রেলের তৎকাল টিকিট বুকিং করার নতুন নিয়মগুলো জানেন কি ?

ভারতীয় রেল পৃথিবীর মধ্যে যাত্রী পরিবহনে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করে প্রতিদিন।আর এই যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে তৎকাল পরিষেবার মাধ্যমে টিকিট সংরক্ষণ করেন হাজার হাজার মানুষ। সাধারণত তৎক্ষনাৎ টিকিট নিশ্চিত করার জন্য এই পরিষেবার গুরুত্ব অপরিসীম।যদিও এই পরিষেবায় বাড়তি কিছু টাকা লাগে, তবে যাত্রীদের তাদের প্রয়োজনীয় ট্রেন পেতে মুশকিলে পড়তে হয় না। তবে এই তৎকাল সংরক্ষণ নিয়ে অনেক সময়ই কালোবাজারি হয়ে থাকে বলে আমরা শুনতে পাই।আর তাই আই আর সি টি সি (IRCTC) এই তৎকাল পরিষেবার মাধ্যমে টিকিট সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কনফার্মড টিকিটের  সংরক্ষণ বাতিল হলে সব ক্ষেত্রেই টাকা ফেরত দেবে না।তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে টিকিট বাতিল করলে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।আর সেইসব বিশেষ ক্ষেত্রগুলি হলো

তৎকাল টিকিট বুকিং করার জন্য নতুন নিয়ম

১) অনলাইনে এসি তত্‌কাল টিকিট কাটার সময় শুরু সকাল ১০টা থেকে এবং নন এসি তত্‌কাল টিকিট বুকিং শুরু সকাল ১১টা থেকে।

২) যে ট্রেনের আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে, সেই ট্রেন যদি তিন ঘণ্টা দেরিতে চলে নির্ধারিত পূর্বের সূচী অনুযায়ী তাহলে আপনাকে আপনার টিকিটের ভাড়া ফেরতের দাবি জানাতে পারবেন।

৩) যে রুটে ট্রেনটি যাওয়ার কথা ছিল, সেই রুটে  না গিয়ে অন্য রুটে যদি ট্রেনটি যায় তাহলে আপনি পুরো ভাড়া ফেরতের জন্য দাবি জানাতে পারবেন।

৪) যদি কোনও যাত্রীর তত্‌কালের নির্দিষ্ট কোচ ট্রেন থেকে আলাদা হয়ে যায়, এবং তাঁকে সেই একই পরিষেবা না দেওয়া হয়, তাহলে সেই যাত্রী তাঁর টিকিটের পুরো ভাড়া ফেরতের দাবি জানাতে পারেন।

৫) যদি কোনও যাত্রীর লোয়ার ক্লাসে যাত্রা পছন্দ না হয়, এবং তাঁকে লোয়ার ক্লাসই দেওয়া হয়, তাহলে সেই যাত্রী টিকিটের পুরো ভাড়া ফেরতের দাবি জানাতে পারেন।

এছাড়াও ভারতীয় রেল আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে তৎকাল পরিষেবার অপব্যবহার বন্ধ করা যায় ও কালোবাজারি বন্ধ করা যায়।

  • সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে তৎকাল টিকিট সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মাত্র ২টি টিকিট সংরক্ষণ করা যাবে একটি ইউজার আই ডি ব্যবহার করে।
  • গন্তব্যস্থল থেকে ফিরে আসার ক্ষেত্র ছেড়ে একটি নির্দিষ্ট সেশনে একটাই তৎকাল টিকিট সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়া হবে।
  • টিকিট সংরক্ষণের প্রথম আধ ঘণ্টা কোনো অনুমতিপ্রাপ্ত টিকিট সংরক্ষণকারী এজেন্সি দিয়ে টিকিট বুকিং করা যাবে না।যাতে সাধারণ টিকিট সংরক্ষণকারীও বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে হাতের নাগালে টিকিট পেতে পারে তাই এই ব্যবস্থা।এছাড়াও বিভিন্ন অনুমতিপ্রাপ্ত এজেন্টরা  টিকিট বুকিং করতে পারবে না এই এই সময়ে ।যেমন
  • সকাল ৮টা থেকে ৮.৩০পর্যন্ত, সকাল ১০টা থেকে ১০.৩০টা পর্যন্ত এবং  সকাল ১১টা থেকে ১১.৩০ পর্যন্ত।এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে অধিকাংশ টিকিট এজেন্টরা কুক্ষিগত না করতে পারে।
  • ক্যাপচা কোডের ব্যবহার এবার থেকে বাড়ানো হবে  সংরক্ষণের বিভিন্ন স্তরে বা পাতায়, যাতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়ার ব্যবহার করে টিকিট  বুকিংয়ের মতো জালিয়াতি না হয়।
  • ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং পেমেন্টের ক্ষেত্রে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড  প্রদান করা হবে।
  • সর্বনিম্ন অপেক্ষার সময়ের ব্যবস্থা করা হবে টাকা পেমেন্ট করার সময় এবং অনলাইনে টিকিট বুকিং করার  সময় পেমেন্ট জমা করার পর।
  • শীততাপ নিয়ন্ত্রিত  শ্রেণীর কামরার ক্ষেত্রে তৎকাল আসন  বুকিং শুরু হবে সকাল ১০টা থেকে ,শীততাপ নিয়ন্ত্রণহীন শ্রেণীর কামরায় আসন বুকিং করা হবে সকাল ১১ টা থেকে।যেদিনের ট্রেনের সফর শুরু হবে তার একদিন আগে থেকে এই সংরক্ষণ করা যাবে।তৎকাল টিকিট সংরক্ষণ করা যাবে আই আর সি টি সি(IRCTC) এর ওয়েসাইটের মাধ্যমে। বা সারা দেশে  ১০,০০০ কাউন্টারের মাধম্যে যার মধ্যে ৩৪৬৫ টি কম্পিউটার দ্বারা চালিত।