বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে করোনা, সংক্রমণের থেকে বাঁচতে মেনে চলুন ৬টি টিপস

অর্ধেক বছর কেটে গেল তবু এখনও বের হইনি কোনও প্রতিষেধক। ভাইরাসের কবল থেকে রেহাই পায়নি বিশ্বের কোনো দেশ। আর যতদিন যাচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যাটা ততই বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে প্রতিদিন কোভিড-১৯ নিয়ে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। সংক্রমণের প্রথমদিকে জানা গিয়েছিল কেবল হাঁচি বা কাশি থেকে নির্গত ড্রপলেটের মাধ্যমেই করোনা ভাইরাস ছড়ায়।

তবে সম্প্রতি, নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাতাসের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই কথা স্বীকার করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারীর টেকনিক্যাল লিড মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেছেন, “আমরা বাতাসের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছি।”

বাতাসে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস?

যখন কোনও সংক্রামিত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দেয় তখন ভাইরাসটি তার দেহ থেকে বাতাসে প্রবেশ করে। এই ভাইরাস বাতাসে বেশ কয়েক ঘন্টা জীবিত থাকে এবং এই বায়ুতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া ব্যক্তিকে সংক্রামিত করতে পারে।

কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

১) সর্বদা মাস্ক ব্যবহার করতে হবে :- যেহেতু এটি বায়ুবাহিত রোগ, তাই বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সবসময় মাস্ক ব্যবহার করুন। সংক্রমণ এড়াতে N95 মাস্ক সবথেকে শক্তিশালী। সর্বদা মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক ছাড়া বাইরে বেরোনো যাবে না। ভিড় এলাকা এড়িয়ে চলুন।

২) ফেস শিল্ড :- ভারতে এখন অনেক অফিসই খুলে গেছে। যদি কাজের জন্য বা অন্য কারণে কোনো ভিড় এলাকায় যেতে হয়, তবে ফেস ফিল্ড পড়ে যান। এর ফলে বাতাস থাকা ভাইরাস আপনার মাস্কে প্রবেশ করতে পারবে না।

৩) স্বাস্থ্যকর্মীদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে :- করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইনে যে সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা ও ডাক্তাররা দিনরাত এক করে লড়ে যাচ্ছে তাদের সুরক্ষা সবার আগে। তাদের কাছে সবথেকে বড় অস্ত্র হলো মাস্ক। আপনি যদি স্বাস্থ্যকর্মী হন তাহলে সর্বদা মাস্ক করে থাকুন। করোনা ভাইরাস আকারে খুবই ছোটো কেবল পাঁচ মাইক্রন এবং নিঃশ্বাসের সময় ও তা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে তাই কোনো সংক্রমিত ব্যক্তি আশেপাশে শ্বাস-প্রশ্বাস নিলেও আপনার দেহে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪) সামাজিক দূরত্ব :- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ কেরখোভ জানিয়েছেন, কেবল মাস্ক ব্যবহার করলে হবে না তার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যে কোনও ব্যক্তির সাথে কথা বলার আগে তার থেকে এক মিটারের বেশি দূরত্ব বজায় রাখুন। কারণ বিজ্ঞানীদের মতে জোড়ে কথা বলার সময় ও ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

৫) এয়ার কন্ডিশনার :- এই গরমে অনেকের বাড়িতে এবং অফিসে এয়ার কন্ডিশনার চলে। তবে মাধ্যমেও ভাইরাস বহুদূর ছড়িয়ে পড়তে পারে। আপাতত এয়ার কন্ডিশন এর ব্যবহার অফিস ও বাড়িতে বন্ধ করতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার রুম যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৬) বাড়িতে বন্ধ ঘর :– বাড়িতে বা বাইরে বন্ধ কোন ঘরে না থাকাই ভালো। এই সময় ঘরের জানলা ও দরজা সর্বদা খোলা রাখুন যাতে বায়ু চলাচল করতে পারে। বন্ধ ঘরের বাতাসে ভাইরাস থেকে যায় ও ঘরের মধ্যেই তা ঘুরতে থাকে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।