রেশনে দুর্নীতি রুখতে রাজ্যের কড়া পদক্ষেপ, চালু হলো টোল-ফ্রি নম্বর

লকডাউন হোক অথবা অন্য সময় রাজ্যের রেশন ব্যবস্থা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের নানান অভিযোগ রয়েছে। আর এই অভিযোগ মূলত রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে। সঠিক পরিমাণে মাল না দেওয়া, কারচুপি করা অথবা হয়রানি করা এমন নানান অভিযোগ ওঠে রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে। আর বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতেও এই অভিযোগ উঠেছে বারবার। আর এই সকল অভিযোগের সুরাহা করতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিলো রাজ্য সরকার।

রেশন ব্যবস্থা নিয়ে দুর্নীতি রুখতে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গেল রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। তিনি এদিন জানান, লকডাউন উঠলেই অভিযুক্ত রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রেশন দোকানে দুর্নীতি ও অশান্তি রুখতে প্রতি চারটি রেশন দোকান পিছু একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। আপাতত প্রতিদিন রেশন দোকান খোলা থাকবে। এপ্রিল মাসের রেশনের মাল ইতিমধ্যেই রেশন ডিলারের কাছে পৌঁছে গেছে। আর মে মাসের মালও খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবে।

লকডাউনের মাঝেই বেশ কয়েকদিন ধরেই রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছে রাজ্যজুড়ে। যে কারণে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এদিন রেশন ডিলারদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন। আর সেই বৈঠক শেষে তিনি আরও জানান, এখনো পর্যন্ত ২৫ জন রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। লকডাউন উঠলেই এই সকল রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।প্রয়োজন পড়লে এই সকল রেশন ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলও করা হতে পারে।

আরও পড়ুন :- করোনা ভাইরাস কতদিন বেঁচে থাকে, গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য

তবে রেশন ডিলার সংগঠনের অভিযোগ, তৃণমূল নেতারা জেলায় জেলায় জোর করে রেশন ডিলারদের থেকে মাল নিয়ে নিচ্ছেন। আর সেই মাল ত্রাণের জন্য ব্যবহৃত হবে বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল নেতারা যে সামগ্রী নিয়ে নিচ্ছেন তার তালিকায় রয়েছে চাল ও ডাল। উদাহরণস্বরূপ তারা উত্তর দমদম পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীনগরের ঘটনাকে তুলে ধরেন। তারা জানান কোনো রকম দাম না দিয়েই ১০ বস্তা চাল তুলে আনেন তারা।

তবে এই ঘটনার উল্লেখ ছাড়া সেরকম কোনো উদাহরণ রেশন ডিলাররা দিতে পারেননি বলে সূত্রের খবর। এ সকল ঘটনা শোনার পর খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বিজ্ঞপ্তি পেশ করে জানান, রেশন সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য এবার দুটি টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হলো। নম্বর দুটি হলো ১৮০০৩৪৫৫৫০৫ ও ১৯৬৭।

আরও পড়ুন :- কতদিন থাকতে পারে লকডাউন জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “এতদ্বারা জনসাধারণকে জানানাে যাচ্ছে যে কেবলমাত্র খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর কর্তৃক স্বীকৃত বা সরবরাহকৃত ডিজিটাল রেশন কার্ড বা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন কর্তৃক বিলিকৃত ফুড কুপন প্রাপকরাই সংশ্লিষ্ট রেশন দোকানের মাধ্যমে বর্তমানে খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের নির্দেশানুযায়ী সরবরাহকৃত রেশন সামগ্রী নির্দিষ্ট স্কেল অনুযায়ী পাবেন।”