কোরোনা ভাইরাস কীভাবে শরীরে ছড়ায়? কী বলছে গবেষণা

How corona tests are done

চীনের ইউহান প্রদেশ থেকে ছড়ানো শুরু করে কোরোনা ভাইরাস এখন বিশ্বের সবকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই হ্ন এটিকে বিশ্বব্যাপী মহামারীর আখ্যা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ মৃত। চীনের মতনই ইতালি এবং ইরান এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।ভারতেও আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭০। শুরু হয়েছে মৃত্যু।

কোভিড – ১৯ সারস এবং মার্সের মতনই কোরোনা ভাইরাসের বিশাল গোষ্ঠীর একটি ভাইরাস বাহিত সংক্রমণ।এটি সাধারণত অন্য প্রাণীদের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এইমস (AIIMS) প্রাক্তন মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টের হেড ডাক্তার শোভা ব্রুর এর মতে এই ভাইরাস খুব ভয়ঙ্কর না হলেও খুব সংক্রামক। যেহেতু এই ভাইরাস অনেক বেশী পরিমাণ মানুষকে সংক্রমিত করছে তাই বেশী পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সিস্টেম থেকে গ্যাস্ট্রো-অন্ত্রের ট্র্যাক্টে এবং তারপর রক্তে চলে যায়, যার ফলে মানুষের অনেক অঙ্গ একসাথে বিকল হয়ে যায় এবং মানুষ মারা যান। তার মতে যদিও এই ভাইরাসের সাথে ৭০% সারস ভাইরাসের মিল আছে কিন্তু পুরো মিল নেই কারণ এই ভাইরাস অনেকটা ব্যাট কোরোনা ভাইরাসের মতন।

ইয়ুহানে ১৯১ জন আক্রান্ত রোগীর ওপর ওপর করা একটি গবেষণা যেটি প্রকাশ হয়েছে ল্যানসেট জার্নালে, সেটির মতে এই ভাইরাস প্রথমে গলা থেকে ফুসফুসে যায় তারপর রক্তে মেশে। এই ভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ধাপে ব্যাক্তির ফুসফুস সংক্রমিত হয় এবং ফুসফুসে এই ভাইরাস বহু গুন পরিমাণে বাড়তে থাকে। ফলে ফুসফুসের থলিগুলি ধীরে ধীরে একপ্রকার তরল নিঃস্বরণ ঘটায় এবং ব্যাক্তির নিউমোনিয়ার মতন অসুখ হয়। সংক্রমণের ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাক্তির প্রবল শ্বাস প্রশ্বাস জনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়।

এই প্রতিবেদনে বলা হয় যে ইউহান এবং জিনিন্টানের পালমোনারি হাসপাতালে আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮% মানুষের শরীরে অন্য অসুখ ছিল যাদের মধ্যে ৩০% মানুষের ছিল হাইপার টেনশন, ১৯% এর ডায়বেটিস এবং ৮% মানুষের ছিল হার্টের সমস্যা।

কিভাবে ছড়ায় কোরোনা ভাইরাস?

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ব্যাক্তির ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে – সর্দি জ্বর কাশি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সাধারণত ৮০% আক্রান্তদের মধ্যে এই ছোটখাটো উপসর্গ চোখে পড়ে।

৪ থেকে ৯ দিনের মধ্যে – এই সময়ের মধ্যে ব্যাক্তির ফুসফুসে এর সংক্রমণ ঘটায় ব্যাক্তির তীব্র নিঃশ্বাস প্রশ্বাস এর সমস্যা দেখা দেবে। ১৪% আক্রান্তদের মধ্যে এই উপসর্গ দেখা যায়।

১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে – এই সময়ের মধ্যে এটি ফুসফুস থেকে রক্তে সংক্রমিত হয় এবং ধীরে ধীরে মানুষের শরীরের বাকি অংশগুলি কমজোর ও বিকল করতে শুরু করে। ৫% মানুষদের এই উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদের আই সি ইউ তে ভর্তি করাতে হয়।

উত্তর আমেরিকার রেডিওলজিকাল সোসাইটি করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ফুসফুসের একটি থ্রি ডি চিত্র প্রকাশ করেছে। এই ছবিতে এটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান যে করোন ভাইরাস-সংক্রামিত রোগীদের ফুসফুসগুলি ঘন তরলে পূর্ণ হয়। নতুন করোনাভাইরাস আগের দুটি ভাইরাস- সারস এবং এমআরএস-দুই দিক থেকে আলাদা। প্রথমত, এটি জনসাধারণে আরও সহজে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, এটি কম মারাত্মক। নতুন করোনভাইরাসটির প্রকৃত মৃত্যুর হার ২.৩% এর চেয়ে কম। যদিও এসএআরএসের কারণে মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ৯..6%, এবং এমইআরএসের মৃত্যুর হার ৩৪.৪%।