কীভাবে ঠিক করা হবে রেড জোন গ্রীন জোন, কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা

লকডাউনের তৃতীয় ধাপে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত দেশকে তিনটি জোনে ( গ্রীন, অরেঞ্জ, রেড) ভাগ করে বিভিন্ন পরিষেবা চালু করেছিল। তারপরই বহু রাজ্যের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে দাবি জানানো হয় যে রাজ্যের কোন অংশ কোন জোনের মধ্যে পড়ে, বা কোত্থাও কিরকম পরিষেবা চালু করা হবে সেই বিষয় রাজ্য সরকারগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে দিক কেন্দ্র। অবশেষে রবিবার সেই কথাই মানলো কেন্দ্র।আজ থেকে চতুর্থ দফার লক ডাউন শুরু হয়েছে সমগ্র দেশে। রাজ্যের মধ্যে কোন অঞ্চল কোন জোন তা রাজ্যগুলি চিহ্নিত করতে পারবে তবে কেন্দ্রীয় বিধি মেনে এই কাজ করতে হবে রাজ্যকে।

রবিবারই এই জোন ভাগের নিয়ম গুলো নির্ধারন করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্র সরকারের নির্দেশিকায় মূলত দুটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

১. রাজ্যের বিভিন্ন এলাকাকে জোনে ভাগ করার ক্ষেত্রে কোন এলাকায় করোনা সংক্রমণের সক্রিয় কেস, প্রতি লাখে সক্রিয় কেসের সংখ্যা, সাত দিনে সংক্রমণ দ্বিগুণের হার, করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হার, প্রতি লক্ষে কত জনের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে ও পজিটিভ আসছে সেই সংখ্যা – মূলত এই কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই জোন ভাগের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

২. আগে যেমন কোনো একটি জেলাকে সামগ্রিক রূপে যেকোনো একটি জোনের আওতায় আনা হত, এখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে আলাদা করে যেকোনো একটি জোনের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। অর্থাৎ এখন থেকে রাজ্যগুলি জেলা বা কর্পোরেশন এলাকা বাদেও নির্দিষ্ট মহকুমা, ওয়ার্ড বা কোনও প্রশাসনিক অঞ্চলকেও যেকোনো একটি নির্দিষ্ট জোনের আওতাধীতে ফেলতে পারে। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দ্বারা জারি করা নির্দেশিকা মানতে হবে।ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলির কাছে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব প্রীতি সুদান।

আগে সম্পূর্ণ জেলাভিত্তিক ভাবে যখন কেন্দ্রীয় সরকার জোন ভাগ করে তখন বিভিন্ন রাজ্যের তরফ থেকে বিভিন্ন রকম আর্জি জানানো হয় কেন্দ্রকে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্স চলাকালীনও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিষয় জানান।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দার সিং বলেন যেকোনো এলাকাকাকে বা জেলাকে সম্পূর্ণ ভাবে কোনো একটি নির্দিষ্ট জোনের আওতায় না ফেলে জেলাগুলোতে এলাকায় ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোকে জোন হিসেবে ভাগ করা হোক। তিনি দাবি করেন যে এই দায়িত্ব যেন রাজ্য সরকারের ওপরই থাকে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি কেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে এবং অন্যদিকে কোরোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।

চলবে লকডাউন, খোলা থাকবে এইসব দোকান, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে গ্রীন জোনের অন্তর্ভুক্ত কোনো অঞ্চলে সংক্রমন দেখা গেছে। আবার রেড জোনের মধ্যেও এমন অঞ্চল আছে যেখানে দেখা যাচ্ছে সংক্রমনের মাত্রা খুবই কম। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে দেশের সংক্রমনের ৮০ শতাংশ ঘটছে পুরণিগম এলাকায়। অন্যান্য রাজ্য যেমন কর্নাটক, দিল্লি, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীরাও এই কথা বলেন। বাংলার তরফ থেকেও এরকম দাবি রাখা হয়।

বিগত দু’টি কেন্দ্রীয় গাইডলাইনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব প্রীতি সুদান ক্লাসটার কনটেনমেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। কোরোনা সংক্রমন ঠেকাতে এই অঞ্চলগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কোনো কনটেনমেন্ট এলাকায় ২৮ দিনে নতুন সংক্রমন না ঘটলে তাকে সংমক্রমণ মুক্ত বলা হবে। এইসব অঞ্চলে কঠোর ভাবে লক ডাউন পালন করা হচ্ছে।

অন্যান্য অঞ্চলে বিভিন্ন পরিষেবা চালু করা হলেও এই অঞ্চলগুলোতে কোনরকম পরিষেবা চালু করা হয় নি। এমনকি খাবার ও বাজারও বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসছিলেন সাস্থ্য সচিবরা। তৃতীয় দফার লক ডাউনে প্রতি রাজ্যে বেশ কিছু এরকম অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেছিল কেন্দ্র। সেই দায়িত্বও এবার রাজ্য সরকার গুলোর ওপর দেওয়া হলো। তবে প্রতিটি কনটেনমেন্ট এলাকার আশেপাশে বাফার জোন তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। কোন অঞ্চল কনটেনমেন্ট অঞ্চলের অধীনে এবং কোনগুলি নয় তাও এবার সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্যগুলি।