লোকের বাড়িতে বাসন মেজে এমএ পাশ! পরিচারিকা থেকে কলেজের অধ্যাপিকা শ্যামলী

পরিচারিকা থেকে কলেজের অধ্যাপিকা! জীবন যুদ্ধের অনন্য গল্পের সাক্ষী দিদি নাম্বার ওয়ান

0

জি বাংলার (Zee Bangla) দিদি নাম্বার ওয়ান (Didi Number One) প্রতিদিন বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লড়াকু মহিলাদের অনুপ্রেরণাদায়ক জীবন কাহিনী তুলে ধরে দর্শকের সামনে। জীবনের চরমতম কঠিন পরিস্থিতিতেও হার না মেনে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যাওয়ার গল্প শোনাতে সম্প্রতি দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে এসেছিলেন হাসনাবাদের শ্যামলী রায়। এই পর্বে শ্যামলীর জীবনের গল্পটাই প্রধানত দর্শকের চর্চার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।

শ্যামলী রায়ের জীবনের গল্পটা অনেকটা শেষ থেকে শুরুর গল্পের মতোই। একসময় সংসারের চরম অর্থকষ্টে পড়াশোনাটাও ঠিকভাবে করে উঠতে পারছিলেন না তিনি। তার ছেলেবেলাটা কেটেছে অত্যন্ত কষ্টে সৃষ্টে। তার বাবা ছিলেন জনমজুর। সাধারণ গৃহবধু মায়ের উপর বাবাকে অত্যাচার করতে দেখেই বড় হয়েছেন তিনি এবং তার ভাই বোনেরা। মাকে তিনি সেই ভয়ানক জীবন থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন।

একটু বড় হওয়ার পর শ্যামলী বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সংবাদ মাধ্যমের বিজ্ঞাপন দেখে নিজেই নিজের সম্বন্ধ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন পাত্রপক্ষের বাড়িতে। নিজের বিয়ের কথাবার্তা নিজেই বলেছেন। শ্যামলীর মতো মানুষদের তো নিজের লড়াইটা নিজেদেরই লড়তে হয়। কেউ পাশে না থাকলেও তাই নিজের হাত নিজে ধরে পথ চলতে পারেন তারা। তাইতো সাধারণ পরিচারিকা থেকে আজ কলকাতার এক নামী কলেজের অধ্যাপিকা হতে পেরেছেন শ্যামলী।

একসময় পেটের টানে আশেপাশের বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে কাজকর্ম করে দিতেন তিনি। এভাবেই স্কুল জীবন পার করেছেন। এরপর তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, মাকে দেখতে হবে। সঙ্গে তার পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাবেন তিনি। বিয়ের আগের সেই শর্ত মেনে নিলেও বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা শর্তের কথা বেমালুম চেপে যান। বিশেষত তার পড়াশোনার পথটা বিয়ের পর বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল।

এরই মাঝে শ্যামলীর সন্তানের জন্ম হয়। ছোট্ট সেই শিশুর শরীরে ধরা পড়ে কিডনির অসুখ। তারপরেই কার্যত শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তার পড়াশোনা একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেন। কিন্তু শ্যামলীদের রোখা এত সহজ নয়। অসুস্থ ছেলের দেখভাল করতে করতেই পড়াশোনা করতেন শ্যামলী। ছেলেকে স্কুলে দিয়ে তার পাশে থাকার নাম করে সেই সময়টা কলেজে গিয়ে নিজের ক্লাস করতেন।

এভাবেই ২০১৩ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করে ফেলেন শ্যামলী। ২০১৪ তেই নেট পাশ করেন তিনি। এরপর চাকরি পাওয়ার জন্য মোটে ৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাকে। ২০১৭ তে কলকাতার বাসন্তী দেবী কলেজে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসাবে যোগ দেন শ্যামলী রায়। তার এই অদম্য ইচ্ছা এবং মনের জোরকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সারা বাংলার মানুষ।