নিজেদের টাকায় ৭ বছর ধরে দুর্গাপুরে স্কুল চালাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা

পুলিশ ঘুষ নিচ্ছেন, পুলিশ অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, পুলিশ বললে প্রথমেই মাথায় আসে দূর্নীতির কথা। পুলিশ অসুহিষ্ণ! এই চেনা চেহারা বদলে দিয়েছেন আসানসোল ও দূর্গাপুরের ওয়ারিয়া ফাঁড়ির পুলিশ। সাত বছর ধরে নিজেদের মাইনে থেকে টাকা দিয়ে চালাচ্ছেন একটি স্কুল। আর সেই স্কুলেই পড়তে আসে ১১৫ জন ক্ষুদে। ওয়ারিয়া, কাদারোড, বাদ্যকর পাড়া, মেইনগেট ও গ্যামন কলোনির বেশিরভাগ বাচ্চারা।

একদিন খেয়ে পরের দিন খাবার জুটবে কী না তার চিন্তা যাদের হয় স্কুলে বাচ্চাদের পড়ানো তাদের কাছে বিলাসিতার মধ্যে পড়ে। এই ভাবে বড়ো হওয়া বাচ্চারা ছোট থেকেই জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অবৈধ কাজে। কিন্তু তা হতে দেননি স্থানীয় পুলিশ কমিশনারেট। তিনি বুঝতে পারেন বাচ্চাদের পড়াশোনা শেখানো দরকার। বিনা খরচে বাচ্চাদের পড়ানোর দ্বায়িত্ব নেন এবং তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা।

থানা লাগোয়া তিনটি ঘরে স্কুল শুরু করেন ওয়ারিয়া থানার পুলিশ। স্কুলের নাম দেন ‘দৃষ্টি’। পুলিশের এই উদ্যোগে খুশি হন কলোনির বাসিন্দারা। বাসিন্দারা বেশিরভাগই দিনমজুর তাই সকাল বেলা বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে চলে যান কাজে আবার স্কুল শেষ হওয়ার পর নিয়ে যান বাচ্চাদের। স্কুলে বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য বেশ কয়েকজন শিক্ষিকা রয়েছেন। পুলিশেরাই মিলিতভাবে শিক্ষিকার মাইনে ও স্কুলের যাবতীয় খরচা চালান। দূর্গাপুর পুরসভা বাচ্চাদের মিড ডে মিলের দ্বায়িত্ব নিয়েছেন। শিক্ষিকারা যত্নের সাথে বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন। বছর শেষে বাচ্চারা স্কুল থেকে সংশাপত্র পাচ্ছে।

‘দৃষ্টি’ স্কুলে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত বাচ্চাদের পড়ানো হয়। তারপর তারা সার্টিফিকেট নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি হয়। চোর,ডাকাত যাবতীয় অভিযোগ সামলে পুলিশ অফিসাররা বাচ্চাদের দেখাশোনা করেন কখনও বা পড়া জিজ্ঞেস করেন। বাচ্চারাও স্কুলে আসতে পেরে বেশ খুশি। পুলিশের আধিকারিক বলেন, স্কুলে বাচ্চাদের জন্য তারাই নির্দিষ্ট পোশাক দেন। ইংরিজি ও বাংলা দুটি মাধ্যমেই বাচ্চাদের পড়ানো হয়।

শিক্ষা সকল বাচ্চার মৌলিক অধিকার, কিন্তু সমাজই তাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। সকল শিশু কে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এগিয়ে যেতে হবে সমাজকেই, এই কথা উপলব্ধি করতে পেরেছেন ওয়ারিয়া ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীরা। কুর্নিশ জানায় তাদের।