গরমকালে যে ৫টি খাবার শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে

গ্রীষ্মকাল শীতপ্রধান দেশ গুলোতে ভীষণভাবে কাঙ্ক্ষিত হলেও আমাদের দেশে বেশ কষ্টকর। শীতপ্রধান দেশগুলিতে শুধু গ্রীষ্মের সময়টুকুতেই ফসল হয় তাই তারা সারাবছর ধরে গ্রীষ্মকালের প্রতীক্ষা করে আর আমাদের বঙ্গের মানুষের গ্রীষ্মের দাবদাহের হাত থেকে বাঁচতে ত্রাহি অবস্থা হয়। টুপি, সানগ্লাস ,ছাতা ইত্যাদি একাধিক অস্ত্র সামনে রেখেও গ্রীষ্মকালকে কাবু করা যায় না। বাড়ির বাইরে বেরোলে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘাম হওয়ার ফলে ঘামের সাথে লবণ জল বের হয়ে ড্রিহাইড্রেশন হতে থাকে। শরীর ঠান্ডা রাখতে মানুষ এই সময় নানা রকম ঠান্ডা পানীয় খেয়ে থাকেন।

তাই মানুষ নুন চিনির জল বা গ্লুকন্ডি গরমকালে খান। এছাড়াও গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য আরও পাঁচ রকমের খাবার আছে, এগুলো খেলে গরম কালেও শরীর সুস্থ থাকবে, আর হজমজনিত কোন রকম সমস্যা হবে না। সেই পাঁচ রকমের খাবার কী কী তা জানাতেই আজকের প্রতিবেদনটি লেখা হলো।

১) তরমুজ

গরমকালে তরমুজ খেলে শরীর ঠান্ডা হবে মুহূর্তের মধ্যেই, মনের মধ্যে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করবেন। এছাড়া তরমুজের মধ্যে থাকা ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি কাজ করবার জন্য আপনার শরীরকে শক্তি দেবে ও ক্যান্সারের মত মারণ রোগ  প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। গরমকালে রোজ যদি খাদ্যতালিকায় অন্যান্য খাবারের সাথে কয়েক টুকরো করে তরমুজ রাখেন তাহলে তা একটা হেলদি ডায়েট হবে।

২) শসা

শসায় প্রচুর পরিমাণে জল থাকার ফলে গ্রীষ্মকালের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটি রেখে দিন। কোন কাজে বাইরে গেলে ব্যাগের মধ্যে একটি শসা নিয়ে রাখুন, কাজের ফাঁকে খেয়ে দেখবেন শরীর ও মন দুই‌ই শীতল হবে, নতুন করে কাজ করার উৎসাহ পাবেন। এছাড়া শসার মধ্যে ফসফরাস,জিংক, ক্যালসিয়ামের মতো বেশ কিছু খনিজ পদার্থ আছে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৩) পুদিনা পাতা

শসা তরমুজের মত পুদিনা পাতা ও শরীর ও মনকে ঠান্ডা করে।গরমকালে ঠান্ডা জলের সাথে পুদিনা পাতার গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে হতোদ্যম শরীরে কাজ করার জন্য নতুন শক্তি পাবেন। এছাড়া লেবুর শরবত এর সাথেও পুদিনা পাতার গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন।

৪) সবুজ শাক

ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে ও ফলিক এসিডে সমৃদ্ধ  সবুজ শাক গরমকালে অতি অবশ্যই খাওয়া উচিত। এতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে এবং খুব কম ক্যালরি থাকে যার ফলে এটি খেলে আপনার শরীর-মন ঠান্ডা থাকার পাশাপাশি আপনার ওজন ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে আর এটি একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট হবে আপনার জন্য।

৫) দই

গরমকালে বেশিরভাগ বাড়িতেই দই পাতা হয় বিশেষ করে টক দই, অনেকে আবার বাজার থেকেও কিনে খান। গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখতে দ‌ই এর চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিয়ের বাড়িতেও এই সময় দইয়ের একটা আলাদা আইটেম থাকে। আসলে দ‌ইয়ের মধ্যে থাকা  ৮৫ শতাংশ জল গরমের মধ্যে আমাদের মেজাজ ঠান্ডা রাখতে ও শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে তাই যে কোনো ভাবেই হোক গরমকালে অবশ্য‌ই দই খাওয়া উচিত।  টক দই খেতে যদি না পারেন না তাহলে দ‌ই  দিয়ে শরবত করে খেতে পারেন অথবা ভাতের সাথে মাখিয়েও খাওয়া যায়।