জ্বর করোনার প্রাথমিক উপসর্গ নয়, ভুল ধারণায় চিকিত্‍সাহীন উপসর্গহীনরা, বলছে গবেষণা

এতদিন মনে করা হচ্ছিল শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গ জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি। ফলে কারোর শরীরে তাপমাত্রার হেরফের হলে তবেই তাকে করোনা পরীক্ষার কথা বলা হচ্ছিল। যার ফলে যাদের শরীরে জ্বর নেই বা এককথায় যাদের উপসর্গ নেই কিন্তু শরীরে সংক্রমণ ঘটেছে তাদের চেনা যাচ্ছিলনা।

তবে এবার দিল্লির এইমস এর ডাক্তাররা এক নতুন গবেষণা করে যার রিপোর্টটা ইন্ডিয়ান জার্নাল অব মেডিক্যাল রিসার্চে প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণা ভিত্তিতে ডাক্তারদের মত যতদিন সংক্রমণ ছড়িয়ে চলেছে ততদিন উপসর্গ ভিত্তি করে নয় বরং সার্বিক ভাবে করোনা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

এর সাথেই তিনি বলেন যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে প্রাথমিক উপসর্গ জ্বর নয়। অনেকের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, কিডনি ফেইলিওর, হার্ট অ্যাটাক,স্বাদ ও গন্ধ এর অনুভূতি লোপ পাওয়া, এমনকি চোখেও সংক্রমণ ধরা পড়ছে। ডাক্তারদের মতে সময় এগোনোর সাথে সাথে উপসর্গের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে ভাইরাস।

কীভাবে এই গবেষণা করা হয়েছে?

আইসিএমআর এর তত্ত্বাবধানে ভর্তি ১৪৪ জন করোনা রোগীদের ওপর এই গবেষণাটি করা হয়। ২৩ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এই সম্পূর্ণ গবেষণা প্রক্রিয়াতে ডাইরেক্টর ছিলেন ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া। মোট ৩০ জন ডাক্তার এই গবেষণা করেন।

গবেষণায কি দেখা গেল?

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মাত্র ১৭% রোগীর শরীরে জ্বর ছিল এবং ৪৪% রোগীর শরীরে কোনও উপসর্গ ছিলনা। বাকি রোগীদের মধ্যে অনেকের শরীরেই আগের থেকে কোনও ক্রনিক অসুখ বিশেষ করে ডায়বেটিস ছিল। ডাক্তারদের মতে এরকম রোগীর সংখ্যা ছিল ২৩ জন।

ডাক্তাররা দেখেন ১৪৪ জন রোগীদের মধ্যে ৯৩% ছিলেন চল্লিশ ঊর্ধ্ব পুরুষ যাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও ছিলেন ১০জন। ৭৭% রোগী অন্যান্য আক্রান্ত রাজ্য থেকে দিল্লিতে এসেছেন। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ থেকে সংক্রমিত হওয়া রোগীদের সংখ্যাই বেশি (৮৮%)। মোট রোগীর সংখ্যার বেশিরভাগের শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ অনেক বেশী থাকলেও নেই উপসর্গ। তবে তাদের কিছু জনকে পরে এমারজেন্সি হিসেবে অক্সিজেন দিতে হয়।

ডাক্তাররা কি বলছেন?

ডাক্তারদের দাবি জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন এরকম করোনা রোগীর সংখ্যা খুবই কম। অনেকের দেখা যাচ্ছে আচমকা হার্ট অ্যাটাক বা কিডনি ফেইলিওর বা স্ট্রোক হয়ে যাচ্ছে এবং তার পর তার শরীরে ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে। এর মূল কারণ যে আগের থেকে কোনও উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় টেস্টও করা হয়নি।

আরও পড়ুন :- বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে করোনা, সংক্রমণের থেকে বাঁচতে ৬টি টিপস

ডাক্তারদের কথায় প্রথমদিকে করোনা মোকাবিলার জন্য যে গাইডলাইন প্রকাশ করা হয় তা বর্তমানে বদলে গেছে। এর মূল কারণ ভাইরাসের জিনগত পার্থক্য এবং যার ফলে সংক্রমনের ক্ষেত্রে উপসর্গের পরিবর্তন। ডাক্তারদের মতে ভাইরাস তার সংক্রমণের পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটাচ্ছে এবং উপসর্গ হীন রোগীদের চেনা এখন খুব প্রয়োজন এবং সেই কারণেই প্রয়োজন সার্বিক করোনা ভাইরাস পরীক্ষা।