হোলিতে নোটে রং লেগে গেলে কি করবেন? কি বলছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক?

452

হোলি অথবা দোল পূর্ণিমা, রং অথবা আবিরের খেলায় মেতে উঠেছে সারা দেশ। দেশের অধিকাংশ মানুষ বসন্তের এই রঙের মাতিয়ে নিতে নিজেদের তৎপর। কিন্তু এই রঙের আনন্দে বেশকিছু সর্তকতা অবলম্বন আবশ্যক, যাতে করে ক্ষণিকের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী দুঃখে পরিণত না হয়।

সতর্কভাবে রং খেলে নিজের আনন্দকে সকলের সাথে ভাগ করে নেওয়া যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই জরুরি বেশ কিছু বিষয় জেনে রাখাও। যেমন ধরুন হোলি বা বসন্ত উৎসবের সময় আপনার পকেটে রাখা টাকায় যদি রং লেগে যায় তাহলে কি হবে? সেই টাকা কি বাজারে চলবে? অথবা সেই টাকা ব্যাঙ্কে দিলে তার কত মূল্য ফেরত পাবেন?

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ

রিজার্ভ ব্যাংকের নির্দেশে একটি নোটকে নোংরা বা ময়লা যুক্ত বলা যাবে যখন সেই নােটটি বারবার ব্যবহারের ফলে তার স্বাভাবিক রং হারাবে। এছাড়াও যদি কোন কারনে কোন নোট ছিঁড়ে যায় বা দু টুকরাে হয়ে যায়, কিন্তু টুকরাে দুটো যদি একই নােটের হয় তাহলে তা পরিবর্তন যােগ্য হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে প্রতিটা সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংককে যে তারা যেন জনসাধারণের কাছ থেকে এরকম ছেড়া, কাটা, দুটুকরাে হওয়া বা ময়লা লাগা নােট নিয়ে ভালাে নোট দিতে উদ্যত হন।

নোট বদলাতে ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে?

প্রতিটি ব্যাঙ্কে যেন তাদের শাখা গুলিতে “এখানে ছেড়া কাটা, ময়লা লাগা নোট পরিবর্তন করা হয়” এই রকম লেখা বোর্ড রাখতে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। আপনি ওই ব্যাঙ্কের গ্রাহক হন আর না হোন আপনি ছেঁড়া, ফাটা, ময়লা লাগা নোট পরিবর্তন করতে পারবেন।

ব্যাঙ্ক ছাড়া আর কোথায় টাকা জমা দেওয়া যাবে?

এমনকি আপনি ওই ছেঁড়া, ফাটা নোট দিয়ে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা যেমন জলের বিল, বিদ্যুৎ বিল, বাড়ির ট্যাক্স বা অন্য কিছু ট্যাক্স আপনি দিতে পারবেন। এমনকি আপনি আপনার নামে খাতা আছে এমন ব্যাঙ্কে গিয়ে আপনার একাউন্টে
ওই ছেড়া বা কাটা বা ময়লা লাগা নােটকে জমা করতে পারে। আর সেই সব নোট ব্যাঙ্ক নিতে বাধ্য থাকবে। তবে সেই সব নোট ব্যাঙ্ক আর অন্য কাউকে দিতে পারবে না ব্যাঙ্কের পরিষেবার মধ্যে।
সেই সব নোট ব্যাঙ্ক রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ মতো আলাদা করে রেখে পরবর্তী সময়ে তা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট শাখা থেকে উপযুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে পরিবর্তন করবে। আর এটা সম্পূর্ন ব্যাঙ্কের নিজস্ব কাজ, তাতে আপনার কোন ভূমিকা
থাকবে না।

নোট পরিবর্তন করতে কত দিন সময় লাগবে?

যদি আপনার কাছে পাঁচটি মতো ছেড়া, কাটা বা ময়লা লাগা নােট থাকে আর আপনি তা পরিবর্তন করার জন্য ব্যাঙ্কে গিয়ে থাকেন যেখানে
এইরকম সুবিধা দেওয়া হয় না এমন ব্যাঙ্কে, তাহলে আপনাকে তারা এইসব নােট নিয়ে একটা রিসিপ্ট দেবেন যাতে আপনাকে দেওয়া হবে
একটা নির্দিষ্ট দিনের উল্লেখ থাকবে, যেদিন আপনি আপনার ছেড়া, ফাটা নোটের পরিবর্তে আপনি ভালো ব্যবহার যোগ্য নোট পাবেন। আর এই পুরো প্রক্রিয়া হবে আপনার ব্যাঙ্ক নোট জমা দেওয়ার ১ মাসের মধ্যে। সাধারণত ব্যাঙ্কের সব শাখায় এই সুবিধা পাওয়া যায়।

তবে জেনে রাখবেন আপনি যদি এমন কিছু কাটা নোট নিয়ে আসেন যা দেখে ব্যাঙ্ক অফিসারের মনে হয় এইরকম ভাবে কাটা ইচ্ছে করেই করা হয়েছে অর্থাৎ অনেকবার বিভিন্ন জায়গায় কাটা হলে সেই সব নোট ব্যাঙ্কের অফিসার পরিবর্তন নাও করতে পারেন। তবে সব ধরনের নেটের ক্ষেত্রেই যে এইভাবে পরিবর্তন করা যাবে তা কিন্তু নয়, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন
কোন ধরনের নোটকে “বাতিল নোট” বলা হবে অর্থাৎ তা পরিবর্তন যোগ্য বা ব্যবহার যোগ্য নয়।

কোন নোট পরিবর্তন হয় না?

