পুষ্টিগুণে ভরপুর বিরিয়ানি, বিরিয়ানির এই গুণাগুণ জানলে রোজ খেতে মন চাইবে

অস্বাস্থ্যকর নয় বিরিয়ানি, রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিরিয়ানির উপকারিতা জেনে নিন

বিরিয়ানি (Biriyani) খেতে কার না মন চায়? বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান হোক বা স্বাদবদল করতে, বিরিয়ানি চাইই-চাই। তবে স্বাস্থ্যসচেতন যারা, বিরিয়ানি খান রয়েসয়ে। অনেকেই ভাবেন, অত্যধিক তেল-মশলা দিয়ে বানানো রাজকীয় আহার বিরিয়ানি খেলে শরীরের ক্ষতি। কিন্তু এমনটা মোটেও নয়। খাদ্যগুণের নিরিখে বিচার করলে একমাত্র বিরিয়ানিকেই সম্পূর্ণ এবং সুষম আহার বলা যেতে পারে।

বিরিয়ানি নিয়ে সাধারণের মনে অনেক মিথ রয়েছে। অনেকেই হয়ত জানেন না পুষ্টি দেওয়ার পাশাপাশি শরীরের অনেক সমস্যার নিঃশব্দ ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে এই বিরিয়ানি! চলুন আজ বরং জেনে নেওয়া যাক সকলের পছন্দের বিরিয়ানির গুনাগুন।

পুষ্টিগুণ : বিরিয়ানির পুষ্টিগুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় এই তিনটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বিরিয়ানিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। এক প্লেট বিরিয়ানি তাই একজনের সুষম আহার হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে থাকা কাজুবাদাম, মুরগি বা মাটন, ডিম প্রোটিন সরবরাহ করে। ভাতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট এবং তেল থেকে আসে চর্বি।

বার্ধক্য প্রতিরোধে বিরিয়ানি : বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়ক হয়ে উঠবে বিরিয়ানি। কারণ বিরিয়ানি রান্নাতে ব্যবহৃত মুরগির মাংসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম মুরগিতে মোট ২৭.৬ এমসিজি সেলেনিয়াম থাকতে পারে। সেলেনিয়ামের অ্যান্টি এজিং ক্ষমতা দারুন। আবার ইমিউন সিস্টেমের জন্যেও উপযোগী সেলেনিয়াম।

হজমশক্তি বর্ধক : অনেকেই আছেন যারা হজমের সমস্যায় অল্পবিস্তর ভুগে থাকেন। তারা সাধারনত বিরিয়ানির মতো খাবার এড়িয়ে চলেন। তবে তারা জানলে হয়তো অবাক হবেন এই বিরিয়ানিই আপনার হজম শক্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। নেপথ্যে কাজ করে বিরিয়ানির মশলা। হলুদ, আদা, জিরে দিয়ে বানানো বিরিয়ানির মশলা হজমে সাহায্যকারী এনজাইমকে সক্রিয় করে।

ভিটামিনে ভরপুর : মুরগির মধ্যে রয়েছে নিয়াসিন বা ভিটামিন বি ৩ । যা শরীরের ডিটক্সিফিকেশনে কাজ করে। শরীরকে বাড়তি শক্তি প্রদান করে। আবার ক্যান্সার, কোলেস্টেরল এবং স্নায়বিক সমস্যার মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার হাত থেকেও রক্ষা করে নিয়াসিন।

ডিটক্সিফিকেশন : ডিটক্সিফিকেশনের জন্য বিরিয়ানির থেকে ভালো আর কিছু হতেই পারে না। বিরিয়ানির মধ্যে যে মশলাগুলি ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে ভরপুরমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের জন্য সহায়ক। আদা, রসুন, হলুদ, কালো মরিচ, জিরার মধ্যে রয়েছে ডিটক্সিফিকেশন ক্ষমতা। এরমধ্যে থাকে জাফরান, যা শরীরের জন্য আরও উপযোগী।