পশ্চিমবঙ্গের যেসব স্থানে দোল উৎসবের বিশেষ মাহাত্ম্য আছে

বসন্তৎসবে রঙের খেলায় মাতলো বাঙালি। পাশাপাশি পুরো দেশে পালন করা হল হোলি। কোথাও রং তো কোথায় রাধা কৃষ্ণের বিশেষ পুজোর মধ্যে দিয়ে পালন করা হয় এই দিন। পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন স্থানে এই উৎসব বিশেষ ভাবে পালন করা হয়। জেনে নিন বাংলার কোন কোন স্থানের বিশেষত্ব এই উৎসব।

শান্তিনিকেতন (Santiniketan)

বাংলায় দোল উৎসবের কথা বললে সবার আগে বাঙালির মনে পড়ে শান্তিনিকেতনের কথা। দুর দুর থেকে মানুষ এখানে আসেন রং খেলতে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এইখানে এই উৎসবের প্রচলন করেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ উৎসব। আগের দিন রাতে ও বসন্ত উৎসবের দিন সকালে বৈতালিকের পর নাচে গানে মেতে ওঠেন সকলে। উৎসবের সময় মহিলারা হলুদ শাড়ি এবং পুরুষরা সাদা পাঞ্জাবি পড়ে রং খেলতে একত্রিত হয়।

নবদ্বীপ (Nabadwip)

এই বিশেষ তিথি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথিও বটে। সর্বত্রই এইদিন শ্রীচৈতন্যদেব এবং রাধাকৃষ্ণের পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বৈষ্ণবরা মনে করেন, এই বিশেষ দিনে রাধারানী এবং গোপিকাদের সাথে রং খেলায় মেতে ওঠেন শ্যাম। এখানেও পুজো এবং রঙের উৎসব দুইই আয়োজিত হয়। অনেকে মনে করেন এই দিদি নবদ্বীপের দোল খেলা পুণ্যার্জনের সমান। এই কারণেই এই অঞ্চলে অনেক টুরিস্ট ভিড় জমান।

মায়াপুর (Mayapur)

পৃথিবীর বৃহত্তম মন্দিরে খুবই বড় করে দোল উৎসব পালন করা হয়। উৎসবের এক মাস আগের থেকে চলে উৎসবের প্রস্তুতি। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নয়, বিদেশীরাও এই উৎসবে যোগ দেন।

নিমদিহি (Nimdih)

নিমদিহি অবস্থিত পুরুলিয়া জেলায়। দোলের সময় বিশেষ লোক উৎসব পালন করা হয় এ অঞ্চলে। শুধু একটি বিশেষ দিন নয় বরং, বসন্তকেই উদযাপন করা হয় এই অঞ্চলে।চলে নানান রকম স্থানীয় নাচ গানের উৎসব।

মদন মোহন মন্দির (Madan Mohan Temple)

বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে অবস্থিত এই মন্দিরটি মূলত তৈরি করা হয়েছিল শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধাকে উৎসর্গ করে। সেই কারণেই খুব ধুমধাম করে দোল উৎসব পালন হয় এখানে। শুধু দোল উপলক্ষেই নয়,মন্দিরের স্থাপত্য এবং ভাস্কর্য যে কোনও সময় আপনাকে মুগ্ধ করবে।