ভাত ৭ টাকা, বিরিয়ানি ১২ টাকা, দেখুন সংসদের ক্যান্টিনে খাবারের দাম

অবশেষে সংসদের ক্যান্টিনে বন্ধ হলো সমস্ত রকমের খাবারে ভর্তুকি। স্পিকারের সাথে আলোচনায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাংসদরা। এবার থেকে সংসদের ক্যান্টিন থেকে সাংসদদের বাজার দরেই খাবার কিনতে হবে। সংসদের ক্যান্টিন থেকে সাংসদদের খাবারের জন্য ভর্তুকিতে এযাবত সরকারের খরচ হত বছরে প্রায় ১৪ থেকে ১৭ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতো রাজকোষ থেকে।

সংসদের এই ক্যান্টিনে ভর্তুকি বাবদ সরকারের খরচ হতো বছরে কম করে ১৭ কোটি টাকা। ক্যান্টিনে ভর্তুকি দেওয়ার এই নিয়ম স্বাধীনতার পর থেকেই চলে আসছে। ফলে সাংসদরা অনেকটাই সস্তায় খাবার পেতেন। বর্তমান বাজারের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদের ক্যান্টিনে ৫০ টাকায় দেওয়া হতো চিকেন কারি। ৩৫ টাকায় মিলতো ভেজ থালি। থ্রি কোর্স মিলের দাম ছিল ১০৬ টাকা। ১২ টাকায় পাওয়া যেত সাদা ধোসা। ২০১৮ সালে করা একটি আরটিআই থেকে এই সকল তথ্য পাওয়া যায়। যার পরেই বহু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন।

এই সকল ক্ষোভ দেখে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে বছর খানেক ধরেই ক্যান্টিনে সাংসদদের খাবারের ভর্তুকি তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। অধিকাংশ সাংসদ ভর্তুকি তুলে নেওয়ার পক্ষে নিজেদের মতামত পোষণ করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই ভর্তুকি উঠবে উঠবে এমনটা খবর হওয়ার পর অবশেষে এদিন ভর্তুকি তুলে নেওয়ার ঘোষণা করলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

সংসদের ক্যান্টিনে খাবারের দাম

ভর্তুকি দিয়ে সাংসদরা সংসদের ক্যান্টিন থেকে Bread and Butter পেতেন মাত্র ৬ টাকায়, Chapatti পেতেন মাত্র ২ টাকায়, Chicken Curry পেতেন মাত্র ৫০ টাকায়, Chicken cutlet (per plate) পেতেন ৪১ টাকায়, Tandoori Chicken পেতেন ৬০ টাকায়, Coffee পেতেন ৫ টাকায়, Dosa Plain ১২ টাকায়, Fish Curry ৪০ টাকায়, Hyderabadi Chicken Biryani পেতেন মাত্র ৬৫ টাকায়, Mutton Curry পেতেন ৪৫ টাকায়, Rice (boiled) পেতেন ৭ টাকায়, Soup পেতেন ১৪ টাকায়।

বয়েল্ড ভেজিটেবল ১২ টাকা, ব্রেড পাকোড়া ১৪ টাকা, চাপাতি ২ টাকা, চিকেন কারি ৫০ টাকা, চিকেন কাটলেট ৪০ টাকা, চিকেন তন্দুরি ৫০ টাকা 25 টাকা, চিকেন তন্দুরি ৫০ টাকা, মাছের ঝোল ৪০  টাকা টাকা, হায়দ্রাবাদি মটন বিরিয়ানি ৬৫ টাকা, হায়দ্রাবাদী চিকেন বিরিয়ানি ৫৫ টাকা, ক্ষীর ১৮ টাকা, মটর পনির ৩০ টাকা, স্পেশাল অমলেট ১২ টাকা, এক কাপ চা ৫ টাকা,  স্যান্ডউইচ ১২  টাকা।

ভারতবর্ষের সাংসদরা স্বাধীনতার পর থেকেই সংসদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাওয়ার পর সংসদের ক্যান্টিন থেকে শুরু করে অন্যান্য নানান সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই সকল খাবারে ভর্তুকি দিতে গিয়ে সরকারের কোষাগার থেকে বছরে যা খসতো তার পরিসংখ্যান হলো ২০১২-১৩ সালে ১২.৫২ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ সালে ১৪.০৯ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ সালে ১৫.৮৫ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ সালে ১৫.৯৭ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ সালে ১৫.৪০ কোটি টাকা।

সাংসদরা অন্যান্য সকল সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও সংসদের ক্যান্টিনে খাবারের ভর্তুকি নিয়ে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান অভিযোগ তুলতে থাকেন সাধারণ জনগণ। শুধু অভিযোগ নয় রীতিমতো আন্দোলন গড়ে তোলেন তারা।প্রশ্ন উঠতে থাকে মূল্যবৃদ্ধির ফলে যখন সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা তখন কেন সাংসদরা এইভাবে ভর্তুকি পাবেন?

আরও পড়ুন :- সাংসদরা কত টাকা বেতন ও কী কী সুবিধা পান

আলোচনার পর সংসদের স্পিকার ওম বিড়লা জানান, “সব সাংসদদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো আজ থেকে সংসদের ক্যান্টিন থেকে খাবারে ভর্তুকি বন্ধ করার।”