করোনা আক্রান্ত হলে সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে কেন

1507

করোনা ভাইরাস বর্তমানে আতঙ্কের আরেক নাম। এখনও পর্যন্ত ভারতে এই ভাইরাসের ফলে সংক্রমিত হয়েছেন ৬,০৪,৬৪১ জনের বেশি মানুষ এবং মারা গেছেন ১৭,৮৩৮ জন মানুষ। কিন্তু দীর্ঘ এতগুলো মাস কেটে যাওয়ার পরেও কোভিডের প্রকৃতি ঠিকমত বোঝা যাচ্ছে না।

কিছু মানুষ আছেন যারা করোনাতে সংক্রমিত হওয়ার পর খুব তাড়াতাড়ি সেরে উঠছেন আবার কিছু মানুষ আছেন যারা সুস্থ হতে বেশ কিছুটা সময় নিচ্ছেন। কিন্তু কেন এইরকম পার্থক্য দেখা যাচ্ছে? রোগ লক্ষণ এক, রোগ এক, অথচ সেরে উঠতে  সময়ের এই অদ্ভুত হেরফের হচ্ছে কেন?

কোভিডের উপসর্গগুলো খতিয়ে দেখলে দেখা যায় সেরে উঠতে গড়ে ১২ দিন সময় লাগে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সেরে উঠতে ৩০ দিন বা তারও বেশি সময় লাগছে। কেন সময়ের  এত হেরফের হচ্ছে সে প্রসঙ্গে তারা এখনই কিছু জানাতে পারছেন না। এ ব্যাপারে আরো কিছু উপসর্গ লক্ষ্য করার পরই তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

তবে যাদের  সুস্থ হয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগছে তাদের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞরা একটি পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- এই মানুষেরা যেন প্রচুর পরিমাণে জল খান, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করেন এবং অনেক বেশি পরিমাণে বিশ্রাম নেন। এ তো গেল সাধারণ করোনা কেসের কথা। কিন্তু করোনা সংক্রমিত হয়ে অনেকেরই সংকটাপন্ন অবস্থা হচ্ছে।

করোনা আক্রান্ত হলে সুস্থ হতে কত সময় লাগে?

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কোনও রোগী যদি সংকটাপন্ন অবস্থায় ক্রিটিক্যাল কেয়ারে থাকেন  তাহলে তার সুস্থ হতে আরো বেশি সময় লাগে। এক্ষেত্রে  ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। কারণ হাসপাতালের বিছানায় দীর্ঘ সময় ধরে শুয়ে থাকলে মাংসপেশির ভর কমে যায়।  রোগী দুর্বল হয়ে পড়েন আর হারানো মাংসপেশি আবার ও তৈরি হতে অনেকখানি সময় লেগে যায়। কোনও কোনও রোগে হাঁটার ক্ষমতা ও চলে যায়।

আরও পড়ুন :- পুরুষ না মহিলা, করোনায় কাদের মৃত্যুর হার বেশি ও কেন

সেক্ষেত্রে পুনরায় হাঁটার ক্ষমতা ফিরে পেতে ফিজিওথেরাপিও করতে হয়। এছাড়া দীর্ঘসময় ধরে হাসপাতালে থাকার ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে। রোগীর মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে আবার চিকিৎসা করতে হয়। আবার করোনাভাইরাস যেহেতু প্রথমে শ্বাসতন্ত্রে গিয়ে আক্রমণ করে তার ফলে ফুসফুস  ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবমিলিয়ে রোগী সুস্থ হতে অনেকখানি সময় লেগে যায়।

কীভাবে স্বল্পদিনের মধ্যেই সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার সম্ভব?

সাধারণভাবে বলা যায় যদি কোন মানুষ ধূমপান না করেন,মদ্যপান না করেন তাহলে তিনি খুব শীঘ্রই সেরে উঠবেন। এছাড়া তাকে নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এই নিয়মগুলো মেনে চললে আশা করা যায় এই ভয়ঙ্কর রোগের হাত থেকে খুব অল্পদিনের মধ্যেই রোগী সেরে উঠবেন।

আরও পড়ুন :- কোন রক্তের গ্রুপের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম, কোন গ্রুপের বেশি

তবে আমরা প্রত্যেকের সুস্থতা কামনা করি। দয়া করে আপনারাও যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ও বজায় রাখুন। সুস্থ থাকুন,ভালো থাকুন।