করোনা আবহে হাসপাতাল থেকে সংক্রমণ এড়াতে মানতে হবে ৫টি নিয়ম

দেশজুড়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দেড় লক্ষের সীমা পার করেছে। চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছে কোভিড চিহ্নিত হাসপাতালগুলি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন খোদ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা কর্মীরা। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড় সংক্রমণের মাত্রাকে আরও বাড়াচ্ছে। মাঝে মাঝেই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে হাসপাতালগুলি।

বর্তমানে করোনা আক্রান্ত রোগীর ভিড়ে হাসপাতালগুলি হয়ে উঠছে সংক্রমণের প্রধান কেন্দ্র। করোনা ছাড়াও অন্য রোগের চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাদের পরিবারের লোকদের সংক্রামিত হওয়ার সম্ভবনা দ্রুত বাড়ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালেগুলিতে যাওয়ার উপরে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

জোর দেওয়া হচ্ছে অনলাইন চিকিৎসার উপর। চিকিৎসকরাও অনেকক্ষেত্রে ফোনে বা অনলাইনে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া শুরু করেছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসার বা জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে হাসপাতাল বা নার্সিংহোম গুলিতে রোগীরা চিকিৎসা করতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে জরুরি কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যাবার আগে জেনে নিন সেই হাসপাতালগুলিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে কিনা। যদি অন্য কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সম্ভব হলে করোনা চিহ্নিত হাসপাতালেগুলি পরিহার করুন। যদি যেতেই হয়, চূড়ান্ত প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্ৰহণ করুন। মাস্ক, হাতের গ্লাভস, টুপি, চশমা, ফুলহাতা জামা, জুতো ব্যবহার করুন।

হাসপাতালে ঢোকার আগে ও বেরোবার পর সাবান জল বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর বেশ কিছুক্ষণ বাড়ির সদস্যদের সংস্পর্শে আসবেন না। হাসপাতালে ব্যবহার করা জামা কাপড় গরম জলে ধুয়ে ফেলতে হবে।

হাসপাতালে প্রবেশ করার পর দরজার হাতল, সুইচ, হাসপাতালের বেডের চাদর, অপরিচ্ছন্ন বাধরুম ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করুন। করোনা চিকিৎসারত হাসপাতালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারদের পরামর্শ ও নির্দেশাবলী মেনে চলুন। হাসপাতালে টাকাপয়সা লেনদেনের পর হাত ভালো করে ধোয়া জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলি যেমন সেরে ওঠার একমাত্র জায়গা সেরকম হাসপাতালেই সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই সম্ভব হলে অনলাইন ব্যবস্থার সুযোগ নিন।

যদিও অনলাইন প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার মতো অবস্থা বহু মানুষেরই নেই। সেক্ষেত্রে সতর্কতাও আগাম প্রতিরোধ অবলম্বনই করোনা ভাইরাস রোখার একমাত্র পথ।