কীভাবে দেখবেন সূর্যগ্রহণ? কি করবেন আর কি করবেন না

dos-and-donts-in-solar-eclipse

আজ এই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণের(Solar Eclipse) সাক্ষী থাকবে ভারত। এই গ্রহণ টি হবে বলয়গ্রাস। সূর্যকে ঢেকে দেবে চাঁদ। পৃথিবী থেকে সূর্যকে অনেকটা আগুনের আংটি র মতো দেখাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই সূর্যগ্রহণ অতি দীর্ঘ হতে চলেছে, যা গত ১০০ বছরে এই প্রথম। অতএব বিগত ১০০ বছরে এত দীর্ঘ গ্রহণ কোনোদিন দেখা যায়নি।

সূর্যগ্রহণ আসলে কি?

আমরা জানি যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। ঠিক তেমনই চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এইভাবে প্রদক্ষিন করতে করতে যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় প্রবেশ করে, তখন গ্রহণ হয়। চাঁদ পৃথিবীর প্রদক্ষিন করতে করতে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে, তখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসার সময় চাঁদের দ্বারা বাধা পায়। ফলে কিছুক্ষনের জন্য পৃথিবীতে চাঁদের ছায়া পড়ে, এই সময়কেই বলা হয় সূর্যগ্রহণ। এই সময় পৃথিবী থেকে সূর্যকে দেখলে মনে হয় চাঁদ যেন সূর্যকে গ্রাস করেছে। বিজ্ঞানীদের মতে এই সূর্যগ্রহণ প্রধানত তিন প্রকারের হয়। আংশিক সূর্যগ্রহণ, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ও বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ।

আংশিক সূর্যগ্রহণ :- সূর্যগ্রহণের সময়ে চাঁদের দ্বারা সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে বাধা পেলেও তা সম্পূর্ণ ভাবে বাধা পায় না। কেবল সূর্যের একটা অংশের আলো বাধা পায়। সূর্যের একটা অংশ কেবল চাঁদের দ্বারা ঢাকা পরে। বাকি অংশ দৃশ্যমান হয়। এই গ্রহণের সময় পৃথিবী থেকে সূর্যকে আধ খাওয়া ফলের মতো দেখতে লাগে।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ :- প্রদক্ষিন চলাকালীন যখন চাঁদ পৃথিবীর ও সূর্যের মাঝখানে সম্পূর্ণভাবে একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সম্ভব। অর্থাৎ সূর্যের আলো চাঁদের দ্বারা সম্পূর্ণভাবে বাধা পায়। যার ফলে কিছুক্ষনের জন্য সূর্য পুরোপুরি ভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ছায়া গ্রাস করে গোটা পৃথিবীকে, একে বলা হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। পূর্ণ সূর্যগ্রহণে সূর্য পুরোপুরি ভাবে ঢাকা পড়ে যায় বলে সৌরমুকুট দেখা যায়।

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ :- প্রদক্ষিন চলাকালীন সময়ে চাঁদের কৌণিক ব্যাস সূর্যের চেয়ে ছোট হলে এই ধরনের সূর্যগ্রহণ তখন দেখা যায়। অর্থাৎ যখন সূর্যের বহিঃসীমা অঞ্চল বাদে বাকি অংশই চাঁদের দ্বারা বাধা পায়। পৃথিবী থেকে সূর্যের কেবল বহিঃ অংশ দেখতে পাওয়া যায়। একটি বলয়ের মতো দেখতে লাগে, তাই এই গ্রহণ কে বলয়গ্রাস বলা হয়। পৃথিবী থেকে সূর্যকে দেখলে একটি আগুনের আংটির মতো দেখায়। এই ধরনের সূর্যগ্রহণ সবথেকে কম দেখা যায়। পৃথিবী ও সূর্যের সঙ্গে চাঁদের একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় থাকলে এই গ্রহণ দেখা যায়।

আরও পড়ুন :- অনলাইনে সূর্যগ্রহণ কীভাবে দেখবেন, রইলো ঠিকানা ও সময়সূচি

এই সূর্যগ্রহণ ভারতে দেখা যাবে সকাল ১০টা নাগাদ রাজস্থানের ঘারসানা থেকে এবং সকাল ১১:৪৯ মিনিট থেকে শুরু হয়ে সকাল ১১:৫০ মিনিট পর্যন্ত পুরো ১ মিনিট সময় ধরে চলবে এই গ্রহণ। সেই সময়ে সম্পূর্ণভাবে চাঁদের আড়ালে থাকবে সূর্য। এত দীর্ঘ গ্রহণ এর আগে কখনো দেখিনি পৃথিবী। সাধারণত এতক্ষন ধরে গ্রহণ হয় না, কেবল কয়েক সেকেন্ডের জন্য পৃথিবীতে চাঁদের ছায়া পড়ে। গত ১০০ বছরে এই ধরনের গ্রহণ প্রথমবার দেখা যাবে।

গ্রহণে কি কি করবেন আর কি কি করবেন না?

সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া এক্স-রে ফিল্ম, নেগেটিভ, ভিডিও এবং অডিও ক্যাসেটের ফিতা, সানগ্লাস, ঘোলা বা রঙিন কাচেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি আটকে না। তাই কোনোক্রমেই এগুলো দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয়।

আরও পড়ুন :- ২১ শে জুন বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণে কোন রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে

তবে গ্রহণের চশমার পরিবর্তের সাধারণ কোনো সানগ্লাস ব্যবহার করলে তা যে আপনাকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে এমন ধারণা করাটা ভুল। কারণ সাধারণ সানগ্লাস পরে সূর্যের দিকে তাকালেও তা চোখ নষ্টের কারণ হতে পারে। তাই অবশ্যই বিশেষ ওই সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

আরও পড়ুন :- গ্রহণে প্রচলিত কুসংস্কার ও তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

সূর্যগ্রহণ দেখার অন্য আরেকটি নিরাপদ উপায় হচ্ছে পিনহোল প্রোজেক্টর। দুইটি কাগজ গিয়ে এই প্রোজেক্টর বানিয়ে নিতে পারেন আপনি। এই প্রোজেক্টর বানাতে হলে প্রথমে একটি কাগজের মাঝে ছিদ্র করতে হবে। এরপর সেটি ধরতে হবে দ্বিতীয় কাগজটির উপরে। মূলত দ্বিতীয় কাগজটিতেই সূর্য দেখবেন আপনি। প্রথমটির ছিদ্র দিয়ে গ্রহণ দেখা যাবে দ্বিতীয় কাগজটির উপরে। ছবিটি বড় আকারে দেখতে চাইলে ছিদ্রযুক্ত কাগজটি সরিয়ে নিতে হবে স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহৃত কাগজ থেকে দূরে।