+৯২ নাম্বারের ফোন এলেই পুলিশকে জানান! এড়িয়ে গেলেই বিপদ

138

নিজস্ব প্রতিবেদন : ০০৯২, +৯২ এই নাম্বারের কোড দুটি হলো পাকিস্তানের আইএসডি কোড। আর এই সকল কোড যুক্ত নাম্বার থেকে ঘনঘন ফোন এসে ভারতীয়দের প্রতারণার মধ্যে ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে সিআইডি তরফ থেকে এবং জানানো হয়েছে এরকম নাম্বার থেকে ফোন এসে থাকলে সিআইডি অফিসের নির্দিষ্ট নাম্বারে ওই নাম্বার সহ জানান।

এই সকল নাম্বার থেকে ফোন করে মূলত টার্গেট করা হচ্ছে ভারতীয়দের এবং তাদেরকে নানান লটারিতে জেতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারিত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে লটারিতে জেতা পুরস্কার পেতে গেলে আপনাকে আগেই পাঠাতে হবে প্রসেসিং ফিস। সেই প্রসেসিং ফিস জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক একাউন্ট নাম্বারও দেওয়া হচ্ছে। আর প্রসেসিং ফিস জমা দেওয়ার পরেও পাওয়া যাচ্ছে না পুরস্কারের টাকা। এভাবেই নানান দিকে প্রতারিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে এগ্রা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

প্রথমে পুলিশ এ ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে অনুমান করে নাইজেরিয়ার প্রতারক এরা এমন কাজ করছেন। কিন্তু পরে নাম্বার হাতে আসার পর দেখা যায় আইএসডি কোড পাকিস্তানের, তারপর থেকেই এই প্রতারণার ঘটনার তদন্তের ভার যায় সিআইডির ওপর। তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পারে, প্রতারকদের দেওয়া অ্যাকাউন্ট নাম্বার গুলি হামলায় ভাড়া নেওয়া একাউন্ট। এই সকল একাউন্টে টাকা পড়ার সাথে সাথে হামলার মাধ্যমে পাকিস্তানের একাউন্টে তৎক্ষণাৎ পাঠিয়ে দেওয়া হতো। আর এই হামলার সাথে যুক্ত দুজনের নাম ও জানতে পারে সিআইডি, রাজেশ ঘোষ ও বিধান কীর্তনীয়া। তদন্তকারীদের হাতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য আছে যে এই দুই ব্যক্তি মাত্র কয়েক মাসে ৫৫ লক্ষ টাকার মতো হাওলার মাধ্যমে পাকিস্তানের পাচার করেছে। এই দুজন আবার সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত।

এই প্রতারণার বিষয়টি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, CID জারি করেছে একটি নোটিশ। বলা হয়েছে, “কোনও ব্যক্তি যদি এই ধরনের নম্বর থেকে ফোন পেয়ে থাকেন, যার শুরুতে +৯২ বা ০০৯২ বা অন্য কোনও ডিজিটের ফোন নাম্বার যা ৯২ দিয়ে শুরু, তাহলে CID-র হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন।” CID-র হেল্পলাইন নম্বর ১৪৪০৭। আর এর পাশাপাশি, দেওয়া হয়েছে আরও দু’টি ফোন নম্বর। নম্বর দুটি হল ০৩৩ ২৪৪৯ ০২৫৩ এবং ৭৯৮০১ ২৪৪৮৭।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এরকম লটারিতে টাকা জেতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। এমনকি পাকিস্তান থেকে ফোন আসছে সেই বিষয়টিও নতুন নয়। ভয়েস ওভার টেকনোলজি ব্যবহার করে কলকাতা থেকেই এমন বিভিন্ন দেশের আইএসডি কোড ব্যবহার করে গ্রাহকদের প্রতারণার মধ্যে ফেলাই যেতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে প্রতারকেরা যে সকল সার্ভার ব্যবহার করে থাকেন সেগুলো বেশিরভাগই বিদেশের হয়ে থাকে। বিদেশি ঐ সকল সার্ভার সংস্থাগুলি কোনভাবেই সার্ভারের ডিটেলস ভারতীয়দের হাতে দেয় না। আর এখানেই বিপত্তি। তবে তাদের মতে এসকল প্রতারণা থেকে বাঁচতে একমাত্র সচেতনতাই সব থেকে বড় উপায়।

Loading...