতে পারে যিনি শুধু বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা দিয়েই সাড়ে ৬ কোটি ডলার এবং আত্মজীবনী ছাপিয়ে দেড় কোটি ডলার উপার্জন করেছিলেন।