করোনা নিয়ে এখন যে প্রশ্নগুলি সবার মনে উঠছে রইলো তাদের উত্তর

322

এই সংকটময় মুহূর্তে একদিকে যেমন করোনা ভাইরাস দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে, অপরদিকে অতিমারি সম্পর্কিত ভুল তথ্যও কিন্তু ঝড়ের গতিতে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। তাই সাবধান। আতঙ্কে নয়, বরং সতর্ক থাকুন করোনা এবং করোনা সম্পর্কিত ভুল তথ্য গুলি থেকে। দেশের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যাটা ৪ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। যা বিশ্বের সব দেশের মধ্যে রেকর্ড। এই পরিস্থিতিতে নেট মাধ্যমের ভুল তথ্য পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন করে তুলতে পারে। তাই করোনা সম্পর্কিত বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা এবং প্রশ্নের জবাব দিলেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনার উপসর্গ কী বদলে গেছে? করোনার নতুন উপসর্গগুলি কী কী?

স্বাদ এবং গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা এই দফায় আগের বারের তুলনায় অনেক বেশি হ্রাস পাচ্ছে। আক্রান্তদের পেটের গন্ডগোল জনিত সমস্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। কনজাংটিভাইটিসের মতো চোখ লাল হওয়ার উপসর্গ করোনার নতুন স্ট্রেইনের নতুন উপসর্গ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

জ্বরের উপসর্গ থাকছে বড়জোর একদিন। তারপরেই জ্বর কমে যাচ্ছে। রোগীর শরীরে সর্দি কাশির উপসর্গ আগের বারের তুলনায় কম দেখা দিচ্ছে। গায়ে, হাত-পায়ে ব্যথা থাকছে‌।শ্বাসনালীতে ইনফেকশনজনিত উপসর্গ বেড়েছে। যে কারণে এবার আগের বারের তুলনায় শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ছে।

বাড়িতে করোনা রোগীর চিকিৎসা কিভাবে করবেন?

শ্বাসকষ্টের সমস্যা হলে “প্রোনিং” করা যেতে পারে। পেটে ভর দিয়ে বালিশের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে গভীর ভাবে নিঃশ্বাস নিলে শরীরে অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা ৭-৮ শতাংশ বেড়ে যাবে। পালস অক্সিমিটার মারফত শরীরে অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা পরীক্ষা করতে থাকুন। অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৪-এর নীচে নেমে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে।

কাপড়ের মাস্ক কী ভাইরাস আটকাতে পারেনা?

মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এন নাইন্টি ফাইভ মাস্ক সবথেকে বেশি কার্যকরী। এর পরে আসছে সার্জিক্যাল মাস্ক। ডাবল লেয়ার সার্জিক্যাল মাস্ক হলে সব থেকে ভালো। তবে মাস্কের উপর ফেশ শিল্ড পড়ে নিতে পারলেই অনেকটা নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে। কারণ মুখের উপর ফেশ শিল্ড থাকলে মুখে হাত দেওয়ার প্রবণতা কমবে। একইসঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কমবে।

করোনা আক্রান্ত হলে কতদিন আইসোলেশনে থাকতে হবে?

করোনা আক্রান্তদের ১০ দিন হাসপাতালে রাখা হয়। এরপর বাড়িতেও তাদের ১০দিন আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তি যদি মোট ২১ দিন পরিবারের সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন তাহলেই ভালো।

বাড়িতে করোনা সেরে গেলেও কী করোনা টেস্ট করতে হবে?

মাইল্ড বা মডারেট করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে সেরে যাওয়ার পর রিপিট টেস্টিংয়ের দরকার নেই। তবে রোগী যদি সিভিয়ারলি অ্যাফেক্টেড হোন কিংবা তার শরীরে ক্যান্সার, কিংবা এইচআইভির মতো মারণ রোগের বাসা থেকে থাকে তাহলে তাদের রেগুলার চেক আপ দরকার। ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট ড্রাগ যারা নিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রেও এই কথা প্রযোজ্য।

গর্ভবতী মেয়েরা কী করোনা ভ্যাকসিন নিতে পারবে?

গর্ভাবস্থায় টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে গর্ভবতী মাকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যারা এই পর্যন্ত টিকা নেয়নি তাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে। পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে দূরে থাকতে হবে এবং মুখে সর্বদা মাস্ক পড়ে থাকতে হবে ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।

ওজন বেশি হলে কী করোনায় মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি?

শরীরের ওজন বেশি থাকলে করোনার রিস্ক ফ্যাক্টর বেশি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস জনিত সমস্যা যদি আগে থেকেই শরীরে বাসা বেঁধে থাকে তাহলে করোনা আক্রান্ত হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এই ভাইরাসের আক্রমণে তাঁদের ফুসফুস যদি ২০ শতাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। ওবিস রোগীদের প্রোনিং পজ়িশনিংও ঠিক মতো করা যায় না। ফলে এঁদের মৃত্যুহার অনেক বেশি হয়।

কর্পূর কী শ্বাসকষ্ট কমাতে পারে?

এটি এক প্রকারের ভ্রান্ত ধারণা। শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে এই রকম ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার না করে বরং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায় ততই ভালো।

এই সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে কী কী করা যাবে না?

এই সংকটময় মুহূর্তে অনেকেই অযথা আতঙ্কিত হয়ে বিনা প্রয়োজনেই প্যারাসিটামল, ভিটামিন সি, অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে বাড়িতে মজুত করে রাখছেন। এতে সমাজের ক্ষতি হচ্ছে। কারণ যার প্রয়োজন নেই তিনি যদি এই আবশ্যকীয় সামগ্রী বাড়িতে মজুত রাখেন তাহলে মুমূর্ষু রোগীরা পরিষেবা পাবেন না। তাই এই প্রবণতা থেকে বিরত থাকুন।

মাস্ক পরুন, দূরত্ববিধি মেনে চলুন। আর অহেতুক ওষুধ বা করোনা রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে মজুত করে বাজারে কৃত্রিম অভাব তৈরি করবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও তথ্য পেলে তার সত্যতা যাচাই না করে শেয়ার করবেন না। এই আপৎকালীন অবস্থায় ভুল তথ্য কিন্তু মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

করোনা আক্রান্ত হলেই কী মৃত্যু নিশ্চিত?

করোনা মারাত্মক আকার ধারণ করলেও আশার আলো দেখাচ্ছে সুস্থতার হার। প্রায় ৯০-৯২ শতাংশ মানুষ কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়ে বাড়িতেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাই অযথা আতঙ্কিত হবেন না। ১লা মে থেকে দেশজুড়ে ১৮-৪৫ বছর বয়সীদের টিকা প্রদান করা হতে চলেছে। সময়মতো রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে নিন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবথেকে বড় অস্ত্র ভ্যাকসিন।