টানটান উত্তেজনা ‘খড়কুটো’য়, সৌজন্যের কাছে আর ফিরতে চায়না গুনগুন, কি হবে সম্পর্কের পরিণতি

Khorkuto Serial

“সৌজন্য” এর উপর ভীষণ রেগে গিয়েছে “গুনগুন”! এতদিন “সৌজন্য” এর বকা-ঝকা, কঠিন ব্যবহার, কঠোর স্বভাবকে রীতিমতো উপেক্ষা করেই এসেছিল সে। “পটকা”র দলে ভিড়ে সারাদিন বাড়িতে হইচই করতো যে মেয়েটি, সেই আজ রীতিমতো গম্ভীর হয়ে চুপ করে গিয়েছে। পড়াশোনার প্রতি যার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না, সে আজ নিজেকে পড়াশোনার মধ্যেই ডুবিয়ে ফেলেছে। “গুনগুন” এর এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন মুখার্জি বাড়ির অন্য সদস্য তো দূরের কথা, “সৌজন্য”এরও এখন আর সহ্য হচ্ছে না!

তবে “গুনগুন” এর এই পরিবর্তনের কারণ কি শুধুই পরীক্ষার চাপ? “আদিল”কে নিয়ে গুনগুনকে এতদিন যে কঠিন ভাষায় কথা বলেছে “সৌজন্য”, “আদিল” আর “গুনগুন” এর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তার মনে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, তা “গুনগুন” এর হঠাৎ এই পরিবর্তনের জন্য কোনও অংশে কম দায়ী কি? তাই তো সে চরম অভিমানের বশে মুখার্জি বাড়ি ছেড়ে নিজের বাপের বাড়িতে এসে উঠেছে। এখন থেকে “ডঃ কৌশিক রায়” এর বাড়িতেই চলবে তার পড়াশোনা!

বিগত কয়েকদিন ধরেই সর্বদা হাসিখুশি, প্রাণোচ্ছল, শিশুসুলভ “গুনগুন”কে মিস করছে তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। এমনকি “সৌজন্য” নিজেও “গুনগুন” এর এই পরিবর্তন মন থেকে মানতে পারছে না। সে জানে “গুনগুন” তার প্রতি অভিমানবশতই হঠাৎ করে নিজের মধ্যে এই পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছে। তাইতো “গুনগুন” বাপের বাড়ি চলে আসার পরপরই “পটকা”, “ঋজু”, “মিষ্টি”, “রুপাঞ্জন” এর সঙ্গে সেও “গুনগুন” এর মান ভাঙাতে চলে এসেছে শ্বশুরবাড়ি।

তবে অভিমানী “গুনগুন” এর রাগ ভাঙ্গানো কি এতই সহজ? “সৌজন্য” নিজমুখে ক্ষমা চাইলেও সে ক্ষমা করতে নারাজ। “গুনগুন” এর এই পরিবর্তন দেখে তার বৌদি ভাই “মিষ্টি” তো কেঁদেই ফেললো! “মিষ্টি”র আক্ষেপ, “অনেক বড় হয়ে গেছ গুনগুন, আগের মতো করে আর কথাও বলো না। আগের মত ছুটে এসে জড়িয়েও ধরো না, এত বড় গুনগুনকে আমরা কোনদিনও দেখতে চাইনি”!

এদিকে “সৌজন্য” এর মনের অবস্থা তো আরও খারাপ। সে নিজের মুখে কিছু না বললেও তার মনের অবস্থাটা তার হাবেভাবেই বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে। “গুনগুন” এর সঙ্গে একান্তে সে বারবার তার মানভঞ্জনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া নিয়ে “সৌজন্য” এর সঙ্গে “গুনগুন” এর যে চ্যালেঞ্জ ছিল, সেই চ্যালেঞ্জপূরণ করতে উঠে-পড়ে লেগেছে “গুনগুন”।

 অনুতপ্ত “সৌজন্য” “গুনগুন”কে একান্তে বুঝিয়ে বলে, “তোমার মধ্যে যদি সে ক্ষমতা না থাকতো আমি হয়তো তোমাকে বলতামই না। আর সত্যিই তো সবাইকে লেখাপড়ায় ভালো হতে হবে এর তো কোন মানে নেই। সবাই অন্য কিছু তেও ভালো হতে পারে। আবার কেউ কিছুতেই ভালো না হতে পারে। মানুষ হিসেবে ভালো হলেই নাকি জীবনের অনেকটা ধাপ এগিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু তুমি তো পারবে, তাই বলা। তাই এক্সপেক্টেশন”।

আবার কথায় কথায় সৌজন্য বলে, “আমার পরিবারের মধ্যে তো তুমিও পড়ো”। শুনে গুনগুন যখন তাকে প্রশ্ন করে, “তুমি কি বলতে চাইছো তুমি আমাকে ভালোবাসো?”। তার জবাব অবশ্য এড়িয়ে যায় “সৌজন্য”! আপাতত হাসিখুশি “গুনগুন”কে যেমন মিস করছে মুখার্জি পরিবার, তেমনই “গুনগুন-সৌজন্য” এর অনস্ক্রীন দুষ্টু-মিষ্টি খুনসুটি মিস করছেন দর্শকও।

 পর্দায় চলছে মান-অভিমান পর্ব। “গুনগুন” এর অভিমান কি ভাঙতে পারবে “সৌজন্য”? পুরনো সেই “গুনগুন”কে আবারও কি ফিরে পাওয়া সম্ভব? নাকি মান-অভিমানের অতলেই তলিয়ে যাবে “গুনগুন-সৌজন্য” এর জুটি? কি মনে হয় আপনার?