ইভিএম কারচুপি করা সম্ভব? শুনে নিন বিশেষজ্ঞদের মুখে

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের সাত দফায় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে গত ১৯ শে মে। এখন শুধু অপেক্ষা ২৩ শে মে’ গণনার দিন পর্যন্ত। আর ফলাফল ঘোষণা মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।

তবে ভোট গণনার আগে বিরোধী দলগুলি ইভিএমে কারচুপি নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলেছেন। শুধু গণনার আগে বললে ভুল হবে, ভোটগ্রহণের বহু আগে থেকেই ইভিএমে কারচুপি নিয়ে সরব বিরোধীরা। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ইভিএমে কারচুপি করে বিজেপি ভোটে জিতে সরকার তৈরি করতে চাইছে। তাই বারবার বিরোধীরা এই ইভিএম নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে।

ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব?

ইভিএমের কারচুপি নিয়ে সর্বভারতীয় একটি সংবাদপত্রে সিনিয়র ইলেক্টোরাল অফিসার নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। রণবীর সিং নামে ওই ইলেক্টোরাল অফিসার জানিয়েছেন, “ইভিএম একেবারে স্বচ্ছ ব্যবস্থা, এখানে কারচুপির কোন সুযোগ থাকে না। ইভিএম ম্যানিপুলেশন অথবা হ্যাকিং করাও সম্ভব নয়। কারণ ইভিএমের সাথে বহির্বিশ্বের কোনরকম যোগাযোগ থাকে না। এমনকি ইভিএমের সাথে ব্লুটুথ, ইন্টারনেট অথবা ওয়াইফাই-এর মত কোন সংযোগ থাকে না। যার অর্থ কোনোভাবেই বাইরে থেকে ইভিএমকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, “ইভিএমের মধ্যে থাকে ওয়ান টাইম প্রোগ্রামেবেল চিপ। ইসিআইএল ও ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড ইভিএম তৈরি করে থাকে। শুধু তাই নয় ইভিএম তৈরির সময় দেশের সর্বোচ্চ প্রটোকোল সুরক্ষা থাকে, যাতে করে গোলমাল পাকানোর কোন সুযোগই থাকে না।”

এছাড়াও ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পর ইভিএমকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে স্ট্রং রুমে রাখা হয়। সেই নিরাপত্তা বলয় লংঘন করেও কেউ যদি ইভিএমে কারচুপি করতে চায়, তখন ইভিএম তার প্রযুক্তি অনুযায়ী খুব জোরে কাঁপতে থাকে। আর তারপরেই ইভিএম এর সুইচ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ওই সিনিয়র ইলেক্টোরাল অফিসার রণবীর সিং। তাই তিনি দাবি করেছেন কোনভাবেই ইভিএম হ্যাকিং অথবা কারচুপি করা সম্ভব নয়।

যদিও এর পরেও বিরোধীরা ইভিএম বদলানোর প্রসঙ্গ তুলে নিয়ে এসেছেন এবং বারবার তারা কমিশন এবং শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। বিরোধীরা ইভিএমের জালিয়াতি রুখতে ১০০% ভিভিপ্যাট গণনার দাবিও তুলেছে। যদিও সেই দাবি দেশের শীর্ষ আদালত মঞ্জুর করেনি। কমিশনের নিয়ম অনুসারে লটারির মাধ্যমে বেছে নেওয়া পাঁচটি বুথের ভিভিপ্যাট গণনা হবে।