অর্থাভাবে অতীতের এই সুপারকার ড্রাইভার নাম লেখালেন পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে

কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুধুমাত্র ভারতের নয় বরং সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে দিয়েছে, ফলস্বরূপ অর্থের অভাবে রীতিমত মাথায় হাত বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের। অর্থের অনটনের ফলে জীবনধারণ ও অর্থ উপার্জনের বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিতে হচ্ছে অনেককেই, করতে হচ্ছে এমন কাজ যা হয়ত কোনোদিন স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি তারা।

জীবন ধারণের জন্য এমনই এক বড় পদক্ষেপ নিতে হলো অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মহিলা সুপারকার ড্রাইভার রিনি গ্রেসি কে। চূড়ান্ত অর্থাভাবে বাধ্য হয়ে রেসিং কেরিয়ারের ইতি টেনে শেষমেষ পর্ন তারকা হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করলেন তিনি।

মাত্র ২৫ বছরের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ফুলটাইম মহিলা সুপার কার ড্রাইভার হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই শিরোপা দিয়ে কি আর অর্থাভাব মেটানো যায়! বিগত কিছুদিন তার দিন কাটছিল চূড়ান্ত অর্থের অভাবে, সেই কারণেই পর্নের দুনিয়ায় প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি জানান এই দুনিয়ায় প্রবেশ করার পরেই অর্থাভাব সম্পূর্ণ মিটে যায় তার। সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে সেরা এটাই। তিনি আরও বলেন তার এই জগতে ঢোকার ক্ষেত্রে সবথেকে বেশী সমর্থন করেছেন তার বাবা এবং আজকে তার এই পেশায় তার বাবা গর্বিত। তিনি বলেন জীবনে এখনও অবধি করা অর্জন নয় বরং এখন তিনি কি করছেন সেটাই মূল বিষয়।

তার রেসিং কেরিয়ার ছিল দুর্দান্ত। পোর্শে ক্যারেরা কাপ অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে ২০১৩-১৪ সালে তিনি প্রথম রেসিং জগতে আসেন। তারপর  ২০১৫ সালে সুপার টু সিরিজে নাম নথিভুক্ত করেন। এরপরেও সুপারকারস ডানলপ সিরিজ, ড্রাগন রেসিংয়ের মতো আরও অনেক বড় মাপের প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করেন রিনি।

এখনও অবধি ১৭টি বড় বড় রেসে অংশগ্রহন করেছেন তিনি এবং ফাইনাল সুপার টু সিজনে প্রথম দশ কার রেসারের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে নিয়েছিলেন এই অসাধারণ মহিলা রেসার। ২০১৫ সালে সুইশ ড্রাইভার সিমোনা ডে সিলভেস্ট্রোর সঙ্গে একসাথে জুটিতে বাথার্স্ট ১০০০ সুপারকার রেসে দ্বাদশ স্থান দখল করেন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দেশে বিদেশে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

পরবর্তীকালে অর্থের অভাবে রেসিং কার রক্ষনাবেক্ষণ এর জায়গায় কাজ নিলেন তিনি। কিন্তু এতজন যিনি রেসিং কারের স্টিয়ারিং হাতে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিতেন তার পক্ষে গাড়ির রক্ষনাবেক্ষণ এর দায়িত্ব পালন অসম্ভব হয়ে উঠলো, ফলে সেই কাজেও ইতি।

তিনি জানিয়েছেন প্রথম যখন অর্থের অভাবে একটি পর্ণ ওয়েবসাইটে নিজের ছবি ও ভিডিও আপলোড করা শুরু করেন তখন প্রথম সপ্তাহেই আয় হয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার। তিনি আরও বলেন যে পেশা পরিবর্তনের ফলে ব্যাক্তি হিসেবে তার কোনো পরিবর্তন হয়নি তিনি আগেও যে রিনি ছিলেন এখনও তাই আছেন।

তবে এই পেশায় তার অর্থাভাব যে সম্পূর্ণ ঘুচে গেছে। তার ওয়েবসাইটে এখন সাত হাজারেরও বেশী সাবস্ক্রাইবার। এই পেশায় বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার রোজগার করছেন রিনি। মেয়ের পেশা নিয়ে সমস্যা নেই তাঁর বাবার-ও। রেনি জানিয়েছেন, তাঁর জন্য তাঁর বাবা গর্বিত। স্বপ্নের কফিনে শেষ পেরেক পড়ে যাওয়ার পরেও যে মেয়ে বাঁচার পথ খুঁজে পেয়েছেন, তাতে খুশি তিনি।