মা দুর্গার হাতে থাকা ১০ অস্ত্রের তত্‍পর্য কি?

কোথাও তিনি ‘কন্যাকুমারী’ নামে পূজিত হন তো কোথাও ‘অম্বিকা’, কোথাও ‘জয়দুর্গা’ তো কোথাও ‘হিংলাজ’। তাঁর অন্যান্য নামসমূহ হল চণ্ডিকা, যোগমায়া, অম্বিকা, বৈষ্ণবী, মহিষাসুরসংহারিণী নারায়নী, মহামায়া, কাত্যায়নী ইত্যাদি। ভারতবর্ষে দেবী দশভুজা। শুধু কি তাই। বিদেশের মাটিতেও রয়েছে তার প্রভাব যেমন -জাপানী দুর্গা বা “জুনতেই ক্যানন” ১৮ হাতের দুর্গা রুপ। মহাযান পরিব্রাজকদের হাত ধরে দেবীর এই রূপ জাপানে পৌঁছায় ৭০০ শতাব্দীর কাছাকাছি। তবে ‘মহামায়া’ বা দুর্গতিনাশিনী সম্পর্কে এমনও কিছু তথ্য রয়েছে যা অনেকেই অজানা৷ তাহলে চলুন দেখা যাক মায়ের হাতের অস্ত্র কি অর্থ বহন করে –

শঙ্খ:  যা জীব জগতে প্রাণের সৃষ্টি করে। পুরাণ মতে, শঙ্খের ধ্বনি থেকে জীব জগতের সমস্ত প্রাণের সৃষ্টি। সৃষ্টির প্রতীক এই শঙ্খ। এই শঙ্খ প্রদান করে ছিলেন বরুন দেব।

চক্র: মায়ের হাতে চক্র তুলে দিয়েছিলেন স্বয়ং বিষ্ণু৷ যার অর্থ এই যে সমস্ত সৃষ্টি ও জগতের মূলে অধিষ্ঠান রয়েছেন দেবী দুর্গা। মা দুর্গার হাতে ঘুরনয়নরত  চক্র। এর অর্থ হল সমস্ত সৃষ্টির কেন্দ্রে রয়েছেন দেবী দুর্গা। এবং তাঁকে কেন্দ্র করে সমস্ত বিশ্ব আবর্তিত হচ্ছে।

গদা: যমরাজ প্রদান করেছিলেন কালদণ্ড বা গদা৷ যা হল আনুগত্য, ভালবাসা এবং ভক্তির প্রতীক।

পদ্ম: জগৎ সৃষ্টি কারাক ব্রহ্মা দেবীর হাতে তুলে  দিয়ে ছিলেন পদ্ম৷ পাঁকে জন্মায় পদ্ম। তবু আর সৌন্দর্যের তুলনা নেই। তেমনই মায়ের আশীর্বাদে যেন অন্ধকারের মধ্যেও আলোর আবির্ভাব হয় সেই বার্তাই দেয় পদ্ম ফুল। দেবীর হাতের পদ্ম মানব  সমাজের কাছে এক অন্যতম বার্তা বহন করে।  অসুর বা অশুভ শক্তির বিনাশ আর শুভ শক্তির আনয়ন।

ত্রিশূল: দেবী দুর্গার  হাতে ত্রিশূল তুলে দিয়েছিলেন দেবাদিদেব মহাদেব৷ শোনা যায়, ত্রিশূলের তিনটি ফলার আলাদা আলাদা অর্থ রয়েছে। মানুষ অন্যতম তিনটি গুণ,যথা  তমঃ, রজঃ ও সত্যকে ব্যাখ্যা করে এই  ত্রিফলা৷ ত্রিশূলের তিনটি তীক্ষ্ণ ফলার তিনটি আলাদা আলাদা অর্থ রয়েছে। মানুষ তিনটি গুণ বা ত্রিগুণার সমন্বয়ে তৈরি যথা তম:, রজ:  এবং সত্য। ত্রিশূলের তিনটি ফলা এই তিনটি গুণকেই নির্দেশ করে।

বজ্রাস্ত্র: দেবরাজ ইন্দ্র দিয়েছিলেন বজ্রাস্ত্র৷ মায়ের হাতের এই অস্ত্র দৃঢ়তা এবং সংহতির প্রতীক বহন করে।

সাপ: নাগরাজ এই সর্প দিয়েছিলেন৷ বিশুদ্ধ চেতনার প্রতীক হল এই সাপ।

অগ্নি:অগ্নিদেব দিয়েছিলেন এই অস্ত্র৷ জ্ঞান এবং বিদ্যার প্রতীক এই অগ্নি।

তির-ধনুক: বায়ুদেব দেবীকে  ধনুক ও তির দ্বারা সজ্জিত করেছিলেন৷ উভয়ই ইতিবাচক শক্তির প্রতিক৷ শক্তির বার্তায় বহন করে এই তীর-ধনুক। তীর পোটেনশিয়াল এনার্জির চিহ্ন। আর ধনুক কাইনেটিক এনার্জির চিহ্ন।

তলোয়ার: তলোয়ারের অর্থ গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানুষের বুদ্ধির প্রতীক৷ যার জোরে সমস্ত বৈষম্য এবং অন্ধকারকে ভেদ করতে পারে মানুষ৷ তলোয়ারের ধার যেন আসলে মানুষের বুদ্ধির ধার। এই ধার দিয়ে যেন সমাজের সমস্ত বৈষম্য, অন্ধকার এবং অশুভ শক্তির জয় মানব জাতি করতে পারে, সেই বার্তাই বহন করে দেবীর হাতের এই তলোয়ার।

সবশেষে এটাই বলা চলে মা দুর্গা হলেন শুভ শক্তির প্রতীক। দুর্গতিনাশিনী, জগৎ এর মঙ্গলময়ী, করুণাময়ী।  তিনিই আদি তিনিই অন্ত।