হাতে আর একদিন, ট্যাবের জন্য ১০,০০০ টাকা পেতে আবেদন করুন এইভাবে

করোনাভাইরাস এর জন্য দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ। এইরকম পরিস্থিতিতে অনলাইনে পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে। কিন্তু অনলাইনে পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় সমস্যা হলো স্মার্ট ফোন। গ্রামের অধিকাংশ পড়ুয়াদের কাছে স্মার্টফোন নেই। তাই তারা অনলাইনের পড়াশোনায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য চলতি মাসের গোড়ার দিকে মুখ্যমন্ত্রী জানান উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা গুলির দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের অনলাইনে পঠন-পাঠন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্যাব প্রদান করা হবে সরকারের তরফ থেকে। কিন্তু সপ্তাহ খানেক আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান পড়ুয়াদের সরাসরি ট্যাব দেওয়া হবে না বরং সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা পাঠানো হবে।

নবান্নের তরফ থেকে এই প্রসঙ্গে বলা হয় যে, এই সময় চীনা পণ্যের কেনাকাটা বন্ধ থাকায় ট্যাব কেনার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। টেন্ডার দিয়ে ট্যাব কেনার ক্ষেত্রে বড়জোর এক থেকে দেড় লাখ ট্যাব পাওয়া যাবে। কিন্তু এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়। কারণ রাজ্যের ১৪,০০০ উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের গণনা করলে মোট ট্যাব দিতে হবে সাড়ে ৯ লাখ। এছাড়া হাতে বেশি সময় ও নেই তাই ব্যাঙ্ক একাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি ১০,০০০ টাকা পাঠানো হবে।

এই টাকা পড়ুয়াদের প্রদান করা হবে ট্যাব অথবা প্রয়োজনীয় ডিভাইস কেনার জন্য। এই পুরো বিষয়টি দেখার জন্য আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে আর সেই কমিটির ওপর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই প্রক্রিয়াটিকে শেষ করার।

শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রতিটি স্টুডেন্টকে ট্যাব পাওয়ার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া করতে হবে অনলাইন এর মধ্য দিয়ে। সেই অনুযায়ী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই অর্থাত্‍ আজকের মধ্যেই রাজ্য সরকারের ‘বাংলার শিক্ষা’  পোর্টালে অর্থাৎ banglarshiksha.gov.in পোর্টালে যাবতীয় তথ্য আপলোড করতে হবে।

সেই পোর্টালে জমা দিতে হবে পড়ুয়াদের তথ্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও আইএফএসসি কোড। উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল গুলিকে নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগ ইন করে সেই তথ্য ও আপলোড করতে হবে। আজকের মধ্যে এই তথ্যগুলি দিয়ে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে ১০ হাজার টাকা পাঠাবে রাজ্য সরকার।

তবে সরকারি পোর্টালে আপলোড করার দায়িত্ব স্কুল কর্তৃপক্ষের। তবে রাজ্যের স্কুলগুলির দাবি, দ্বাদশ শ্রেণীর বহু পরিবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। পাশাপাশি সরকারি পোর্টালের গতি মন্থর হওয়ার কারণে এই তথ্য আপলোড করতে অত্যন্ত বেগ পেতে হচ্ছে। তাই স্কুল কতৃপক্ষ এই তথ্য আপলোড করার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি করছেন যাতে কোনও পড়ুয়া অনুদান থেকে বঞ্চিত না হয়।