ভিডিও তে দেখুন উত্তরাখণ্ডের ভয়াবহ তুষারধসের সর্বশেষ পরিস্থিতি

উত্তরবঙ্গের যোশীমঠ হওয়া ভয়াবহ ধসের পর যেন আবার ফিরে এসেছে কেদারনাথের স্মৃতি। বন্যায় গোটা একটি গ্রাম ভেসে যায়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে ধৌলিগঙ্গা নদীতে (Dhauliganga River) ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। চামোলি জেলার (Chamoli District) তপোবন এলাকার রাইনি গ্রামে একটি বিদ্যুত্‍ প্রকল্পেরও কাজ চলছিল। প্রবল গতিবেগে জল ঢোকায় জলাধার ভেঙে আরো বেড়ে যায় জলস্তর।জানা যাচ্ছে কমপক্ষে ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ ১০০ থেকে ১৫০ জন। এই প্রসঙ্গে অবস্থা সামলানোর জন্য একসাথে কাজ করছে বিভিন্ন সংগঠন।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত জানান,”কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। তারা সমস্তরকম সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’তিনি আরও জানান, ‘নন্দপ্রয়াগের পর থেকে অলকানন্দার জলের স্রোত স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। এখন জল স্বাভাবিকের চেয়ে এক মিটারের বেশি উপর দিয়ে বইছে। তবে জলস্তর ধীরে ধীরে নামছে। মুখ্যসচিব, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব, পুলিশ আধিকারিক এবং আমার সব দল ডিজাস্টার কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।’

পাশাপাশি ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকেও জানানো হয়,”উত্তরাখণ্ড সরকার ও এনডিআরএফ-কে সাহায্যের জন্য চপার ও জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। হৃষিকেশের কাছে মিলিটারি স্টেশন থেকে উদ্ধারকার্য ও ত্রাণের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সেনার সদর দফতর থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।’

আইটিবিপি-র মুখপাত্র বিবেক পাণ্ডে জানিয়েছেন, “স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছেন ২০০-রও বেশি জওয়ান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছে একটি দল। মানুষকে সতর্ক করা এবং উদ্ধারকার্য চালানোর জন্য অন্য একটি দল জোশীমঠে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।’কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন, ‘এটি অত্যন্ত ভয়াবহ বিপর্যয়। এটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, উত্তরাখণ্ড সরকারকে সবরকমভাবে সাহায্য করা হবে। সহায়তার বিষয়ে কোনওরকম দ্বিধা থাকবে না।’ তার কথায়,  ‘রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) ইতিমধ্যেই জোশীমঠে গিয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) দেহরাদুন থেকে জোশীমঠে যাচ্ছে। আমরা দিল্লি থেকে দেহরাদুন হয়ে জোশীমঠে আরও তিন-চারটি দল পাঠাচ্ছি।’

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, ‘আমি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিংহ রাওয়াত, আইটিবিপি ও এনডিআরএফ-এর ডিজি-র সঙ্গে কথা বলেছি। সব আধিকারিককেই উদ্ধারকার্যের জন্য যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকার্যের জন্য গিয়েছে এনডিআরএফ-এর দল। দেবভূমির জন্য যথাসম্ভব সাহায্য করা হবে।’

“চামোলি জেলা থেকে একটি বিপর্যয়ের খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ধরণের গুজবে কান দেবেন না। সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিচ্ছে।”

তারইমধ্যে স্রোতের তোড়ে তপোবনের কাছে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল একটি সুড়ঙ্গের মুখ। সেখানে আটকে পড়েছিলেন ১৬ জন শ্রমিক। তাঁদের সবাইকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন আইটিবিপির জওয়ানরা। আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় আরও মানুষকে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। বায়ুসেনার সি১৩০ সুপার হারকিউলিস বিমানে করে ৬০ জনের এনডিআরএফের একটি দল গাজিয়াবাদের হিন্দোন বিমানবন্দর থেকে দেরাদুনে পৌঁছে গিয়েছে। সেখান থেকে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারীদের নিয়ে যাওয়ার তৈরি আছে বায়ুসেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার।