মেলেনি ড্রাগস! তবুও কেন জামিন পাচ্ছে না আরিয়ান, সহজ ভাষায় বুঝুন আইনি মারপ্যাঁচ

তিন সপ্তাহের পরও কেন জামিন পাচ্ছে না আরিয়ান, কোন জটে আটকে পড়েছেন আরিয়ান

Here is Why has Aryan Khan failed to get bail despite no drugs being found on him

শাহরুখ খানের সন্তান আরিয়ান খান (Aryan Khan) বলিউডের ড্রাগ বিতর্কের (Drug Case) সঙ্গে জড়িয়েছেন। এর আগে এই জটিলতায় বলিউডের বহু নামিদামি ব্যক্তিত্বের নাম জড়িয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগকেই স্রেফ জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আরিয়ানের বেলায় তেমনটা হচ্ছে না। ঘোরতর আইনের মারপ্যাঁচে জড়িয়েছেন আরিয়ান। জামিন এবং জেল ভারতীয় দণ্ডবিধিতে দুইয়েরই উল্লেখ রয়েছে। আইন অনুযায়ী ১৯৭০ এর সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদের মাধ্যমে কার্যকর করা যায়। ফৌজদারী কার্যবিধির (CrPC) ৪৩৯ ধারা  অনুযায়ী সেই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতকে ক্ষমতা প্রদান করে।

এই এক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে মাদক বিরোধী আইনের নিয়ম। মাদক সংক্রান্ত মামলা গুলির জন্য প্রধানত নারকোটিক ড্রাগস এন্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সস আইন অর্থাৎ এনডিপিএস আইন লাগু করা হয়েছে। এনডিপিএস আইনে ১৯৮৫ এর অধীনে রয়েছে মামলাটি। এনডিপিএস আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত মাদক দ্রব্য এবং সাইকোট্রপিক পদার্থের চাষ, ব্যবহার, হ্রাস, বিক্রয় বা লেনদেনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরিয়ান খান জড়িয়েছেন এই মামলাতে। কিন্তু কেন জামিন পাচ্ছেন না তিনি?

এনডিপিএস আইনের ৩৭ নম্বর ধারায় মাদক মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক জন অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, প্রথমত, এই আইনের অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে বা তার নিজের বন্ডে মুক্তি পাবে যদি পাবলিক প্রসিকিউটর তার মুক্তির আবেদনের বিরোধিতা না করেন। দ্বিতীয়ত, পাবলিক প্রসিকিউটর আবেদনের বিরোধিতা করলেও আদালত যদি সন্তুষ্ট হয় তাহলে জামিনের আবেদনের যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকছে। সেক্ষেত্রে আদালত যদি মনে করে অভিযুক্ত ব্যক্তি এই ধরনের অপরাধের দোষী নয় এবং জামিনে থাকাকালিন তার কোনও অপরাধ করার সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

কাজেই আরিয়ান মাদক মামলায় পুলিশ বা নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো যদি আদালতে দাবি করে যে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হলে মামলার তদন্ত বাধা পাবে সেক্ষেত্রে জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। এই মামলাতে আইনত অভিযুক্তকে নির্দোষ প্রমাণ করার দায় তার নিজের উপরই বর্তাবে। মুম্বাইয়ের কর্ডেলিয়া ক্রুজ ড্রাগ মামলাতেও একই ঘটনা ঘটেছে। শাহরুখপুত্র আরিয়ানসহ যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সকলেই এখন জেল হেফাজতে রয়েছেন। তারা কেউই জামিন পাচ্ছেন না।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এনডিপিএস আইনের অধীনে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে সেই জামিনের রায় বাতিল করে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তির দাবি ছিল তার কাছে কোনও অবৈধ জিনিস পাওয়া যায়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল এই যে, ওই ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি। আরিয়ানের আইনজীবীও জামিনের আবেদনের উল্লেখ করেছিলেন আরিয়ানের থেকে কোনও মাদক মেলেনি। তবে তার সেই দাবি কার্যত ধোপে টেঁকেনি।

এখন আরিয়ানকে জামিন পেতে হলে তাকে প্রথমে আদালতের কাছে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি অপরাধপ্রবণ মানসিকতার ব্যক্তি নন। তাকে এও প্রমাণ করতে হবে যে তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে মাদক মামলায় আরিয়ান এমনভাবে জড়িয়ে পড়েছেন যে প্রাথমিক শর্ত পূরণ করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় শর্তে তার জামিনের মামলাটি আটকে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।