শকুনি মামা সম্পর্কে কয়েকটি অজানা তথ্য যা সবার জানা দরকার

শকুনি মামা সম্পর্কে কয়েকটি অজানা তথ্য যা সবার জানা দরকার

গান্ধারীর ভাই শকুনি। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি গান্ধার দেশের রাজকুমার। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের জন্য অনেকাংশে দায়ি এই শকুনী। দূর্যোধনের মাথা খেয়ে কীভাবে ভাইয়ে-ভাইয়ে শকুনি যুদ্ধ বাধালেন সেই নিয়েই আলোচনা করি আমরা। কিন্তু  ব্যক্তি শকুনির জীবন নিয়ে খুব বেশী কথা আমরা বলি না।

গান্ধারী ছিলেন বিষ্ণু ভক্ত। আর শকুনি শিবের অনুগামী। সম্ভবত শকুনি সবার কাছে ঘৃণার পাত্র কিন্তু ইতিহাসের অপরিহার্য অংশ তিনি। শুধুমাত্র পাশার চাল চেলে একটা বড় সাম্রাজ্যকে নিজের এক্তিয়ারে আনা মুখের কথা নয়। এখানে আমরা শকুনির জীবনের অজানা দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি।

উলুকা এবং বীরকাসুরা নামে শকুনির দুই পুত্র। পিতাকে অহিরিয়ে নিয়ে যেতে হস্তিনাপুরে এসেছিলেন উলুকা। কিন্তু পিতামহ ভীষ্মকে হত্যা এবং কুরু বংশ ধ্বংস না করা পর্যন্ত গান্ধারে ফিরে যেতে অস্বীকার করেন শকুনি

শকুনির পিতার নাম সুবলা। তাঁরও ১০০ সন্তান। অর্থাৎ শকুনির ৯৯ ভাই এবং ১ বোন। ভাইদের মধ্যে শকুনি সবার ছোট এবং সবচেয়ে বুদ্ধিমান।

পাণ্ডবদের প্রতি শকুনির কোনও রাগ ছিল না। পাণ্ডবরা শকুনির কোনও ক্ষতি করেনি। তাঁর যত রাগ সবই ভিষ্মের ওপর। একজন অন্ধ মানুষকে তাঁর বোন বিয়ে করবে এটা শকুনি ভাবতেও পারেননি। বিবাহবাসর থেকে গান্ধারীকে তুলে নিয়ে আসতেই তাঁর সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে ভিষ্মের ওপর। তখনই শকুনি প্রতিজ্ঞা করলেন, কুরু বংশ ধ্বংস করবেন।

পাশার দান ঘোষণা মাত্র দুটো ঘুটি চালতে হত। সঙ্গে ঘুঁটির গায়ের বিন্দু গুনে দেখাতে হত ঘোষণা অনুযায়ী চাল পড়েছে। এটাই শকুনি করতেন অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে। রীতিমতো কৌশলের সঙ্গে। এভাবেই যুধিষ্ঠিরকে হারিয়েছেন শকুনি।

মনে করা হয় পিতার দেহের হাড় দিয়ে শকুনি পাশা দুটি তৈরি করেছিলেন। তাই পাশা শকুনির কথা শুনত। যদিও ব্যাপারটা তা নয়। শকুনির পাশা সাধারণ হাতির দাঁত থেকে তৈরি।

আরও পড়ুন :- কুকুরদের প্রকাশ্যে যৌনসঙ্গম করার পেছনে রয়েছে পৌরানিক কাহিনী

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ১৮ তম দিনে সহদেব তলোয়ার যুদ্ধে শকুনিকে পরাস্ত করেন। সহদেবের কাছে এটা ছিল দ্রৌপদীকে অপমানের প্রতিশোধ।

সব জিনিসেরি ভালো এবং খারাপ দুটো দিক আছে। শকুনিরও ভালো দিক আছে। শকুনির সেই ইতিবাচক দিকের প্রতি সম্মান জানায় কেরালার কোল্লাম জেলার কুওরার সম্প্রদায়। শ্রদ্ধার চিহ্ন হিসাবে পবিথেরেশ্বরম গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শকুনির মন্দির।

আরও পড়ুন :- রাবণের মৃত্যুর পর মন্দোদরীর কী হয়েছিল জানেন ?

যখন সম্পর্কে আবেগ থাকবে না, ভাই ভাইয়ের সঙ্গে লড়বে – সেটা দ্বাপর যুগের ইঙ্গিত করে। যদি আমরা মনে করি পান্ডব ও কৌরবের বিরোধের ফলে কুরুক্ষেত্র হয়েছিল তবে শকুনি নিঃসন্দেহে অনুঘটকের কাজ করেছেন।