দ্রুত হারে গলছে বরফ, বাড়ছে পৃথিবীর জলস্তর, নাসার গবেষণায় ভ`য়ঙ্কর তথ্য

নাসার নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় গবেষকরা জানিয়েছে, এই হারে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গললে ২১০০ সালে পৃথিবীর সবক’টি সমুদ্রের জলস্তর ১৫ ইঞ্চিরও (৩৮ সেন্টিমিটার) বেশি উঠে আসবে। যা অত্যধিক ভয়ঙ্কর।

সময় যত এগোচ্ছে পৃথিবীর পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। দিনে দিনে উষ্ণতা বাড়ছে পৃথিবীর।  খুব দ্রুত হারে বরফ গলে যাচ্ছে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী ৮০ বছরে খুব ভয়ংকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে পৃথিবীকে। সমুদ্রের জলস্তর প্রায় দেড় ফুট উঠে আসবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে এরকম চলতে থাকলে ২১০০ সালের আগেই পৃথিবীর সবক’টি সমুদ্রের জলস্তর ১৫ ইঞ্চিরও (৩৮ সেন্টিমিটার) বেশি উঠে আসবে। যা এ পর্যন্ত সব পূর্বাভাসের চেয়েই অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।

এই সপ্তাহে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের নেতৃত্বে ‘আইস শিট মডেল ইন্টার-কমপ্যারিজন প্রজেক্ট (আইএসএমআইপি৬)’-এর তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘ক্রায়োস্ফিয়ার’-এর বিশেষ ইস্যুতে এই পূর্বাভাস প্রকাশিত হয়েছে।

গত বছর ‘ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)’-এর রিপোর্টে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এখানে জানানো হয়েছিল অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার জন্য এই শতাব্দীতে সমুদ্রের জলস্তর উঠে আসবে ১.২ থেকে ১১ ইঞ্চি (৩ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার)। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলার জন্য ২০০০ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রগুলির জলস্তর উঠে আসবে ৩.১ থেকে ১০.৬ ইঞ্চি (৮ থেকে ২৭ সেন্টিমিটার)।

গবেষকদের মতে সবথেকে বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রীনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ার হার। এত দ্রুত উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গলছে গ্রীনল্যান্ডের বরফ যার ফলে গ্রীনল্যান্ড লাগোয়া হিমাবহ গুলি খুব দ্রুত গলে গিয়ে সমুদ্রের জল স্তর কে বাড়িয়ে তুলছে।যা সত্যি খুব চিন্তার বিষয়। আন্টার্টিকার থেকে গ্রীনল্যান্ড এর বিষয়টি গবেষকদের আরো অনেক বেশি ভাবিয়ে তুলেছে।

এই প্রকল্পের মূল গবেষক বাফালো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোফি নোউইকি বলেছেন, ‘’৮০ কি ১০০ বছর পর সমুদ্রের জলস্তর কতটা উঠে আসবে তা নির্ভর করবে খুব পুরু বিশাল বিশাল বরফের চাঙড়গুলি কী হারে গলে যাবে তার উপর। আর বরফের সেই সুবিশাল চাঙড়গুলির প্রায় সবটাই আছে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায়। এই বরফের চাঙড়গুলির গলে যাওয়া নির্ভর করছে উষ্ণায়নের উপর।’’

বিষয়টি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সেই আভাস দিতে গিয়ে গবেষকরা বলেছেন যদি গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমন যদি কম না করা যায় তাহলে ২১০০ সালের মধ্যেই গ্রীনল্যান্ডের বরফ গলে সমুদ্রের জল উঠে আসতে পারে প্রায় ৯ সেন্টিমিটার। আর যদি ভাগ্যবশত গ্রীনহাউসের নির্গমন কিছুটা কম করা যায় তাহলে তা হতে পারে ৩ সেন্টিমিটার মত। কিন্তু দুটোতেই বিপদের পূর্বাভাস দিয়েছেন গবেষকরা।