যেসব নোট বহু টুকরো হয়ে গিয়েছে বা আগুনে অনেকটা অংশ পুড়ে গিয়েছে বা আঠা বা অন্য কিছু দিয়ে একে অপরের সঙ্গে জোড়া লেগে গিয়েছে। এমন নোট যা একদম ব্যবহার করার যোগ্য নয় তা ব্যাঙ্কে গিয়ে পরিবর্তন করা যাবে না। তার পরিবর্তে সেই সব নোটকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট শাখায় নিয়ে এসে তা পরিবর্তন করার নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।

যদি কোন নোটের উপর রাজনৈতিক স্লোগান বা রাজনৈতিক কিছু লেখা থাকে তাহলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্পষ্ট নির্দেশ আছে সেইসব নােটকে বাতিল নোট বলে চিহ্নিত করতে পারে যে কোন ব্যাঙ্ক। এ রকম নোট ব্যাঙ্কে গিয়ে জমা করা যাবে না।

সাবধান!

যদি দেখা যায় আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে ছেঁড়া, কাটা বা ময়লা লাগা নােট অনেক বেশি পরিমাণে নিয়ে ব্যাঙ্কে এসে তা পরিবর্তন করার চেষ্টা
করছেন তখন আপনার নাম, নােটের নাম্বার ও মূল্য লিখে নিয়ে তা জানানো হবে সেই ব্যাঙ্কের ডেপুটি বা জেনারেল ম্যানেজারের কাছে। এছাড়াও আপনার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানােও হতে পারে। তাই অতি চালাক না ভেবে সাধারণ উদ্দ্যেশ্যে ব্যবহার করুন এই পরিষেবা।

আরও পড়ুন ; ATM থেকে নকল নোট পেলে কি করা উচিত?

আরও জেনে রাখা প্রয়োজন, এখন এই নোটগুলি বদলের নিয়ম নিয়ে এসেছে RBI, তবে রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তনের কড়া নির্দেশিকা। যেহেতু নতুন নোটের আকার বদলে গিয়েছে। এব্যাপারে আগে আরবিআইয়ের কোনও নির্দেশিকা ছিল না।

ছেঁড়া নোট পরিবর্তনের নিয়ম

নতুন নির্দেশিকা আনতে গিয়ে ২০০৯ সালের নোট রিফান্ড আইনের সংশোধন করেছে RBI। তাতে নতুন ২০০০ ও ২০০ টাকার নোট বদলের নতুন নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০০ টাকার ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যদি আপনার ২০০০ টাকার ছেঁড়া নোটের আকার ৮৮ বর্গ সেন্টিমিটার পর্যন্ত থাকে তাহলে আপনি ২০০০ টাকায় ফেরৎ পাবেন। সেরকমই যদি ৪৪ বর্গ সেন্টিমিটার পর্যন্ত নোটের অংশ সুরক্ষিত থাকে তাহলে অর্ধেক মূল্য ফেরত পাবেন। সেক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো ২০০০ হাজার টাকার নোটের আকার ১০৯.৫৬ বর্গ সেন্টিমিটার।

আরও পড়ুন ; আপনার কাছে ছেঁড়া, ফাটা নোট আছে? জেনে নিন কীভাবে পরিবর্তন করবেন

২০০ টাকার নোট এর ক্ষেত্রেও একই রকম পদ্ধতি বা নিয়ম। নোটের ৭৮ বর্গ সেন্টিমিটার সুরক্ষিত থাকলে পাবেন পুরো মূল্য এবং ৩৯ বর্গ সেন্টিমিটার সুরক্ষিত থাকলে পাবেন অর্ধেক টাকা।

অর্থাৎ এই নিয়ম বা নির্দেশিকা চালু হওয়ার পর আপনি ২০০০ ও ২০০ টাকার ছেঁড়া নোট সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকে পরিবর্তন করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আপনার নিকটস্থ ব্যাঙ্কগুলিতে কোন দিন নোট পরিবর্তন করা হয় সে বিষয়ে খোঁজ রাখুন।

নোট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উপরের এই সকল নির্দেশিকা পড়ে আশা করি বুঝতেই পারছেন আনন্দের সাথে রং খেলার সাথে সাথে কতটা সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। রং খেলুন আনন্দের সাথে আর সাবধানতা অবলম্বন করে সকলের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিন।

Loading...