নতুন লকডাউনে রেড, অরেঞ্জ ও গ্রীন জোনে মিলবে এইসব ছাড়

দেশজুড়ে কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণের জেরে ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার লক ডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে ১৭ মে পর্যন্ত করা হলো। এই লক ডাউন ৩ রা মে পর্যন্ত চলার কথা ছিল কিন্তু শুক্রবার বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন যে দেশ জুড়ে চলতে থাকা লক ডাউন আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো হবে। ১৭ মে পর্যন্ত দেশ জুড়ে লক ডাউন চলবে, এমনই প্রেস রিলিজ এর মাধ্যমে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই লকডাউনে কোন কোন বিষয় ছাড় দাওয়া হবে এবং কোন কোন বিষয় নিষেধাজ্ঞা জারি হবে ? দেখে নিন এক নজরে।

১৭ মে পর্যন্ত কি কি নিষেধাজ্ঞা থাকবে?

• রেল-বিমান-মেট্রো পরিষেবা ।
• দুই রাজ্যের মধ্যবর্তী সড়ক পথ পরিষেবা ।
• স্কুল-কলেজ-সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
• হোটেল ও রেস্তোঁরা
• সিনেমা হল, শপিং মল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, জিম
• সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমস্ত রকম জমায়েত।
• ধর্মীয় স্থান বন্ধ থাকবে

কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত দেশকে তিনটি জোনে ভাগ করে পরিষেবা চালু করার কথা বলেছে। সবথেকে বেশী স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোকে রেড জোন, কম স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোকে অরেঞ্জ জোন এবং যেসব অঞ্চলে গত ২১ দিন কোনরকম সংক্রমন ঘটেনি সেই অঞ্চলগুলোকে গ্রীন জোন বলা হয়েছে।

রেড জোনে কি কি ছাড় থাকবে ?

অনুমতি সাপেক্ষে ২ জন যাত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে।তবে দু’চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে পিলিয়ন রাইডারকে ছাড় দাওয়া হবেনা। শহরাঞ্চলে স্পেশাল ইকোনোমিক জোন, এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড ইউনিট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট অ্য়ান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ এর ক্ষেত্রে। ড্রাগ, ফার্মাসিউটিক্য়ালস, মেডিক্য়াল ডিভাইস এর মতন বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের কাঁচামাল তৈরি করা যাবে। হার্ডওয়ার ও জুট শিল্পে অনুমতি দাওয়া হবে তবে সেক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে।

শহরাঞ্চলে নির্মাণকাজ করা যাবে। গ্রামাঞ্চলে নির্মাণ কাজ, মনরেগার কাজে ছাড় দাওয়া হবে। গ্রামাঞ্চলে শপিং মল ছাড়া সব দোকান খোলা যাবে। কৃষিক্ষেত্রে ফসল উৎপাদন এবং বীজবপনের ক্ষেত্রে ছাড়। পশুপালন ও মাছের চাষে ছাড় মিলবে। স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলিতে ছাড় দাওয়া হবে।

ব্যাংক এবং নন ব্যাংকিং ফিনান্স কোম্পানিতে ছাড় দাওয়া হবে। অঙ্গনওয়াড়ির কাজে ছাড় দাওয়া হবে। জল, বিদ্যুৎ, সাফাইয়ের কাজে ছাড় থাকবে। টেলিকমিউনিকেশন, ইন্টারনেট পরিষেবায় ছাড় থাকবে। কুরিয়ার পরিষেবা এবং পোস্টাল পরিষেবায় ছাড় থাকবে। ই-কমার্স পরিষেবায় ছাড় থাকবে ( কেবল অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে)

বেসরকারি অফিসে ৩৩ শতাংশ কর্মী থাকতে পারবে। বাকি ৭৭ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিতে হবে। শহুরে পাড়ার দোকান, রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সের দোকান খোলা যেতে পারে। ৩৩ শতাংশ কর্মী নিয়ে সরকারি অফিস খোলা হবে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, আইটি, ডেটা ও কলসেন্টার এর পরিষেবায় ছাড় পাওয়া যাবে। হিমঘর, ওয়ার হাউস, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী পরিষেবায় ছাড় দাওয়া হবে।

রেড জোন কি কি নিষেধাজ্ঞা থাকবে?

সাইকেল রিকশা, অটো রিকশা এর মতন স্থানীয় পরিষেবা। ট্যাক্সি ও ক্যাব পরিষেবা। আন্ত:জেলা বাস পরিষেবা। স্পা, সেলুন পরিষেবা। পুরো দেশে ১৩০ টি অঞ্চলকে রেড জোন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

অরেঞ্জ জোনে কি কি ছাড়?

ট্যাক্সি ও ক্যাব পরিষেবা।( একজন চালক ও একজন যাত্রীকে থাকতে পারবে)। আন্ত:জেলায় বিশেষ প্রয়োজনে অনুমতি সাপেক্ষে গাড়ি চলাচল। ২ জন যাত্রী নিয়ে চার চাকার গাড়ি চলাচল। দু’চাকার ক্ষেত্রে চালকের সঙ্গে পিলিয়ন রাইডারকে ছাড় দাওয়া হবে।

গ্রীন জোনে কি কি ছাড়?

গ্রিন জোন অঞ্চল গুলিতে লক ডাউন কে হালকা করা হবে। বাস পরিষেবা চালু হবে ( এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ যাত্রী থাকতে পারে)। বাস ডিপোয় ৫০ শতাংশ কর্মী থাকবেন। বিশেষ প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমতিসাপেক্ষে ব্যাক্তি বিমান-রেল বা সড়কপথে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে বিশেষ কোনও কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমতিসাপেক্ষে কোনও ব্য়ক্তি বিমান-রেল বা সড়কপথে যাতায়াত করার সুযোগ পাবেন। সমস্ত জোনে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, যাঁদের কো-মরবিডিটি রয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা ও ১০ বছরের কম বয়সীদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের কোন কোন জেলা কোন জোনে

রেড জোন  দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া ও কলকাতা
অরেঞ্জ জোন  মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া ও হুগলি
গ্রীন জোন  আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম