করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে ভুল করে চলে এলে কি করবেন

ছয় মাস হয়ে গেল তবু এখনও রেহাই মেলেনি নোবেল করোনা ভাইরাসের হাত থেকে। আর এদিকে সংক্রমনের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে প্রতিদিন। খুলে গেছে অনেক অফিস এবং সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলেই কাজ করছেন রীতিমত। আর বাজার ঘাট তো করতেই হবে। এর মধ্যেই অনেকই করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসতে পারেন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে করোনার উপসর্গ লক্ষ করা যায় না, ফলে সে আক্রান্ত কিনা তা বোঝা বেজায় মুশকিল হয়ে পড়ে।

করোনা সংক্রমণ এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছু বিধি নিষেধ মেনে চলতে পরামর্শ দিয়েছে। হু এর নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ির বাইরে বেরোলে সব সময়ে মাস্ক পরে বেরোবেন এবং অন্য যে কোনো ব্যক্তির থেকে ৬ ফুট দুরত্ব বজায় রাখবেন। এই নিয়ম কম বেশি সকলেই জানে কিন্তু, সব সময় তা মেনে চলা সম্ভব হয় কি?

যেমন ধরুন আপনি কয়েকদিন আগে কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে অজান্তেই এসেছেন, তার সঙ্গে দেখা করেছেন কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরে জানতে পারেন তিনি করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি ছিলেন। এমন হলে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। বরং নিজেকে কি করে এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করবেন সেটিই জেনে নিন।

নিজেকে কোয়ারেন্টাইনে রাখুন :-  যদি আপনার মনে হয় যে আপনি করোনা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন, তবে প্রথমেই যেটা করনীয় তা হলো নিজেকে ১৪ দিনের সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকা। করোনার উপসর্গ দেখা দিতে ১০ থেকে ১৪ দিন লাগে। যার কারণে অনেকেই নিজের অজান্তে বাড়ির বাইরে বেরোলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই এই সময়টা বাড়ির অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে একা কাটান। যাতে আপনার পরিবারের মধ্যেও এই রোগ না ছড়িয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় জিনিসত্র বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবারের সদস্যদের দ্বারা দরজার সামনে দিয়ে যেতে বলুন।

করোনার উপসর্গগুলি লক্ষ করুন :-  বাড়িতে থাকা কালীন শরীরে করোনার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কিনা তা লক্ষ করুন। করোনার উপসর্গগুলি যেমন, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি, স্বাদ বা গন্ধ চলে যাওয়া, বমি বমি ভাব, সর্দি, গলা ব্যথা, ডায়রিয়া, মাংসপেশিতে ব্যাথা ইত্যাদি। এই সকল উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তার দেখান।

করোনার পরীক্ষা করুন :- আপনার যদি করোনার উপসর্গ ধরা পরে তবে ডাক্তারের পরমর্শ নিয়ে করোনার পরীক্ষা করিয়ে নিন। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ দিন পর নমুনা পরীক্ষা করান। ফলাফল আসা অবদি কোয়ারেন্টাইনেই থাকুন। ফলাফল পজিটিভ এলে হাসপাতালে যান। তবে যদি ফলাফল নেগেটিভ আসে তাহলে কোনো চিন্তার কারণ নেই ১৪ দিন পর কোয়ারেন্টাইন শেষে বাইরে বেরোতে পারেন।

তবে আরও একটি জরুরি বিষয় মাথায় রাখবেন এবং অন্যদেরকে সতর্ক করবেন। আপনার যদি করোনা র কোনো লক্ষণ না দেখা যায় বা পরীক্ষায়ও নেগেটিভ ফল আসে তবু অন্যকে জানিয়ে দেওয়া জরুরি যে আপনি সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন। কারণ অনেকের মধ্যেই সংক্রমণ লক্ষ করা যায় না তবু তারা ভাইরাসের বাহক হিসেবে কাজ করেন এবং অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে।