ঘামাচি থেকে ১০০% মুক্তি! জেনে নিন ঘরোয়া উপায়

প্রচন্ড গরমে নাকাল দেশবাসী। কাঠফাটা রোদ আর প্রখর তাপে ওষ্ঠাগত প্রাণ। বৃষ্টির দেখা নেই। এই গরমে এলার্জি, ঘামাচি, জ্বরসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়। তবে গরমে একটি সমস্যা খুব বেশি দেখা দেয় তা হল ঘামাচির সমস্যা। তীব্র গরম আর রোদের দাবানলে যেমন দেশ পুড়ছে তেমনি মানুষের দেহের ত্বকেও নানান সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে কমন হলো ঘামাচি। ঘামাচির সমস্যা অনেকের থাকলেও বেশিরভাগ মানুষই জানেন না যে ঘামাচি তাড়াতে ঘরোয়া উপায়ই যথেষ্ট।

ঘামাচি কেন হয়?

ঘামাচির সমস্যা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হল ঘাম জমে যাওয়া। আমাদের চামড়ায় ঘামের জন্য যে ধুলো ময়লা জমে যায় তা থেকেই ঘামাচি হয় মূলত। বিজ্ঞানের ভাষায় একে মিলিয়ারিয়া বলে। এটি তাই বলা যায় মূলত আমাদের ঘর্মগ্রন্থির সমস্যা। যখন ওই ময়লা দিনের পর দিন ধরে ঘর্মগ্রন্থির নিচে জমা হয় আর তা জমে ফুসকুড়ির আকার নেয়, তখনই তাকে আমরা বলি ঘামাচি। যখন খুব স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ হয়ে যায় তখন ঘামাচির প্রকোপ বাড়ে। কারণ তখন ঘামের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবও বেড়ে যায়।

কেন ঘামাচি হয় তো জানলেন। কিন্তু ঘামাচির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন কী করে? আসুন জেনে নেওয়া যাক গরমে ঘামাচির হাত থেকে বাঁচার কয়েকটি সহজ উপায়…

মুক্তির উপায়

গরমকালে ঘাম হবেই। চেষ্টা করুন কিছুক্ষণ অন্তর ঘাম মুছে ফেলতে। তবে ঘাম মোছার সময় অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মুছবেন না। আর সবসময় পরিস্কার নরম রুমাল ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে সঙ্গে অতিরিক্ত রুমাল রাখুন।

দিনে দুবার স্নান করুন। স্নান করতে কোনও কম ক্ষারযু্ক্ত সাবান ব্যবহার করুন। ঘামাচি থাকলে বেশি ঘষবেন না। স্নানের জলে কোনও অ্যান্টি-সেপটিক লোশান ব্যবহার করুন। তা ছাড়াও স্নানের জলের বালতিতে লেবুর রস, নিম পাতার রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে ত্বক ফ্রেশ থাকবে এবং জীবাণু কম হবে।

হালকা রঙের ঢিলে পোশাক পড়ুন। বেশি ডার্ক রঙের জামাকাপড়, টাইট জামা পড়া এড়িয়ে চলুন। প্রচুর পরিমাণে জল খান। খাবার পাতে রাখুন প্রচুর পরিমাণে ফল আর শাক-সবজি।

ঘামাচি হলে একদম চুলকাবেন না। অ্যালোভেরার রস, নিম পাতার রস, পাতিলেবুর রস জলে মিশিয়ে পাতলা করে নিয়ে লাগাতে পারেন। ট্যালকম পাউডার ব্যবহার না করাই ভালো। এতে লোমকূপের মুখ বুজে হিতে বিপরীত হতে পারে।

ঘামাচি হলে কি লাগাবেন?

ঘামাচি তাড়াতে অ্যালোভেরা ভালো কাজ করে। ঘামাচির উপর শুধু অ্যালোভেরার রস বা হলুদের সঙ্গে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।

মুলতানি মাটির সঙ্গে এক চা চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। এরপর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ নিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধরে ঘামাচির উপর ভালোভাবে লাগান। এতে ভালো ফল পাবেন।

এক কাপ ঠাণ্ডা জলে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার কাপড় ডুবিয়ে ঘামাচির উপর ১০ মিনিট পর্যন্ত রেখে আলতো হাতে মুছতে থাকুন।

ঘামাচি তাড়াতে নিমপাতা খুব ভালো কাজ করে। নিমপাতার রসের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। ঘামাচি না চুলকে তার উপর নিমডাল বোলালেও আরাম পাবেন।

২ টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। ফল পাবেন খুব তাড়াতাড়ি।

৩ টেবিল চামচ ওটমিলের সঙ্গে অর্ধেক টেবিলচামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।