আপনার বাড়ির পাশে করোনা পেশেণ্ট থাকলে ভুলেও এই কাজগুলি করবেন না

মারণ ভাইরাস করোনা নিয়ে আতঙ্কে দিন গুনছেন সবাই। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের আতঙ্ক বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খবর উঠে আসছে যে করোনা আক্রান্ত হলেই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে মানুষকে। কাউকে পড়ার লোকের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে তো কাউকে বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের কজন সিস্টারকেও সম্প্রতি এরকমই পরিস্থিতির সন্মুখীন হতে হয়েছিল। ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পর বাড়িওয়ালা নির্দেশ দেন যে সেই দিনই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে তাকে। একইরকম পরিস্থিতির সন্মুখীন হতে হয় এসএসকেএম হাসপাতালের এক জুনিয়র ডাক্তারকেও।

করোনা সংক্রমণের আতঙ্কের পরিবেশে এ যেন নতুন আতঙ্ক। এই নতুন আতঙ্কে রীতিমত ভয়ে আছেন সকলেই। আপনার পড়ার কারোর শরীরে যদি করোনা আক্রান্ত হয় তাহলে কি কি নিয়ম মেনে চলবেন? কি করবেন? করোনা সংক্রমন নিশ্চিত হওয়ার আগেই সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি হলেও আতঙ্কিত হয়ে উঠছেন প্রতিবেশীরা। সেক্ষেত্রে আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে তিনি সত্যিকারের করোনা ভাইরাসের শিকার হয়েছেন নাকি সাধারণ মৌসুমী জ্বর। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশীর সাহায্য করুন। প্রয়োজনে আত্মবুলেন্স ডেকে দিন।

কোনও বাড়িতে করোনা সংক্রমন ঘটলে বাড়ির সকলকে বাড়িতে থাকতে বলুন। নিত্যদিনের বাজার বা ওষুধের দরকারে যদি তারা বাইরে যেতে বাধ্য হন সেক্ষেত্রে সাহায্য করুন আপনি। ফোনের মাধ্যমে প্রয়োজন জেনে নিয়ে বাড়ির দরজার বাইরে রেখে দিন। অবশ্যই এই সাহায্যের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্বের নীতি মানতে হবে। সাধারণ অনুরোধে কাজ না হলে স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য নিন। অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবেশীদের দরজা পাশাপাশি থাকে। সেক্ষেত্রে দরজার হাতল ধরার পর নিজের হাতকে সাবান বা অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার দ্বারা জীবাণু মুক্ত করে নিন। হাতল টিও নিয়ম করে সাবান জল দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। বাড়িতে থাকলেও বার বার হাত পরিষ্কার রাখুন

ফ্ল্যাট বাড়ির ক্ষেত্রে সিঁড়ি, লিফট ইত্যাদি সাধারন স্থানগুলি জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন। তার সাথেই সংক্রমিত ব্যাক্তি বাড়ির অন্য সদস্যের সংক্রমিত করেছেন কিনা খবর নিন। প্রয়োজনে প্রশাসনিক সাহায্য চান। করোনা ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়, এই কথা সত্যি। তাই সতর্কতা মেনে পাশাপাশি বা সামনাসামনি জানলা থাকলে তা বন্ধ রাখবেন। করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধে জয় লাভের জন্য মানসিক জোর প্রয়োজন। তাই রোগীকে বা তার পরিবারকে মানসিক ভাবে দুর্বল হতে দেবেননা। তাদের বোঝাবেন যে আপনি তাদের পাশে আছেন। এক ঘরে করে দেবেন না।

মনোবিদ অমিতাভ মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, যে মানুষটি সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স না মেনে ভিড় করে বাজার করছেন, তারাই পাড়ায় কারোর হাঁচি কাশির উপসর্গ দেখা গেলে তাকে এক ঘরে করে দিচ্ছেন। মানুষের এরকম মনোভাবকে মানসিক অসুখ বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। পাশের বাড়ির কেউ অসুস্থ হলে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছেন অথবা দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে।

তাই সবার সেলফ কাউন্সিলিং প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঘটা মানেই মৃত্যু না।  যেসব স্বাস্থ্যকর্মী বা সাফাই কর্মীরা রোগীদের সাথে সংস্পর্শে আছেন, তারা যখন সুরক্ষিত আছেন তখন পরিচ্ছন্নতা ও সাবধানতা অবলম্বন করলে আপনিও সুরক্ষিত থাকবেন।

আরও পড়ুন : সর্দি-কাশি, জ্বর নয়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেখা দিচ্ছে নতুন ৩টি উপসর্গ

হাইপার টেনশন বা অতিরিক্ত ভাবনাকে কন্ট্রোল করতে হবে। রোগটা হলে মারা যাবেন, পরিবারের সবাই মারা যাবেন, মরার পর আপনজনেরা বডি দেখতে পাবেন না ইত্যাদি ভাবনা করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিই হ্রাস পাবে। তাই যতটা সম্ভব এইসকল নেতিবাচক ভাবনা এড়িয়ে চলুন।চিন্তায় নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতির সাথে লড়াই করতে হবে। প্রতিবেশী যদি সংক্রমিত হন তবে তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার দুর্দিনে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন তারাই।

আরও পড়ুন : শরীরে এই ১০ রোগ থাকলে করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি